Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:০৮
চিড়িয়াখানাটি যেন মুরগির খামার!
উল্লেখযোগ্য কোনো পশু-পাখি নেই, অধিকাংশ খাঁচা খালি
কুমিল্লা প্রতিনিধি
চিড়িয়াখানাটি যেন মুরগির খামার!
প্রদর্শনীর জন্য রাখা টার্কি —বাংলাদেশ প্রতিদিন
bd-pratidin

সেই সিংহ যুবরাজের মৃত্যুর প্রায় এক বছর পরও পাল্টেনি কুমিল্লা চিড়িয়াখানার চিত্র। উল্টো জেলার অন্যতম এ বিনোদন কেন্দ্রটি দিন দিন মৃত বাড়িতে পরিণত হচ্ছে। পশু-পাখি না থাকায় ঠিকাদার টার্কি মোরগ এনে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছেন। অনেকে তাই কুমিল্লা চিড়িয়াখানাকে মুরগি খামার বলে মন্তব্য করছেন। যুবরাজ মারা গেছে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর। খাবার না দেওয়ায় সিংহটি মারা যায় বলে ফেসবুকে দাবি করে অনেকে। জেলা পরিষদ জানায়, বার্ধক্যের কারণে যুবরাজের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে গত ১ নভেম্বর বাংলাদেশ প্রতিদিনে ‘কুমিল্লা চিড়িয়াখানার রুগ্ন সিংহের ছবি নিয়ে ফেসবুকে তোলপাড়’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সেই রিপোর্টে তুলে ধরা হয় চিড়িয়াখানার বেহাল অবস্থা। এরপর চিড়িয়াখানার উন্নয়নে নানা ঘোষণা দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

জানা যায়, কুমিল্লা চিড়িয়াখানায় নেই উল্লেখযোগ্য কোনো পশু-পাখি। যেকটি আছে তাও মুমূর্ষু প্রায়। অধিকাংশ খাঁচা শূন্য। সব মিলিয়ে ১০টি বানর, তিনটি বন মোরগ, দুটি মেছো বাঘ, হনুমান একটি, তিতি মোরগ দুটি, ঘোড়া দুটি, কালাম পাখি দুটি ও দুটি অজগর সাপ রয়েছে। এ অবস্থায় একটি খাঁচায় রাখা হয়েছে ২৬টি টার্কি মোরগ। মাঝে মধ্যে তা ছেড়ে দেওয়া হয়। এ কারণে অনেক দর্শনার্থী কুমিল্লা চিড়িয়াখানাকে মজা করে বলে মুরগির খামার। তাছাড়া একটু বৃষ্টি হলে চিড়িয়াখানাসহ ডুবে যায় এর প্রবেশ পথ। ফলে বর্ষা মৌসুমে দর্শনার্থী আরও কমে যায়।

দাউদকান্দি উপজেলা থেকে চিড়িয়াখানায় সপরিবারে ঘুরতে আসা ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম বলেন, ‘শিশুরা একটি খারাপ অভিজ্ঞতা নিয়ে বাড়ি ফিরছে। খালি খাঁচাকে তারা চিড়িয়াখানা বলে ভাববে। এখানে ২০ টাকা টিকিট কেটে কয়েকটি টার্কি মোরগ আর খাঁচা ছাড়া দেখার কিছু নেই।’ চিড়িয়াখানার লিজ গ্রহীতা আনিসুর রহমান বলেন, ‘তিন বছরের জন্য ২৫ লাখ টাকায় লিজ নিয়েছি। আয়কর আর আনুষাঙ্গিক মিলিয়ে তা ৩৫ লাখ হবে। এখানে তেমন কোনো প্রাণী নেই, তাই দর্শনার্থী আসছে না। লিজের টাকা কিভাবে তুলবো জানি না।’ কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার জানান—জেলা পরিষদের আয় কম। তবু দেয়াল সংস্কারসহ কিছু কাজ করেছি। কিছু প্রাণী আনার পরিকল্পনা রয়েছে। বড় বরাদ্দ পেলে ব্যাপক সংস্কার করা হবে।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow