Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২৩:৩৯
সদরপুরে বেহাল বিএনপি দল ছাড়ছে নেতা-কর্মীরা
কামরুজ্জামান সোহেল, ফরিদপুর
সদরপুরে বেহাল বিএনপি দল ছাড়ছে নেতা-কর্মীরা

ফরিদপুর-৪ আসনের ভোটের রাজনীতিতে বিএনপির জন্য ফ্যাক্টর হিসাবে কাজ করে সদরপুর উপজেলা। এ আসনের অন্য দুটি উপজেলা হলো ভাঙ্গা ও চরভদ্রাসন। সব সময়ই সদরপুর-চরভদ্রাসন বিএনপির ভোটব্যাংক হিসাবে পরিচিত। বিগত নির্বাচনগুলোতে সদরপুর-চরভদ্রাসন থেকে বিএনপি প্রার্থীরা বিপুল ভোট পেয়েছে। এক সময়ে বিএনপির শক্ত ঘাঁটি সদরপুরে হানা দিয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী। বিএনপির বেশির ভাগ নেতাকর্মী হাত মিলিয়েছেন স্বতন্ত্র এমপির সঙ্গে। দলে গ্রুপিং, সম্মেলন না হওয়া ও নেতৃত্ব সংকটে নেতা-কর্মীরা অন্য দলে যোগ দিচ্ছেন এমনটাই মনে করেন স্থানীয় বিএনপির প্রবীণ নেতারা। জানা যায়, দীর্ঘদিন সদরপুর উপজেলা বিএনপি দুই ধারায় বিভক্ত ছিল। একদিকে সাবেক এমপি চৌধুরী আকমাল ইবনে ইউসুফ অন্যদিকে জেলা বিএনপি সভাপতি জহিরুল হক শাহাজাদা মিয়া। এ দুজনের পাল্টা কমিটি সদরপুর বিএনপিকে বিভক্ত করে রেখেছিল। এমপি থাকাকালে আকমাল ইউসুফ গ্রুপের নেতা-কর্মীরা একচ্ছত্র প্রভাব বজায় রাখে। ফলে কোণঠাসা ছিল শাহাজাদা গ্রুপ। এক সময় আকমাল ইউসুফ অসুস্থতার কারণে এলাকায় না থাকা এবং রাজনীতি থেকে দূরে থাকায় এ গ্রুপটি অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ে। ২০১৫ সালে সম্মেলনের মাধ্যমে শাহজাদা গ্রুপ গোলাম রব্বানীকে সভাপতি ও কাজী বদরুজ্জামানকে সম্পাদক করে ১০৮ সদস্যের কমিটি গঠন করে। এরপরই পাল্টা কমিটি ঘোষণা করে আকমাল ইউসুফ গ্রুপ। এ কমিটিতে মোখলেসুর রহমানকে সভাপতি ও মামুনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। পাল্টাপাল্টি কমিটি নিয়ে উত্তাপ দেখা দেয় সদরপুর বিএনপিতে। তখন দলীয় সব অনুষ্ঠান আলাদাভাবে পালন করা হতো। সাম্প্রতি আকমাল ইউসুফ গ্রুপটি নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ে। আর শাহাজাদা গ্রুপের কার্যক্রম নেই বললেই চলে। দলে গ্রুপিং এবং নতুন কমিটি না থাকায় নেতৃত্ব সংকটের কারণে বিএনপির বেশিরভাগ নেতা-কর্মী এখন ভিন্ন ধারার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। অনেকেই হাত মিলিয়েছেন বর্তমান এমপি মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরীর সঙ্গে। আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছেন কেউ কেউ। এখনও বিএনপির সঙ্গে যারা যুক্ত আছেন তারা হতাশায় ভুগছেন। বিএনপির প্রবীণ এক নেতা জানান, সদরপুরে বিএনপির সঠিক নেতৃত্ব না থাকার কারণে নেতা-কর্মীরা দল ছাড়ছেন। তাদের ধরে রাখার জন্য যে নেতৃত্ব দরকার তা এখানে নেই। তাছাড়া দলীয় অনুষ্ঠান না থাকায় হতাশ কর্মীরা। এখানে সবশেষ দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীও পালন করা হয়নি। সদরপুর বিএনপি সভাপতি গোলাম রব্বানী বলেন, ‘সরকারের মামলা-হামলার কারণে নেতা-কর্মীরা মাঠে নামতে পারছেন না। এমনকি ঘরের মধ্যেও অনুষ্ঠান করতে দেওয়া হচ্ছে না। সদরপুরে বিএনপি এখনো শক্তিশালী অবস্থানে আছে’।

এই পাতার আরো খবর
up-arrow