Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ টা প্রিন্ট ভার্সন আপলোড : ৫ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২৩:২৫
অচল মিল সচল দেখিয়ে চাল বিক্রি সরকারি গুদামে
হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রকৃত মিলাররা
জহুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়ায় বন্ধ বিভিন্ন রাইস মিল সচল দেখিয়ে এ সব মিলের নামে সরকারি গুদামে চাল বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিবছর এভাবে সরকারের চাল ক্রয় কর্মসূচির আওতায় চাল দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে কিছু অসাধু মিলমালিক ও জেলা খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রকৃত মিলমালিকরা।

জানা যায়, কুষ্টিয়া খাদ্য অফিসের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী জেলার বন্ধ ও পরিত্যক্ত মিলকে সচল দেখিয়ে বছরের পর বছর এ কারবার চালিয়ে আসছেন। এ কাজে সহায়তা করছে কিছু মিল মালিক। জানা যায়, কুষ্টিয়া শহরের বারখাদা এলাকায় অবস্থিত বারখাদা রাইস মিল ও হরিশংকরপুর এলাকার বিসমিল্লাহ রাইস মিলটি কয়েক বছর ধরে বন্ধ। বিসমিল্লাহ রাইস মিলের জায়গায় এখন পেরেক তৈরির কারখানা করা হয়েছে। সেখানে ভুসি মালও বিক্রি হয়। এ দুটি মিলের লাইসেন্স ব্যবহার করে সরকারি গুদামে বিক্রি করা হচ্ছে চাল। একটি সূত্র জানায়, চলতি আমন মৌসুমে ইতিমধ্যে ওই সব বন্ধ মিলের লাইসেন্সের অনুকূলে চাল বরাদ্দ পেয়েছে। প্রতিটি মিলের নামে ৬ থেকে ১৬ টন পর্যন্ত চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এ মাসেই চাল সরবরাহ করা হবে। শুধু বন্ধ ও পরিত্যক্ত মিলই নয়, একটি মিলও নেই এমন ব্যবসায়ীরা ১০-১৫টি মিলের অনুকূলে চাল সরবরাহ করে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য করছেন বলেও অভিযোগ আছে। এ সব নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে প্রকৃত মিলারদের মধ্যে। অভিযোগ রয়েছে, জেলা খাদ্য অফিসের এ সব কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে একই অফিসে কর্মরত থেকে নানা অনিয়ম করে এলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। নওগাঁর ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি তার জানা নেই। সরকারি চাকরি করে চাল সরবরাহ করার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

up-arrow