Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ৬ জুন, ২০১৬ ১৫:৪৮
পাবনায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আহত অর্ধ শতাধিক, ভাংচুর
পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আহত অর্ধ শতাধিক, ভাংচুর

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন পরবর্তী পৃথক দুই সহিংসতায় পাবনা সদর উপজেলার হিমায়েতপুর ও দোগাছি ইউনিয়নে সংঘর্ষ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় অর্ধ শতাধিক ব্যাক্তি গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়।

আহতদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে ভর্তি করা হয়েছে।  

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল হাসান জানান, পাবনা সদরের হেমায়েতপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডে পরাজিত ২ মেম্বার প্রার্থী বকুল সরদার ও আফজাল প্রামাণিকের সমর্থকদের মধ্যে রবিবার থেকে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। আজ সোমবার সকালে আবারো তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। দুই পক্ষের মধ্যে গুলিবিদ্ধসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক লোক আহত হয়। উভয় পক্ষের প্রায় ৫০টি বাড়ি ঘর ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।  

পরাজিত মেম্বর প্রার্থী বকুল সরদার বলেন, রবিবার রাতে আমার ভাইয়ের বাড়িতে আফজাল মেম্বার ভোট না দেওয়ার অভিযোগে হামলা চালায়। হামলার সময় আমরা বাধা দিতে গেলে তারা আমাদের লোকজনের বাড়ি ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করার চেষ্টা করে। বাধা দিলেই সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ ও হেমায়েতপুর ইউনিয়নের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন ভাইয়ের কথা মতো চুপ ছিলাম। সোমবার সকালে ওরা আবারো আমাদের লোকজনের উপর হামলা করে এবং ব্যাপকভাবে গুলি করে। এতে আমাদের প্রায় গুলিবিদ্ধসহ প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছে। আহতদের পাবনা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে ভর্তি করা হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।  

চর ঘোষপুর গ্রামের জরিনা বেগম বলেন, আফজালের লোকজন শুধু বাড়ি ঘরেই হামলা চালায় নাই। নারীদের উপরও হামলা করেছে। এ সময় তিনি নিজের কান দেখিয়ে বলেন, কানের দুল টান দিয়ে ছিড়ে নিয়ে গেছে ওরা। কান কেটে রক্ত ঝড়তে দেখা যায় ওই নারীর।  

অপর পরাজিত প্রার্থী আফজাল প্রামাণিকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।  

অপরদিকে গত রাতে দোগাছি ইউনিয়নে পরাজিত দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী আলতাব হোসেন ও শামসুল আলমের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া বাড়ি ঘর ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। সেখানেও প্রায় ১৫ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে আশংকাজনক অবস্থায় ২ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।  

এ ব্যাপারে দোগাছি ইউনিয়নের পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী শামসুল আলম বলেন, রবিবার রাতে আমার কলুনিয়া গ্রামে নিজ ধান চাতালে নির্বাচন পরবর্তী বৈঠক করছিলাম, এ সময় অতর্কিত ভাবে পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আলতাফ হোনেন ও তার ক্যাডার বাহিনী আমাদের উপর হামলা চালিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এ সময় আমাদের ১৫ জন আহত হয়। সন্ত্রাসীরা অমারসহ বেশ কয়েকটি বাড়ি ঘর ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। আহত দুইজনের অবস্থা আশংকাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।  

কলুনিয়া গ্রামের সালমা খাতুন অভিযোগ করে বলেন, এই গ্রামের শামসুল চেয়ারম্যানকে ভোট না দিয়ে আলতাফ ভাইকে ভোট দেওয়ার কারণে শামসুলের লোকজন আমাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এ সময় ৫/৬ টি বাড়ির টিভি ফ্রিজসহ ঘরবাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর চালায়।  

এ ব্যাপারে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল হাসান আরো বলেন, ঘটনাস্থল থেকে উভয় পক্ষের ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অপরদিকে দোগাছি ইউনিয়নে ২ চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরাও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। তবে সেখানেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে বলে জানান তিনি। উভয় ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন প্রকার লিখিত অভিযোগ পাইনি। পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।  

 

বিডি-প্রতিদিন/ ০৬ জুন, ২০১৬/ আফরোজ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow