Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ৬ জুন, ২০১৬ ১৬:৫০
পাবনায় আওয়ামী লীগের ব্যানার লাগিয়ে জায়গা দখল
পাবনা প্রতিনিধি:
পাবনায় আওয়ামী লীগের ব্যানার লাগিয়ে জায়গা দখল

পাবনার আর-আতাইকুলা ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কোরবান আলী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মাধপুর বাজারে জোর পূর্বক সরকারী জায়গা দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শপথ গ্রহণের আগেই চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে তার অনুসারীরা ওই জায়গায় অস্থায়ীভাবে গড়ে ওঠা চা দোকানসহ প্রায় ২০টি দোকান উচ্ছেদ করে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের কার্যালয়ের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ এই জায়গা নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছেন তারা।

জানা যায়, পাবনার মাধপুর বাজারে পাবনা-ঢাকা মহাসড়কের পার্শ্ববর্তী সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গায় ছোট ছোট অস্থায়ী দোকানঘর তৈরী করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন স্থানীয় দরিদ্র মানুষ। এখানে বেশ কয়টি চায়ের দোকানসহ মুদী ও খাবারের দোকান ছিল। কিন্তু প্রশাসনের কোন ধরণের নির্দেশনা ছাড়াই গত ৪ জুন রঞ্জু, কুদ্দুস ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আরশেদ ভান্ডারীর নেতৃত্বে তাদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়।

সরেজমিনে মাধপুর বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অনেকটা জায়গা জুড়ে সাটানো হয়েছে বিশাল ব্যানার। তাতে লেখা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠন, আতাইকুলা ইউনিয়ন শাখা। গাছে খুঁটি বেধে ঝুলানো হয়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় এমপি সামসুল হক টুকুর ছবি।  স্থানীয় কয়েকজন নেতার উপস্থিতে তারাহুরো করে সরানো হচ্ছে দোকানপাট ও স্থাপনা। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নির্বাক চেয়ে দেখছেন উর্পাজনের একমাত্র সম্বলের ধংসযজ্ঞ কর্মকাণ্ড। 

উচ্ছেদ হওয়া দোকানি মহম্মদ আলী বলেন বলেন, 'দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে এখানে আমি চায়ের দোকান করে আসছিলাম সরকারি জায়গা বলে কাউকে কোনদিন ভাড়া দেয়া লাগে নি। এখন শুনতিছি আওয়মী লীগের পার্টি অফিস হবি। এখন আমরা কোনে যাবো, কি করে খাবো।'

একদিনের মধ্যে এসব দোকান পাট সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ভেঙে দিয়ে জোড় পূর্বক তাদেরকে উচ্ছেদ করে জায়গাটিতে সীমানা প্রাচীর দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ দোকানিরা তাৎক্ষনিক থানা পুলিশের কাছে সাহায্য চাইলে পুলিশ নির্বাচন কাজে ব্যস্ত থাকার কথা বলে তাদেরকে কোন প্রকারের সাহায্য করেনি। ফলে দীর্ঘদিনের এই ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ হওয়ার কারনে এখন তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। 

ওই বাজারের ঔষুধ দোকানদার সাইফুল ইসলাম বলেন, 'আমি ৩০ বছর পূর্ব থেকে এই জায়গাতে দোকান দিয়ে ব্যবসা করছি। তবে আমরা জানতাম জায়গাটি সরকারের খাস জায়গা, কোনদিন কেউ ভাড়াও নেয়নি। অথচ হঠাৎ করে আমার দোকান ভেঙ্গে তুলে নিয়ে যেতে বলে রঞ্জু, আরশেদ ও কুদ্দুস। তারা আমাদের বলেছে এখানে আওয়ামী লীগের অফিস হবে। আমরাও তো আওয়ামী লীগে ভোট দিছি, এখন আওয়ামী লীগ নেতারাই আমাদের উচ্ছেদ করলো। আমরা কোথায় যাব।'
 
এ সময় ফার্নিচার ব্যবসায়ী সুলায়মান মিয়া, চা দোকানদার আব্দুল গফুর, মুদি দোকানদার ছলিম হোসেন, সাইদুল, আয়নালসহ ১২/১৩ জন দোকানদার একই অভিযোগ করেন। তারা বলেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আরশেদ ভান্ডারী, মশিউর রহমান রঞ্জু ও কুদ্দুস মিলে এই জায়গাটি দখলের পায়তারা করে। তারাই আমাদের উচ্ছেদ করেছে। 

সোমবার সকালে কোরবান আলী চেয়ারম্যানের শ্যালক আজাদ হোসেন জায়গাগুলো ভাগ বাটোয়ারা করেন। এতে রঞ্জু ৪টি, কুদ্দুস ২টি, আরশেদ ভান্ডারী ও তার ভাইয়ের নামে ২টি, আর আতাইকুলা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের পাচু মেম্বর ১টি করে দোকান বরাদ্দ পেয়েছেন।
 
এ ব্যাপারে আতাইকুলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আরশেদ আলী ভান্ডারী বলেন, এখানে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের একটি অফিসের জায়গা দেয়া হবে তাই আমি এখানে এসেছি। তবে এই জায়গাটি নিয়ে রঞ্জু ও কুদ্দুস কাজ করছে বিস্তারিত ঐ দুই জনই বলতে পারবেন বলেও জানান তিনি। তবে সরকারী জায়গাতে অফিস করার বিষয়টি নিয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেননি। এছাড়া দোকানের জায়গা নেয়ার বিষয়টি তিনি অস্বিকার করেছেন।
   
এ বিষয়ে মশিউর রহমান রঞ্জু ঐ জায়গাগুলোকে নিজের দাবী করে বলেন, 'যারা এখানে দোকান করে ব্যবসা করছিল তারাই অবৈধভাবে ছিল। আমার জায়গা আমি তাদের তুলে দিছি।' তবে তার জায়গায় আওয়ামী লীগ অফিস কেন জানতে চাইলে সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। তবে সব বিষয়টি কোরবান চেয়ারম্যানের কথা মতো করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।  

এ ব্যাপারে আতাইকুলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কোরবান আলীর শ্যালক আজাদ হোসেন জায়গা বন্টন করার বিষয়টি অস্বিকার করেন।  এদিকে এসব ব্যাপারে আতাইকুলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কোরবান আলীর সাথে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার মুঠোফোনে ছেলে মিরাজুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, বাবার নাম ভাঙ্গিয়ে কারা কি করছে আমাদের জানা নেই। তবে বাবা নির্বাচনের পর থেকেই অসুস্থ রয়েছেন বলেও দাবী করেন তিনি।

এ বিষয়ে পাবনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোফাজ্জল হায়দার বলেন, অবৈধ দখলদার ছিল সেটা জানি। তবে কারা তাদের উচ্ছেদের মাধ্যমে নতুন করে দখল করছেন জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের কথা বলেন তিনি।   

 

বিডি প্রতিদিনি/০৬ জুন ২০১৬/হিমেল-০৬




আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow