Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ৯ জুন, ২০১৬ ১৭:০৩
বিক্ষুব্ধ ঢেউয়ের তাণ্ডবে কুয়াকাটার সৈকত বিপর্যস্থ
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
বিক্ষুব্ধ ঢেউয়ের তাণ্ডবে কুয়াকাটার সৈকত বিপর্যস্থ

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সৈকতের বেহাল দশা হয়ে পরেছে। অস্বাভাবিক জোয়ার ও উত্তাল সাগরের তাণ্ডবের ধ্বংস হওয়া বিভিন্ন প্রাচীরের ভগ্নাংশ গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। সমুদ্রের জোয়ারে ভেঁসে আসা ময়লা, আবর্জনায় সৈকতের পরিবেশ শ্রীহীন হয়ে পরেছে। এদিকে বিক্ষুব্ধ ঢেউয়ের তাণ্ডবে সৈকতের বালু সরে গিয়ে তীরবর্তী সবুজ বনাঞ্চলের ব্যপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া জিরো পয়েন্ট থেকে সৈকতে নামতে গিয়ে আগত পর্যটকরা প্রতিদিন কম বেশী দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এজন্য পর্যটকরা বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির দ্বায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ করেছেন।  

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর পর অমাবস্যার প্রভাবে গত কয়েক দিনের বিক্ষুদ্ধ সাগরের ঢেউয়ের তাণ্ডবে সৈকতের জিরো পয়েন্টের পূর্ব দিকে অসংখ্য গাছের গোড়া থেকে বালু সরে গিয়ে কাত হয়ে রয়েছে। এছাড়া সৈকত লাগোয়া কুয়াকাটার জাতীয় উদ্যানের ঝাউ গাছগুলো ঢেউয়ের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অব্যাহত ভাঙ্গনের ফলে ব্যবসায়িরা প্রতিবছরই বিপণি বিতানগুলো সরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে। কয়েক বছর ধরেই চলছে সৈকতে ভাঙ্গনের খেলা। এতে সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে সৈকতের পরিধি। সৈকত রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলে পর্যটকসহ স্থানীয়রা দাবি করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতের একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মনোলোভা দৃশ্য পৃথিবীতে বিরল। এ কারণে শীত, গ্রীষ্ম ও বর্ষা সব ঋতুতেই স্থানটি দেশী-বিদেশি পর্যটকদের পদভারে মুখরিত থাকে। কিন্তু বিক্ষুব্ধ ঢেউয়ের তাণ্ডবে কুয়াকাটার মূল রক্ষাবাঁধটি এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

সৈকত সংলগ্ন শুঁটকি ব্যবসায়ী আব্বাস কাজী জানান, ১০-১৫ বছর আগেও সৈকত কত্ত চওড়া আছেলে। আর অ্যাহন হেই সৈকত ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে ছোড অইয়া যাইতেছে। এরপর অমাবস্যা, পূর্ণিমা কিংবা অস্বাভাবিক জোয়ার হইলে মোদের বিপদে পরতে হয়। কয়েক বার দোকান পাট পিছনে সরাইতে হইছে।

কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এ এম মিজানুর রহমান বুলেট জানান, বিচের বেহাল দশা হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে কিংবা দুর্যোগ হলে ভাঙ্গনের ব্যাপকতা দেখা দেয়। আর ঘুর্ণিঝড়ের মতো দূর্যোগ হলে তো কথা নেই। দিন দিন সৌন্দর্যমণ্ডিত স্পটগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা এস এম শামছুর দোহা জানান, অস্বাভাবিক জোয়ারে ঝাউ বনের বেশ কয়েটি গাছ নষ্ট হয়েছে। তবে কয়টি গাছ পরেছে এখন বলা যাচ্ছেনা। এজন্য স্থানীয় বিট কর্মকর্তাকে তালিকা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কুয়াকাটার পৌর মেয়র আব্দুল বারেক মোল্লা জানান, সাগরের অব্যাহত ঢেউয়ের তাণ্ডবে বিচ এখন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। সৈকত রক্ষা জরুরি হয়ে পড়েছে।  

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপজেলা প্রকৌশলী মো.আবুল খায়ের জানান, কুয়াকাটার বিচ রক্ষায় একটি ডিজাইন করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে পাঁচ কিলোমিটার এরিয়ায় এ ডিজাইনের কাজ পরীক্ষা মুলক ভাবে করা হবে বলে তিনি জানান।

 

বিডি-প্রতিদিন/ ০৯ জুন, ২০১৬/ আফরোজ 

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow