Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৬

প্রকাশ : ১২ জুন, ২০১৬ ১৫:৫৪
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে বর্ষার আগেই ভাঙন শুরু
ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে বর্ষার আগেই ভাঙন শুরু

বর্ষা মৌসুম শুরু হতে না হতেই ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের ৪টি উপজেলায় পদ্মার ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত কয়েকদিন ধরে পদ্মা নদীর পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ভাঙনের তীব্রতাও বেড়েছে। ফলে এ অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ আতংকিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। নদী ভাঙন ঠেকাতে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানালেও বিষয়টি নিয়ে মাথাব্যথা নেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চরভদ্রাসন উপজেলা সদরের ১ কিলোমিটার দূরে রয়েছে পদ্মা নদী। প্রতি বছরই নদী ভাঙনে বিলীন হচ্ছে শত শত একর ফসলি জমি, বাড়িঘর, রাস্তাসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ফরিদপুর জেলার মধ্যে নদী ভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে চরভদ্রাসন উপজেলার মানুষ। এ বছরও ভাঙন শুরু হলে আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়েছে হাজারো মানুষ।

বর্তমানে নদী ভাঙনের কবলে রয়েছে সদর ইউনিয়নের মাথাভাঙ্গা গ্রাম থেকে আ. গফুর মৃধার ডাঙ্গী, খালাসী ডাঙ্গী, হাজী ডাঙ্গী, সেকের ডাঙ্গী, পদ্মার অপরপাড়ের অংশ চরঝাউকান্দা ইউনিয়নের চরকালকিনিপুর, দিয়ারা গোপালপুর, চরমঈনুট, চর মির্জাপুর, চরকল্যাণপুর, ফাজিলখাঁর ডাঙ্গী, এমপি ডাঙ্গী, টিলারচর, জাকেরের সূরা, চরহরিরামপুর ইউনিয়নের চরসালেপুর, ভাটি সালেপুর, ছমির বেপারীর ডাঙ্গী, আরজখাঁর ডাঙ্গী, জৈনদ্দিন বিশ্বাসের ডাঙ্গী, তোতার ডাঙ্গী, আজহার বেপারীর ডাঙ্গী, নমুরছাম, চরসালেপুর, নিমাই খাঁর ডাঙ্গী, দাই ডাঙ্গী, চবুল্যা সিকদারের ডাঙ্গী, আমিন খাঁর ডাঙ্গী, খন্দকার ডাঙ্গী, কছিমুদ্দিন প্রমানিকের ডাঙ্গী, গাজীরটেক ইউনিয়নের নতুন ডাঙ্গী, জয়দেব সরকারের ডাঙ্গী, চর হোসেনপুর, মধু ফকিরের ডাঙ্গী, রহমান প্রমাণিকের ডাঙ্গী, গনি মাতুব্বরের ডাঙ্গী, মাসুদ খানের ডাঙ্গী, হাজার বিঘা। এসব গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ বর্তমানে ভাঙন আতংকে দিন কাটাচ্ছেন। পুরো চরভদ্রাসন উপজেলাটি পদ্মানদী দ্বারা বেষ্টিত হলেও শুধু গাজীরটেক ইউনিয়নের চরহাজীগঞ্জ বাজার রক্ষায় ১ কিলোমিটার এবং সদর ইউনিয়নের এমপি ডাঙ্গী গ্রামের পদ্মার পাড়ের ১২৫ মিটার এলাকা বাঁধ দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে। বাকি প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা অরক্ষিত।

পদ্মাপাড়ের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা ছকেল উদ্দিন মোল্যা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, 'প্রতি বছর বর্ষাকালে ভাঙনের চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না, সব সময় আতংকে থাকি, কখন জানি দেখি পায়ের তলায় মাটি নেই।'

চরভদ্রাসন উপজেলা চেয়ারম্যান জি এম বাদল আমিন জানান, নদী ভাঙ্গনের বিষয়টি একাধিক বার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। তিনি বলেন, 'চরভদ্রাসন উপজেলার চারটি ইউনিয়নের মধ্যে চরঝাউকান্দা পদ্মা নদীতে বিলীন হয়েছে অনেক আগেই। বাকি তিনটি ইউনিয়নের বেশীরভাগ এলাকাই রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ফরিদপুরের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে চরভদ্রাসন উপজেলাটি।


বিডি-প্রতিদিন/১২ জুন ২০১৬/শরীফ




আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow