Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১৩ জুন, ২০১৬ ২০:০৪
স্ত্রীর পরকীয়ায় স্বামী খুন, ৭ মাস পর ডোবা থেকে তোলা হবে মরদেহ
কুমিল্লা প্রতিনিধি:
স্ত্রীর পরকীয়ায় স্বামী খুন, ৭ মাস পর ডোবা থেকে তোলা হবে মরদেহ

কুমিল্লার মুরাদনগরে স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের বিরোধ ও সম্পত্তি আত্মসাতের কারণে খুন হয়েছিল সৌদি প্রবাসী ময়নাল হোসেন। লাশ গুমের সাড়ে ৭ মাস পর ওই প্রবাসীর লাশের সন্ধান পেয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

উপজেলার আকবপুর ইউনিয়নের জাড্ডা হাহাতি গ্রামের একটি ডোবার ৩ ফুট পানির নিচে ওই লাশের সন্ধান পাওয়া যায়। আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ডোবা থেকে নিহত ময়নালের লাশ উত্তোলন করা হবে।

এদিকে পানির নিচে লাশের সন্ধান পাওয়ার খবরে স্থানীয় এলাকাসহ দূর-দূরান্তের লোকজন ওই ডোবার সামনে ভীড় জমাচ্ছে। ওই ডোবাটি ক্রাইমসিন এরিয়া হিসেবে সংরক্ষণ করে রবিবার থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। বর্তমানে কারাগারে আটক ওই প্রবাসীর স্ত্রী তাছলিমা আক্তার, তার নিকটাত্মীয় জাকির, জুয়েল ও পরকীয়া প্রেমিক শরিফুল ইসলামসহ অপর ২ আসামির স্বীকারোক্তির সূত্র ধরে হত্যার পর লাশ গুম করার স্থানটির বিষয়ে ডিবি পুলিশ নিশ্চিত হয়। গত রবিবার ডিবি পুলিশ আদালতে আবেদন করলে আদালত লাশ উত্তোলনের নির্দেশ দেয়।

আদালতে প্রবাসীর স্ত্রী তাছলিমার দেয়া জবানবন্দীর সূত্রে জানা যায়, মুরাদনগর উপজেলার আকবপুর নোহাটি গ্রামের মৃত: আব্দুল কাদিরের সৌদি প্রবাসী ছেলে ময়নাল হোসেনের সাথে ১০ বছর আগে তার বিয়ে হয়। তাদের ২টি সন্তান রয়েছে। সৌদি যাওয়ার পর সকল অর্থ স্ত্রী তাছলিমার নামে পাঠায় ময়নাল।

এদিকে প্রবাসী স্বামীর অনুপস্থিতিতে তাছলিমা বেগম একই গ্রামের শরীফুল ইসলাম নামের এক যুবকের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এসআই সহিদুল ইসলাম জানান, গত বছরের ৩০ অক্টোবর ময়নাল হোসেন দেশে আসার পর শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে অবস্থান করে। পরে বিদেশে থেকে পাঠানো অর্থের হিসাব এবং স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। এতে তার স্ত্রী ক্ষিপ্ত হয়ে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ৬ জনের সাথে চুক্তি করে। পরিকল্পনা মোতাবেক গত বছরের ১ নভেম্বর রাতে ৩ লাখ টাকা পরিশোধ করার পর খুনিরা কৌশলে ওই প্রবাসীকে তার শ্বশুর বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে বাড়ির অদূরে খাল পাড়ে নিয়ে হত্যা করে লাশ সেখানে ফেলে দেয়।     
কিন্তু ওই প্রবাসীর স্ত্রী গত ৭ নভেম্বর মুরাদনগর থানায় স্বামী নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি করেন। এতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন ‘তার স্বামী ঢাকার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর বাড়ি ফিরেননি।’ এতে মুরাদনগর থানা পুলিশ জিডির সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করলেও ঘটনার রহস্য বের করতে পারেনি। পরে ওই প্রবাসীর মা আমেনা খাতুন কুমিল্লা পুলিশ সুপার বরাবরে আবেদনের প্রেক্ষিতে ডিবি পুলিশের এসআই শাহ কামাল আকন্দ অভিযোগের তদন্ত শুরু করেন। অভিযোগের সূত্র ধরে ডিবি পুলিশ এরই মধ্যে প্রবাসী ময়নালের স্ত্রীর নিকটাত্মীয় জাকির ও জুয়েলকে গ্রেফতার করে। সর্বশেষ গত ৮ মার্চ  কুমিল্লা নগরী থেকে ডিবির একটি টিম তাছলিমাকে গ্রেফতার করার পরই তার স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে আসে হত্যার ঘটনা। পরদিন গ্রেফতার করা হয় তাছলিমার প্রেমিক শরিফুল ইসলামকে। গত ১০ মার্চ নিহতের স্ত্রী তাছলিমা আক্তার হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের নাম প্রকাশ করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।
মামলার বর্তমান তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা ডিবি’র এসআই সহিদুল ইসলাম জানান, ‘এরই মধ্যে গ্রেফতারকৃতরা লাশ ফেলার স্থানটি নিশ্চিতভাবে সনাক্ত করতে না পারায় লাশের সন্ধানে একাধিক স্থানে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। কিন্তু রবিবার লাশ ফেলার স্থানটি নিশ্চিতভাবে সনাক্তের পর আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার জাড্ডা হাহাতি গ্রামের একটি ডোবার ৩ ফুট পানির নিচে থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশটি উত্তোলন করা হবে।’ এছাড়াও আদালত মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য ফরেনসিক বিভাগকে ৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশনা দিয়েছে বলে ডিবি পুলিশ জানিয়েছে।

বিডি-প্রতিদিন/ ১৩ জুন ১৬/ সালাহ উদ্দীন

 




আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow