Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১৩ জুন, ২০১৬ ২০:৫২
পরকিয়া প্রেমে বাধা
ঝালকাঠিতে স্ত্রী নির্যাতনের মামলায় পুলিশ কনস্টেবলের জেল
ঝালকাঠি প্রতিনিধি:
ঝালকাঠিতে স্ত্রী নির্যাতনের মামলায় পুলিশ কনস্টেবলের জেল
ছবি: নুপুরের স্বামী পুলিশ কনস্টেবল ফয়সাল শরীফ

ঝালকাঠিতে পরকিয়া প্রেমে বাধা দেয়ার জেরে স্ত্রী নির্যাতনের মামলায় ফয়সাল শরীফ (২৮) নামে এক পুলিশ কনস্টেবলকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে আদালত। ঝালকাঠি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক জাহেদ আহম্মেদ আজ ঝালকাঠি শিশু ও নারী নির্যাতন দমন আইনে ফয়সালকে কারাগারে পাঠায়। এর আগে রোববার রাতে সদর উপজেলার মুরাসাতা গ্রামে তার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকালে নির্যাতনের শিকার নুপুর আক্তারের (২০) ভাই শাহীন হোসেন বাদি হয়ে স্বামীসহ ৩  জনকে আসামী করে ঝালকাঠি সদর থানায় শিশু ও নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতারকৃত ফয়সাল শরীফ বাবুগঞ্জ থানায় পুলিশ কনেস্টবল হিসেব কর্মরত। মামলায় তার বাবা আব্দুস সালাম শরীফ ও তার ভাই ফায়জুল শরীফকে আসামী করা হয়েছে। বর্তমানে নির্যাতনের শিকার নুপুর আক্তার বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। 

নির্যাতনের শিকার নুপুর জানান, বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের চৌয়ারীপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফ খানের মেয়ে নুপুর আক্তারের সঙ্গে দেড় বছর পূর্বে ঝালকাঠির নিয়নকাঠি ইউনিয়নের মুরাসাতা গ্রামের আব্দুস সালাম শরীফের ছেলে পুলিশ কনস্টেবল ফয়সাল শরীফের সাথে পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়। 

সম্প্রতি ফয়সাল ঝালকাঠির র্কীতিপাশা গ্রামের আসমা আক্তার আশা নামের এক কলেজ পড়ুয়া মেয়ের সঙ্গে পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়লে বাধাঁ হয়ে দাড়ায় তার স্ত্রী নুপুর। এনিয়ে সৃষ্ট বিরোধের জের ধরে ছুঁটিতে বাড়িতে এসে গত ৮ জুন সকালে ফয়সাল স্ত্রী নুপুরকে রড ও লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে নুপুর। 

পরে জ্ঞান ফিরে আসার পরে নুপুরকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাসায় আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ নুপুরের। এরপর কৌশলে স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে সেখান থেকে পালিয়ে বানাড়ীপাড়ায় আসে নুপুর। পরিবারের লোকজন নুপুরকে বানারীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। নুপুর আরও জানান, বিয়ের পর যৌতুকের দাবিতে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসকি নির্যাতন করে আসছিল। তাকে ২ লাখ টাকা যৌতুক দেয়া হলেও সে আরও ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। দাবিকৃত টাকা দিতে না পারায় ক্ষিপ্ত হয়ে নিয়মিত মারধর করত। 

ঝালকাঠি থানার পরিদর্শক (ওসি) মাহে আলম জানান, এ ঘটনায় নুপুরের ভাই শাহীন হোসেন বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামী করে ঝালকাঠি থানায় শিশু ও নারী নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করনে। পরে অভিযান চালিয়ে ফয়সাল শরীফকে গ্রেফতার করে ঝালকাঠি আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

বিডি প্রতিদিন/১৩ জুন ২০১৬/হিমেল-২০




আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow