Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১৪ জুন, ২০১৬ ১৪:২৭
শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়ক
নেত্রকোনায় ৩৭ কিলোমিটার সড়কেই এখন ভোগান্তি
নেত্রকোনা প্রতিনিধি:
নেত্রকোনায় ৩৭ কিলোমিটার সড়কেই এখন ভোগান্তি

প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী এলাকার দূর্গাপুর উপজেলার বর্তমান বাণিজ্যিক সড়কের পুরোটাই এখন চলাচলের অযোগ্য। ৩৭ কিলোমিটার সড়কের বেশিরভাগই যেন এখন গরুর গাড়ী চলাচলেরও অনুপযোগী।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কটি দিয়ে দিনে অন্তত ১২ থেকে ১৫শ’র মত স্বোমেস্বরীর বালিভর্তি ট্রাক চলাচল করে। এছাড়া কয়েকশ মিনি ট্রাক, লড়ি, যাত্রীবাহি বাস চলাচল তো আছেই। সরকারী হিসেব অনুযায়ী ৫/৬শ ট্রাক চলাচলের কথা থাকলেও ৭/৮শ ট্রাক চলে এই সড়কে।  

বর্তমানে সড়কে দিনের পর দিন দুর্ভোগে আটকা পড়ে থাকে শত শত যান। প্রতিদিন খাদে পড়ে থাকে এসকল যান। আর ভোগান্তি পোহায় এলাকাবাসী ও পথচারী। অনেকেই বলেন এ সড়কে যাওয়ার কথা শুনলেই গায়ে জ্বর আসে। এ সড়ক দিয়ে দূর্গাপুরের খনিজ সম্পদ রপ্তানি হয় ঢাকাসহ সারা দেশে। এরমধ্যে বালু, কয়লা, চীনামাটি ও পাথর অন্যতম। আর এসব অর্থকরী সম্পদ রপ্তানীর একমাত্র সড়ক এটি।  

এলাকাবাসী জানান, প্রথমে সড়কটির শুকনাকুড়ি এপ্রোচ, কৃষ্ণেরচর, লক্ষীপুর কালামার্কেট, লালমিয়ার বাজারসহ প্রায় ৬/৭ কিমি জুরে বেশ কটি জায়গায় সুড়কী উঠে যায়। এরপর ভাঙতে ভাঙতে ঝাঞ্জাইল পর্যন্ত প্রায় সড়কের অর্ধেকে চলে আসে। বর্তমানে সড়কটির তিন তৃতীয়াংশ জায়গা জুড়ে খাদের সৃষ্টি হয়েছে। এগুলোতে বালু, পাথর আর সুড়কীর কিছুই খুজে পাওয়া যায় না। এখন সকলেই কলমাকান্দা হয়ে তিনগুন দূরের রাস্তা পারি দিয়ে চলাচল করেন। কোন রোগী নিয়ে তাৎক্ষণিক হাসপাতালে যাওয়া কখনোই এই রাস্থায় সম্ভব নয়। ঘন্টার পর ঘন্টা যাত্রীরা বসে থাকেন টেম্পু সিএনজিতে। যে কোন সময় উল্টে যায় এসকল যান।  

অতিরিক্ত বালু বোঝাই শত শত ট্রাক খাদে পড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা যানবাহনসহ আটকে থাকে। এ অবস্থায় এলাকাবাসীর সহায়তায় শ্রমিকরা বালু দিয়ে কিছুদিন সড়ক সচল রাখলেও বর্তমানে তাও আর সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী দাবী জানিয়ে আসলেও স্থানীয় ভাবে জনপ্রতিনিধিরা কোন কর্নপাত করেন নি। পাশাপাশি সড়কে ফিটনেসবিহীন অতিরিক্ত বালু বোঝাই করে অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে গেছেন সংশ্লিষ্টরা। অনেকইে ড্রেজার শ্রমিক থেকে ইজারাদার বনে গেছেন। দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী।  
ড্রেজার দিয়ে সাবেক বালু উত্তোলনকারী ও বর্তমান ইজারাদার আলাল উদ্দিন অতিরিক্ত বালু নেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমরা ভেজা বালু নেয়া বন্ধ করে দিয়েছি। এই রাস্থা ঠিক রাখার সম্পূর্ন দায় দায়িত্ব সড়ক বিভাগের, আমাদের না। তাছাড়া গত ৭ মাস ধরে আমরাই সড়ক মেরামত করে চলেছি।  

নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রকেীশলী মোঃ মাসুদ খান জানান, বার বার বলার পরেও স্বোমেস্বরী নদী থেকে বালু ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত বালু বোঝাই করে ট্রাকের বডি সম্প্রসারণ করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার উপর ভেজা বালু নিয়ে যাতায়াত করে ট্রাকগুলো। ফলে সারা সড়ক জুরে ভিজা থাকে এবং সেগুলোর উপর একের পর এক যান চলে। এতে করে পানি ঢুকে পেগমেন্ট নষ্ট হয়, পিচ থাকে না। ইজারাদারদের অনেকবার এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। সেই সাথে ট্রাক বাড়ালেও ক্ষতি নেই। কিন্তু ট্রাকের বডি সম্প্রসারণ করে দিগুন বোঝাই রাস্থার উপর প্রেসার পরে। এ ব্যাপারটা আগে সুরাহা হতে হবে। তাছাড়া বিকল্প একটি রাস্থা করা হচ্ছে সেটি ছেড়ে দিয়ে এই রাস্থার কাজ ধরতে হবে তা না হলে যোগাযোগ একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে।  

 

বিডি প্রতিদিন/১৪ জুন ২০১৬/হিমেল-১৪

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow