Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১৪ জুন, ২০১৬ ১৬:৩২
চৌদ্দগ্রামে পরকীয়ায় ভাঙছে অসংখ্য পরিবার
চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:
চৌদ্দগ্রামে পরকীয়ায় ভাঙছে অসংখ্য পরিবার

প্রযুক্তির ছোঁয়ায় সমাজে আশংকাজনক হারে বাড়ছে পরকীয়া প্রেম। ফলে ভাঙছে অসংখ্য পরিবার।

অভিভাবকসহ সচেতন মহল এব্যাপারে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।  

জানা গেছে, মোবাইলের মাধ্যমে কতিপয় যুবক-যুবতী, বিবাহিত নারী-পুরুষ প্রেম-পরকীয়া চালিয়ে আসছে। এতে সমাজের অধিকাংশ প্রবাসীর স্ত্রী বাজারে ডাক্তার দেখানোর দোহাই দিয়ে অপর পুরুষের সাথে দেখা করে। অনেক সময় অনৈতিক কাজেও লিপ্ত হয় তারা। দিন দিন এ অপরাধ বাড়ছেই। কোন কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না এটি। প্রবাসীর স্ত্রীদের এমন কর্মকাণ্ড দেখে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছাত্রীরাও এমন অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে বলে অনেকে জানিয়েছেন।
 
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, জীবিকা অর্জনের তাগিদে অভিভাবকরা তাদের ছেলের বয়স ১৮-২৫ হলে বিদেশ পাঠান। কয়েক বছর পর দেশে ফিরে প্রবাসী যুবকরা স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় পড়ুয়া নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী বিয়ে করে। বিয়ের এক বা দু’মাস পর অনেকে আবার বিদেশে পাড়ি জমায়। যাওয়ার সময় স্ত্রীকে দিয়ে যান একটি দামী মোবাইল সেট। বিদেশ থেকে মোবাইল ফোনে স্বামী তার স্ত্রীর খোঁজ খবর রাখেন। কিন্তু কিছুদিন গেলেই অনেক গৃহবধু দেশে থাকা তার দেবর বা অপর যুবকের সাথে সরাসরি কিংবা মোাবাইল ফোনে সম্পর্ক গড়ে তোলেন। কথার সম্পর্কটি এক পর্যায়ে দেবর বা যুবকের সাথে অনৈতিক সম্পর্কেও গড়ায়।  

মোবাইলে এত কথা কার সাথে বলো? শ্বশুর শাশুড়িদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রবাসীর স্ত্রীরা মিথ্যার আশ্রয় নেন। কেউ কেউ বলেন তার স্বামীর সাথে কথা বলেন, আবার কেউ কেউ পাল্টা প্রশ্ন করেন। এসব নিয়ে শ্বশুর-শাশুড়ি তার বিদেশে থাকা ছেলের কাছে বউয়ের বিরুদ্ধে নালিশ দিলেই শুরু হয় ত্রিপক্ষীয় ঝগড়া। এক পর্যায়ে ওই স্ত্রীরা অপর যুবকের সাথে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায়। এক্ষেত্রে ২-৫ সন্তানের জননীও পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। অনেক সময় শ্বশুর-শাশুড়ি বউকে নিজের মেয়ের মতো মনে না করায় সংসারও ভাঙছে।  

অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, পরকীয়া প্রেম মানে না ধর্ম, কর্ম, বিত্তবান আর দরিদ্র। পছন্দ, মিষ্টি কথা, ভালো লাগা আবার ভালোবাসার মাঝেই প্রেম। অনেক সময় বখাটে যুবকরা প্রবাসীর স্ত্রীদের সাথে প্রেম করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। আবার অনৈতিক কাজও করছে অনায়াসে। কারণ এ কাজটির কোন প্রমাণ না থাকায় কোথাও বিচারের আশা করা যায় না। খালাতো, মামাতো ভাই রূপে ঘটছে প্রেমের অনেক ঘটনা।  

আবার এমনও দেখা গেছে, অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমানোর মেয়ের পিতার পরিবার বা স্বামীর পরিবার থানায় মেয়ে হারিয়ে গেছে বলে মামলা বা সাধারণ ডায়েরী করে। পরে পুলিশ তদন্তে বেড়িয়ে আসে মূল ঘটনা। সম্প্রতি চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ প্রায় দশ নারীকে উদ্ধার করেছে।
   
অনুসন্ধান করে দেখা গেছে- অপহরণকারীদের সাথে ছিল অপহৃতার মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক। অনেক সময় প্রেমিকার সাথে ঝগড়া বা আত্মীয় স্বজনের সাথে রাগ করে প্রেমিকাকে অপহরণ করা হয়। তবে সম্প্রতি উদ্ধারকৃত এক স্কুল ছাত্রী জানায়, তাকে অপহরণ করা হয়নি। প্রেমের সূত্র ধরেই সে প্রেমিকের সাথে পালিয়ে যায়। সচেতন মহল জানিয়েছেন, প্রত্যেক গৃহবধূ বা যুবতী নারীর উচিত নিজের বা স্বামীর পরিবারের মান সম্মান রক্ষার্থে সচেতন হওয়া।

 

বিডি প্রতিদিন/১৪ জুন ২০১৬/হিমেল-২৩

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow