Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১৪ জুন, ২০১৬ ১৯:৫৯
স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে স্বামী খুন, সাতমাস পর লাশ উদ্ধার
কুমিল্লা প্রতিনিধি:
স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে স্বামী খুন, সাতমাস পর লাশ উদ্ধার

কুমিল্লার মুরাদনগরে স্ত্রীর পরকীয়া প্রেম ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধে খুন হওয়া সৌদি প্রবাসী ময়নাল হোসেনের মরদেহ সাড়ে সাতমাস পর উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ম্যাজিস্টেটের উপস্থিতিতে পুলিশের জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মুরাদনগর উপজেলার আন্দিকোট ইউনিয়নের জাড্ডা হাহাতি খাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। গত বছরের ১ নভেম্বর রাতে ওই প্রবাসীর স্ত্রী তাছলিমার ভাড়াটে খুনিরা তাকে হত্যা করে মরদেহ খালের মাটির নিচে পুতে রাখে।

মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) আলী আশ্রাফ ভূইয়া, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. আলী আজগর, ডিবির ওসি একেএম মঞ্জুর আলম, বাঙ্গরা থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এসআই সহিদুল ইসলাম। মরদেহ উদ্ধারের সময় ওই প্রবাসীর দুই ঘাতক বদি ডাকাত ও বাবু মিয়া সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়া দেখতে সকাল থেকেই সেখানে আশপাশের এলাকার কয়েক হাজার নারী-পুরুষ ভীড় করে। এ সময় মরদেহ দেখে ময়নালের মা ও বোনসহ স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তাদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এসআই সহিদুল ইসলাম জানান, গত ১২ জুন কসবা থেকে প্রবাসী ময়নালের ঘাতক মুরাদনগর উপজেলার জাড্ডা গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে বদি আলম ওরফে বদি ডাকাত (৩৫) এবং একই উপজেলার সোনারামপুর গ্রামের চারু মিয়ার ছেলে বাবু মিয়াকে (২৫) গ্রেফতারের পরই তারা লাশ গুম করার স্থানটি শনাক্ত করে। পরে মরদেহ উদ্ধারে রবিবার আদালতে আবেদন করলে আদালত মরদেহ উদ্ধার ও ময়নাতদন্ত করতে ফরেনসিক বিভাগকে ৩ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দেয়।

গত বছরের ৩০ অক্টোবর ময়নাল হোসেন দেশে আসার পর শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে অবস্থান করে। এসময় বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থের হিসাব এবং স্ত্রীর পরকীয়ার বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। এতে তার স্ত্রী ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামীর পাঠানো টাকা থেকে ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ৬ জন সন্ত্রাসীর সাথে চুক্তি করে। পরিকল্পনা মোতাবেক গত বছরের ১ নভেম্বর রাতে ৩ লাখ টাকা পরিশোধ করার পর সন্ত্রাসীরা কৌশলে ওই প্রবাসীকে তার শ্বশুর বাড়ি থেকে উঠিয়ে নিয়ে বাড়ির অদূরে খাল পাড়ে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করে। গত ৮ মার্চ কুমিল্লা নগরী থেকে মামলার প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির এসআই শাহ কামাল আকন্দ নিহতের স্ত্রী তাছলিমাকে গ্রেফতার করার পরই তার স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে আসে হত্যার চাঞ্চল্যকর কাহিনী। পরদিন গ্রেফতার করা হয় তাছলিমার প্রেমিক শরিফুল ইসলামকে। গত ১০ মার্চ নিহতের স্ত্রী তাছলিমা আক্তার হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের নাম প্রকাশ করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পরই ডিবি পুলিশ অপর আসামিদের গ্রেফতারের অভিযানে নামে। বর্তমানে এই মামলায় কারাগারে আটক রয়েছে ওই প্রবাসী স্ত্রী তাছলিমা আক্তার, তার নিকটাত্মীয় জাকির, জুয়েল ও পরকীয়া প্রেমিক শরিফুল ইসলাম। সর্বশেষ ১২ জুন গভীর রাতে বি-বাড়িয়া জেলার কসবা থেকে গ্রেফতার করা হয় অন্যতম ঘাতক ও মরদেহ গুমে জড়িত বদি আলম ও বাবু মিয়াকে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির এসআই সহিদুল ইসলাম আরও জানান, মরদেহের ময়নাতদন্ত করতে কুমেক হাসপাতাল মর্গে নেওয়া হবে। সেখানে ৩ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।  

বিডি-প্রতিদিন / এস আহমেদ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow