Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১৮ জুন, ২০১৬ ১২:৫২
এখনও সচল দেশের প্রথম 'বিদ্যুৎহীন প্রাকৃতিক হিমাগার'
দিনাজপুর প্রতিনিধি
এখনও সচল দেশের প্রথম 'বিদ্যুৎহীন প্রাকৃতিক হিমাগার'

দেশে এক সময় বিদ্যুত্ নিয়ে হাহাকার ছিল। কৃষক এবং ব্যবসায়ীর আলুসহ বিভিন্ন সবজি, ফল রক্ষণাবেক্ষণে হুমকির মুখে পড়ে। তখন কৃষকের উত্পাদিত পচনশীল ফসল সংরক্ষণে বিকল্প পদ্ধতির বিষয়ে চিন্তা করে দেশে প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে স্থাপিত হয় বিদ্যুিবহীন প্রাকৃতিক হিমাগারটি যা এখনও সচল রয়েছে। এতে বদলাতে শুরু করে গ্রামীণ জনপদে সাধারণ কৃষকদের ভাগ্যের চাকা। বিদ্যুিবহীন প্রাকৃতিক হিমাগারটি জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে।

তবে সরকারিভাবে আর্থিক সহযোগিতা পেলে ২০ থেকে ২০০টন ক্ষমতাসম্পন্ন প্রাকৃতিক হিমাগার নির্মাণ করা সম্ভব বলে অনেকের মত। প্রতি মৌসুমের মার্চ মাস থেকে কৃষকেরা এখানে একাধারে ৬ মাস পর্যন্ত আলুসহ বিভিন্ন কাঁচামাল অক্ষত অবস্থায় সংরক্ষণ করতে পারবেন। হিমাগারে পরীক্ষামূলক ২৮ দিন পর্যন্ত ফুলকপি ও ৭৫ দিন পর্যন্ত পাতাকপি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে সফলতা পাওয়া গেছে।

দিনাজপুরের বীরগঞ্জে কৃষিবিদ মো. তোহিদুল ইসলাম বকুল পরীক্ষামূলকভাবে স্থাপন করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছে। এটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০১১ সালের অক্টোবর মাসে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয় ২০১২ সালের ২ ফেব্র’য়ারি।

জানা যায়, কাহারোল উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের মৃত. আলহাজ্ব ডা. শমসের আলী শাহ'র ছেলে মীম সীড-এর স্বত্ত্বাধিকারী কৃষিবিদ মো. তোহিদুল ইসলাম বকুল। তিনি বীরগঞ্জ পৌর শহরের দিনাজপুর-পঞ্চগড় মহাসড়কের জগদল মৌজায় ১১০ টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি বিদ্যুিবহীন প্রাকৃতিক হিমাগারটি নির্মাণ করেন। এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা। বেসরকারি সংস্থা ক্যাটালিস্ট ও জিমার্ক-এর আর্থিক সহযোগিতায় এবং কমপিটিবল টেকনোলজি ইনস্টলেশন (সিটিআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে হিমাগারটি নির্মাণ করা হয়। এই পদ্ধতি অনুসরণ এবং ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরণের হিমাগার নির্মিত হয়েছে। সেগুলোও সচল রয়েছে বলে জানান কৃষিবিদ মো. তোহিদুল ইসলাম বকুল।

এ বিষয়ে কৃষিবিদ মো. তোহিদুল ইসলাম বকুল জানান, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবং জিমার্ক'র সহযোগিতায় পাহাড়ি জনপদ খাগড়াছড়ি জেলার দীঘিনালা উপজেলায় ১টি এবং বান্দরবন জেলার সদর উপজেলা ১টি ও আলীকদম উপজেলায় ১টি, জাপানের অর্থায়নে এবং জিমার্ক এর সহযোগিতায় বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় ৭টি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে রাজশাহীতে ১টি প্রাকৃতিক হিমাগার নির্মাণ করা হয়েছে।


প্রাকৃতিক হিমাগার ঠান্ডা রাখার জন্য এর তলদেশে পানি সংরক্ষণ করে রাখা হয়। উক্ত পানির মধ্যে মাছ চাষ করা সম্ভব। পানি ১৫ দিন পর পর পরিবর্তন করা হয়। বিদ্যুত্চালিত হিমাগারের বিকল্প হিসেবে এই বিদ্যুৎবিহীন প্রাকৃতিক হিমাগারটি আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতিতে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রাকৃতিক হিমাগার নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারিভাবে গবেষণা কার্যক্রম চালিয়ে হিমাগারগুলো সময়োপযুগী হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে একদিকে যেমন দেশের কৃষকেরা লাভবান হবে অন্যদিকে দেশের কৃষি ক্ষেত্রে বিপ্লব সাধিত হবে মনে তিনি মনে করেন।

 

বিডি-প্রতিদিন/১৮ জুন ২০১৬/শরীফ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow