Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১৮ জুন, ২০১৬ ১৬:৩৮
'উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহার না করায় কৈ মাছের মৃত্যু'
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
'উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহার না করায় কৈ মাছের মৃত্যু'

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ব্যবহার না করায় গত বছর বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলসহ দেশের অনেক এলাকায় কৈ মাছের আকস্মিক মৃত্যু দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএফআরআই’র বিজ্ঞানীরা।

তারা বলছেন, বিজ্ঞানভিত্তিক চাষাবাদে প্রতি শতাংশে ৭ থেকে ৮শ’ কৈ মাছের পোনা মজুতের কথা বলা হলেও চাষীরা ৫ থেকে ৬ হাজার কৈ মজুত করেছেন। ফলে অতিরিক্ত খাবার ব্যবহার করায় পানি দূষিত হয়েছে এবং কৈ মাছ ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এতে করে গত বছর কৈ চাষীরা আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন।

আজ শনিবার কৈ মাছের মড়ক প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিষয়ে চাষীদের করণীয় ও সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিএফআরআই’এ দিনব্যাপী এক কর্মশালায় এসব বিষয় তুলে ধরেন ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা। এ সময় ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সিরাজুম মনির।

বিজ্ঞানিরা বলেন, কৈ মাছ এপ্রিল-মে মাসে ডিম দেয়ার প্রজনন সময় হলেও অধিক মুনাফার আশায় অনেক হ্যাচারি মালিক কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ফেব্রুয়ারি মাসে জোর করে সময়ের আগেই ডিম দিতে বাধ্য করে। এসব ডিম থেকে পোনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম বলে সহজেই রোগাক্রান্ত হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা পরামর্শ দিয়ে বলেন, কৈ মাছ একক চাষ না করে ইনস্টিটিউট থেকে উদ্ভাবিত প্রযুক্তিতে চাষ করার জন্য। এ ক্ষেত্রে কৈ মাছের সঙ্গে প্রতি শতাংশে ৫০ থেকে ৬০টি তেলাপিয়া এবং ৯০ থেকে একশটি শিং মাছের মিশ্র চাষের পরামর্শ দেন। এতে করে ৪ মাসে ১টি ফসল থেকে একর প্রতি নীট ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা লাভ করা সম্ভব।

কর্মশালায় আরো বক্তব্য রাখেন সাবেক ভিসি ও মৎস্য বিজ্ঞানী ড. আনোয়ারুল ইনলাম, মৎস্য রোগ বিশেষজ্ঞ প্রফেসর গিয়াস উদ্দিন আহমদ, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলেকুজ্জামানসহ প্রমুখ। এসময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শতাধিক কৈ চাষী, হ্যাচারি মালিক, মৎস্য অধিদপ্তরের মাঠ কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, একোয়া ড্রাগ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, গবেষক ও উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিডি-প্রতিদিন/১৮ জুন ২০১৬/শরীফ

 

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow