Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

আপডেট : ১৯ জুন, ২০১৬ ১২:৪৭
ফরিদপুরে পথভোলা ১০ শিশু ফিরতে চায় আপন গৃহে
ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে পথভোলা ১০ শিশু ফিরতে চায় আপন গৃহে

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সংগৃহীত পথভোলা ১০ শিশুর এখন কষ্টের দিন কাটছে ফরিদপুরে অবস্থিত সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ মহিলা ও শিশু কিশোরী নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রে। শৈশবে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন এসব শিশুরা ফিরে যেতে চায় তাদের বাবা-মা ও পরিবারের কাছে। থাকতে চায় বাবা-মায়ের আদরে। কিন্তু পথভোলা এসব শিশুদের খোঁজ এখনো পাননি তাদের পরিবারের সদস্যরা। তাই ফরিদপুরের একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা শিশুদের ছবি সম্বলিত পোস্টার লাগানোর কাজ করছে   দেশজুড়ে। যদি পোস্টার দেখে শিশুদের কোনো স্বজন সন্ধান পান তার আদরের ধন ছেলে-মেয়েকে। নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রে থাকা ৮ বছরের শিশু সিদ্দিক শুধু বলতে পারে ঢাকায় নানির সঙ্গে বাজারে যাবার সময় হারিয়ে যায় সে। আর মীম শুধু তার নামটিই  েবলতে পারে। ফেনীর ১১ বছরের আরিফ মায়ের বকুনি খেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে আসার পর হারিয়ে যায়। বিভিন্ন হাত ঘুরে সে এখন ফরিদপুরের নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রে।

নানাভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া শিশুদের পুলিশের মাধ্যমে আশ্রয় মিলেছে এ আবাসন কেন্দ্রে। বর্তমানে আবাসন কেন্দ্রে ১০টি শিশু রয়েছে। যারা মা-বাবার কথা দিনের পর দিন কান্নাকাটি করে যাচ্ছে। কিন্তু সঠিক পরিচয় না পাবার কারণে কাউকেই তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা যাচ্ছে না কিংবা শিশুদের পরিবারের খোঁজও মিলছে না। বর্তমানে যে ১০টি শিশু রয়েছে তাদের মধ্যে ২ বছর থেকে ১২ বছর বয়সের। এ আবাসন কেন্দ্রে কেউ রয়েছেন দুই বছরের অধিক সময় ধরে। ফরিদপুরের এ আবাসন কেন্দ্রে খাবার ও বিনোদনের অভাব না থাকলেও বাবা-মা এবং পরিবারের সদস্যদের না দেখার কষ্ট রয়েছে। ফলে বেশীরভাগ সময়ই শিশুরা কান্নাকাটি করে সময় কাটায়। শিশু বয়স থেকে বাবা-মায়ের আদর-যত্ন থেকে বঞ্চিত এবং কষ্টকে সঙ্গী করে বেড়ে ওঠা এসব শিশুরা ফিরে যেতে চায় তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে। আবাসন কেন্দ্রের শিশু পরিচর্যাকারী আয়া জানান, সব সময়ই তারা বাবা-মায়ের কথা বলে কান্নাকাটি করে। মন খারাপ করে বসে থাকে। অনেকেই এতটাই মন খারাপ করে থাকে যে কারো সঙ্গেই কোনো কথা বলে না।

ফরিদপুরের মহিলা ও শিশু কিশোরী নিরাপদ আবাসন কেন্দ্রের উপ-তত্ত্বাবধায়ক এম এ মান্নান জানান, শিশুদের ছবিসম্বলিত পোস্টার ছাপিয়ে তা দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে ছবি দেখে দু’টি পরিবার তাদের শিশুদের চিহ্নিত করে ফেরত নিয়ে গেছে। আশা করছি বাকিরাও তাদের পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারবে। তবে এক্ষেত্রে প্রচার মাধ্যমের সহযোগিতা দরকার।

বিডি-প্রতিদিন/১৯ জুন ২০১৬/শরীফ




আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow