Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৬

প্রকাশ : ২০ জুন, ২০১৬ ১৬:৫৯
২৫ হাজার জেলে পরিবারে হাহাকার
সুন্দরবনের পাসপারমিট খুলে দেয়ার দাবিতে জেলেদের মানববন্ধন
শেখ আহ্সানুল করিম, বাগেরহাট :
সুন্দরবনের পাসপারমিট খুলে দেয়ার দাবিতে জেলেদের মানববন্ধন

সুন্দরবনের পাসপারমিট বন্ধ থাকায় বাগেরহাটের শরণখোলার প্রায় ২৫ হাজার জেলে পরিবারে হাহাকার চলছে। সম্প্রতি সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ধানসাগর স্টেশন এলাকায় পর পর চার বার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সরকারি সিদ্ধান্তে বনের পাসপারমিট বন্ধ ঘোষনায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। 

জেলেরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে প্রায় দুই মাস ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী ওইসব জেলে পরিবারে এবার ঈদ উৎসব উদযাপনে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে! 

বেঁচে থাকার তাগিদে তারা কোনো উপায় না পেয়ে রাস্তায় নেমে এসেছেন। বেছে নিয়েছে আন্দোলনের পথ। আজ দুপুরে কয়েকশ’ বেকার জেলে পাসপারমিট খুলে দেয়াসহ ৬ দফা দাবিতে উপজেলা সদরে বিক্ষোভ করেছেন। তারা প্রথমে শরণখোলা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও পরে রায়েন্দা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে সমাবেশে মিলিত হয়। 

সেখানে বক্তব্য দেন রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শরণখোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আসাদুজ্জামান মিলন, মৎস্যজীবী নেতা সোলায়মান ফরাজী ও জেলে সোবাহান হাওলাদারসহ আরও অনেকে। এসময় বক্তারা বলেন, সুন্দরবনে অগ্নিকাণ্ডের সাথে জড়িত মুষ্টিমেয় কিছু সন্ত্রাসীর কারণে আজ হাজার হাজার জেলে বেকার হয়ে পড়েছে। তাদের অপরাধের দায়ভার নিরিহ জেলেদের বহন করতে হচ্ছে। জেলে পরিবারে হাহাকার শুরু হয়েছে। অনেকে পেটের দায়ে এলাকা ছেড়ে শহরে গিয়ে রিকশা চালাচ্ছেন, দিনমজুরীর কাজ করছেন। কোনো জেলের ঘরে খাবার নেই। অর্থাভাবে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। 

মানববন্ধনে যারা সুন্দরবন ধ্বংসের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের পাশাপাশি বেকার হয়ে পড়া জেলেদের দুর্দশার কথা ভেবে দ্রুত পাসপারমিট খুলে দেয়ার জন্য সরকারে কাছে দাবি জানিয়েছেন। 

এদিকে, এ বছরের ২৭ এপ্রিল থেকে এপর্যন্ত প্রায় দু’মাস সুন্দরবনের পাসপারমিট বন্ধ থাকায় এলাকার অর্থনীতিতেও বিরূপ প্রভাব  পড়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্যেও মন্দাভাব দেখা দিয়েছে। এ উপজেলার অধিকাংশ মানুষই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। তাই পাসপারমিট বন্ধ থাকলে স্বাভাবিকভাবেই সবকিছুই অচল হয়ে পড়ে। 

সরকার সুন্দরবন রক্ষায় একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরী করে পাসপারমিট খুলে দিয়ে অর্থনৈতিক অচলাবস্থা নিরসন করবে বলে এ অঞ্চলের মানুষ আশা করছেন। 

জেলেদের ৬ দফা দাবিগুলো হচ্ছে, দ্রুত পাসপারমিট চালু, জাটকা মৌসুমে জেলেদের চালের পরিমান বৃদ্ধি ও প্রতিমাসে নগদ দুই হাজার টাকা প্রদান, স্মার্ট পেট্রোলিং অভিযান স্থায়ীকরণ, জেলেদের বিনা সুদে ঋণ প্রদান, জেলেদের পূনর্বাসন ও ভূমিহীন জেলেদের সরকারী খাস জমি বন্দোবস্ত দেয়া।

সুন্দরবন সুরক্ষা পরিষদের আহবায়ক নজরুল ইসলাম আকন বলেন, অচিরেই সুন্দরবনের পারসপারমিট খুলে দেয়া না হলে পেশাজীবীরা পেটের দায়ে অবৈধ পথ বেছে নেবে। এলাকায় অপরাধ প্রবনতা বৃদ্ধি পাবে। সুন্দরবন আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। 


বিডি প্রতিদিন/২০ জুন ২০১৬/হিমেল-০৭




আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow