Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ২২ জুন, ২০১৬ ১৪:৫৮
বগুড়ায় থামছে না যমুনা নদীর ভাঙ্গন
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া:
বগুড়ায় থামছে না যমুনা নদীর ভাঙ্গন

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদীর চলতি মৌসুমে অব্যহত ভাঙ্গনে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কমপক্ষে শতাধিক পরিবার গৃহহীন ও শতশত একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙ্গনের কারণে ৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এরইমধ্য অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।  

নদী ভাঙ্গনে দিশেহারা মানুষ এখন তাদের ভাগ্যকে দোশারোপ করছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চলতি বছরেও যমুনা নদীর ভাঙ্গন অব্যহত আছে। যদিও ভাঙ্গন প্রতিরোধ করার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রতি বছর শতশত কোটি টাকা ব্যয় করছে। এত টাকা ব্যয় করার পরেও সারিয়াকান্দি উপজেলার কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের মথুরাপাড়া বাজারের দক্ষিণ পাশ থেকে শুরু করে উপজেলা শেষ সীমানা কামালপুর ইউনিয়নে দড়িপাড়া পর্যন্ত প্রায় ১০ কিঃমিঃ এলাকাজুড়ে বিভিন্ন স্থানে বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে অব্যহত ভাঙ্গনে ফসলি জমি, বিভিন্ন স্কুল ও বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে।  

তবে সবচেয়ে বেশি ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে ধলিরকান্দি, কর্ণিবাড়ী মরচা, বয়রাকান্দি, ঘুঘুমারি, শেখপাড়া, রৌহাদহ, ইছামারা ও দড়িপাড়া এলাকায়। এসব এলাকা থেকে প্রতিদিন ফসলি জমি ও বসতভিটা নদী গ্রাস করছে। এছাড়াও নদী ভাঙ্গনের কারণে নিজচন্দনবাইশা সরকাররি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নওখিলা পি.এন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চন্দনবাইশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর চন্দনবাইশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আয়েশা ওসমান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় প্রতিষ্ঠান গুলো এরইমধ্য অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে।  

এছাড়াও ঘুঘুমারি দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শেখপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আটাচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রৌহাদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীভাঙ্গনের কারণে হুমকী মুখে পড়েছে।  অন্যদিকে ভাঙ্গন ঠেকানোর জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বালি ভর্তি জিও বস্তা ফেলে যমুনা নদীর ডান তীর ভাঙ্গন প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।  

ধলিরকান্দি থেকে শুরু করে রৌহাদহ-দড়িপাড়া পর্যন্ত ভাঙ্গন ঠেকানোর জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ৩ বছর মেয়াদী প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এছাড়াও ৯টি প্যাকেজে একই উদ্দেশ্যে প্রায় ১২৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। এই ৯টি প্যাকেজের কাজ চলতি বছরেই শেষ হচ্ছে। এরইমধ্য চলতি বছর থেকে একই উদ্দেশ্যে ২৬৩ কোটি টাকা প্রকল্প শুরু করা হয়েছে।  

আগামী ৩ বছরের মধ্য এই প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করে বলেছেন, নদীভাঙ্গন প্রতিরোধের জন্য এসব প্যাকেজ প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা হলে উল্লেখিত এলাকায় নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ ৯৫ ভাগ থেকে শুরু করে একেবারে ০ (শূন্য) পয়েন্টে আনা সম্ভব।  

এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত ৩ বছরে সারিয়াকান্দি উপজেলার চন্দনবাইশা, কুতুবপুর, কামালপুর ও বোহাইল ইউনিয়ন এলাকায় যমুনা নদীর ডান তীর ভাঙ্গনে কমপক্ষে ২ থেকে ৩ কি.মি. এলাকা লোকালয়ের দিকে এগিয়ে এসেছে। স্থানীয়রা এখনও নদী ভাঙ্গনের অজানা আতঙ্কে ভুগছেন। চ

ন্দনবাইশা এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি অধ্যক্ষ সাদত ইকবাল কবির গামা, সমাজসেবক কুদরত-ই-খুদা চাঁন ও আয়েশা বেগম জানান, নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধের জন্য সরকারতো আমাদের এলাকায় বছর বছর কম টাকা খরচ করে না। বরাদ্দকৃত টাকার বস্তা যদি যমুনা নদীর ভাঙ্গনের জন্য ফেলা হতো তবে নদী ভাঙ্গন অব্যশই বন্ধ হতো। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, টাকা খরচ করার পরও নদী ভাঙ্গন থামছে না। যার জন্য এলাকা মানুষের জীবনযাত্রা ক্ষেত্রে নেমে এসেছে চরম দুর্বিসহ অবস্থা।  

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডিই) মোঃ আবু সাঈদ জানান, যমুনা নদীর ডান তীর ভাঙ্গন প্রতিরোধ একটি জটিল সমস্যা। তবে ৩ বছর মেয়াদী ২৬৩ কোটি টাকা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে উপজেলার ৫.৯ কি.মি. ভাঙ্গন প্রবণ এলাকার নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা সম্ভব।


বিডি প্রতিদিন/২২ জুন ২০১৬/হিমেল-১৫

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow