Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ২২ জুন, ২০১৬ ২০:২৭
ফরিদপুরে ওসিসহ চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা
ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে ওসিসহ চার সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা

ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমানসহ ঢাকা থেকে প্রকাশিত অনলাইন ‘ই-বাংলা পত্রিকা ডটকম’র চার কর্মীকে আসামি করে আজ বুধবার ফরিদপুরের আদালতে মানহানির একটি মামলা হয়েছে। জেলার ভাঙ্গা উপজেলার ইট, বালু ও পরিবহন ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান মামলাটি করেন।

ওসি মিজানুর রহমান ওই মামলার পাঁচ নম্বর আসামি। মামলার অন্য আসামিরা হলেন ই-বাংলা পত্রিকা ডটকম’র ফরিদপুরের ব্যুরো চিফ বিপ্লব কুমার দাস ওরফে শাওন, সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, প্রকাশক মো. নাজমুল হাসান ও নির্বাহী সম্পাদক গোলাম মোর্শেদ।

ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের আইনজীবী রেজাউল করিম জানান, বুধবার ফরিদপুরের দুই নম্বর আমলি আদালতে মাসোহারা না পেয়ে তাকে (ব্যবসায়ী) মিথ্যা অভিযোগে গ্রেপ্তার ও সংবাদ পরিবেশনের জন্য আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আরজি জানান। আরজিটি আমলে নিয়ে দুই নম্বর আমলি আদালতের বিচারক ফয়সাল আল-মামুন ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্ত করে আগামী ৮ আগস্টের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার আদেশ দেন।

আদালতে দেওয়া ওই ব্যবসায়ীর আরজিতে বলা হয়, ‘আমি একজন ইট, বালু ও পরিবহন ব্যবসায়ী। আমি নিয়মিত আয়কর পরিশোধ করি। পৈত্রিকসূত্রে পাওয়া ৫০ বিঘা জমির মালিক আমি। আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙ্গা থানার পাশেই। ’

আরজিতে অভিযোগ করে বলা হয়, ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান আমার কাছে দুই লাখ টাকা মাসোহারা দাবি করেন। আমি মাসোহারা দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি আমার ওপর ক্ষিপ্ত হন। গত ১৮ জুন তারিখে ওসি সাহেব আমাকে বাড়িতে লোক পাঠিয়ে থানায় ডেকে নিয়ে যান। পরে এজাহারে আমার নাম না থাকা সত্ত্বেও পুরনো একটি মামলা আমাকে আটক দেখিয়ে থানা হাজতে রেখে অন্য আসামিদের ছবি তোলার সুযোগ করে দেন। ওই দিনই আমাকে আদালতে চালান দেওয়া হয়। আর অন্য আসামিরা তাদের পত্রিকায় আমাকে ভূমি দস্যু ও মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে একটি মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে। আমি পরদিন ১৯ জুন আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হই। আরজিতে তিনি বলেন, ‘আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে আমাকে মিথ্যা মামলা গ্রেপ্তার ও মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে আমার পাঁচ কোটি টাকার মানহানি ঘটিয়েছে। তাই আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানাই।

আইনজীবী রেজাউল করিম আরও জানান, আদালত আরজি আমলে নিয়ে ভাঙ্গার ইউএনও মো. আলমগীর হোসেনকে আগামি ৮ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়ার আদেশ দেন।

এ ব্যাপারে ভাঙ্গা থানার ওসি মো.মিজানুর রহমানের সরকারি মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে ফোনটি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাখাওয়াত) হোসেন রিসিভ করেন। তার কাছে মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের কোনো মামলা মামলা হয়েছে বলে জানা নেই। ’

ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের কোনো মামলার ঘটনা আমার জানা নেই। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

বিডি-প্রতিদিন/২২ জুন ২০১৬/শরীফ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow