Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : ২৪ জুন, ২০১৬ ১৬:৩১
আপডেট :
চৌদ্দগ্রামে ঈদের বাজার ভারতীয় পণ্যের দখলে
এক মাসে ২৫ কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য আটক
চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
চৌদ্দগ্রামে ঈদের বাজার ভারতীয় পণ্যের দখলে

ঈদকে সামনে রেখে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন সীমান্তে তৎপর হয়ে উঠেছে চোরাচালানি চক্র। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ’র প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় প্রতিদিন সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে প্রবেশ করছে রকমারি পণ্য। এসব পণ্য সড়ক পথে চলে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকা ও বন্দরনগরী চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়।  

কয়েক বছর ধরে চোরাকারবারীরা দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকার ন্যায় চৌদ্দগ্রাম সীমান্ত দিয়েও নিরাপদে ভারতীয় রকমারী পণ্য এনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করে আসছে। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে উপজেলার প্রায় প্রতিটি হাট-বাজারে ভারতীয় পণ্যে সয়লাব হয়ে আছে।  

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী সীমান্তে চোরাচালান রোধে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। তারপরও তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে এবার কোটি কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য সীমান্তের ওপার থেকে ধাপে ধাপে নিয়ে আসছে চোরাচালানি চক্র। ভারতীয় শাড়ি ও থ্রি-পিসসহ রকমারি পণ্য আনার জন্য ঢাকা-চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে এই চক্রটি অগ্রীম টাকা নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতি বছর ঈদুল ফিতরের সময় বৈধভাবে দেশে যে পরিমাণ ভারতীয় পণ্য আসে তার কয়েকগুন পণ্য আসে অবৈধভাবে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপকালে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে।  

চৌদ্দগ্রামের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে দেশে আসছে শাড়ি, থ্রি-পিস, গহনা, চিনি ও মাদকদ্রব্যসহ রকমারি পণ্য। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম ও কুমিল্লা রেলওয়েকেই চোরাকারবারিরা তাদের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। এখন মহাসড়কে যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত হওয়ায় ট্রেনে চলাচল অনেকাংশে কমে গেছে।  

ভারত থেকে অবৈধভাবে আসা পণ্য রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দিতে চোরাকারবারিরা মহাসড়কের যানবাহন ব্যবহার করে থাকে। প্রতিনিয়ত চোরাইপথে ভারতীয় শাড়ি, চিনি, ফেনসিডিল ও হেরোইনসহ মাদকদ্রব্য পাচার করে এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যবসার উদ্দেশ্যে নেয়া হচ্ছে। এখন ঈদ উপলক্ষে আনা হচ্ছে কসমেটিক্স ও ইমিটেশন সামগ্রীও। এছাড়া ভারতীয় জিরা, ডিম, জর্দা, সুগন্ধি আগরবাতি ও কমলা আসে চোরাইপথে।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নির্বিঘ্নে তারা এসব পণ্য চৌদ্দগ্রাম বাজারসহ ঢাকা-চট্টগ্রাম ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে। নারী-পুরুষ সমানভাবে এ চোরাকারবারীর সঙ্গে জড়িত রয়েছে। মহিলাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেঁধে আনা হয় শাড়ি, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য। ইমিটেশনের ভারতীয় চুড়ি, গলার হার, নেকলেস, কসমেটিক্স সামগ্রী ও বিভিন্ন প্রকার সুগন্ধি আগরবাতি বেশি করে আনা হচ্ছে ঈদ উপলক্ষে। এসব চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ করছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। যার কারণে তাদের প্রতিকারে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে গত এক মাসে চৌদ্দগ্রামের আটগ্রাম, শিবের বাজার, সাতঘড়িয়া, জগন্নাথসহ বিভিন্ন সীমান্ত ফাঁড়ি বিজিবি অভিযান চালিয়ে পাচারের সময় প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কাপড়, চকলেট, জিরা, মাদক, বাংলাদেশী আলু ও টমেটোসহ বিভিন্ন সামগ্রী আটক করেছে।

 

বিডি প্রতিদিন/২৪ জুন ২০১৬/হিমেল-০৯

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow