Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২৬ জুন, ২০১৬ ১৪:৫০
আপডেট :
ঠাকুরগাঁওয়ে অপহরণের ১৬ দিনেও উদ্ধার হয়নি সেই নারী
আব্দুল লতিফ লিটু, ঠাকুরগাঁও:
ঠাকুরগাঁওয়ে অপহরণের ১৬ দিনেও উদ্ধার হয়নি সেই নারী

ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলায় এক প্রভাবশালী পরিবারের বিরুদ্ধে অজবালা নামের এক নারীর উপর দিন দুপুরে মাথা ন্যাড়া করে চুল জ্বালিয়ে দেওয়াসহ নির্যাতন ও অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুরুতে পুলিশ মামলা নিতে টালবাহানা করলেও ঘটনার ১৬দিনেও উদ্ধার করতে পারেনি সেই নির্যাতিত অজবালাকে।  

মামলা তুলে নেওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকীতে আতঙ্কিত নির্যাতিত সেই নারীর পরিবার। তবে পুলিশ বলছে অজবালাকে উদ্ধারে সচেষ্ট  রয়েছে প্রশাসন, দোষিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

জানা যায়, ১০ জুন বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রকাশ্যে দলিত সম্প্রদায়ের (হিন্দু ধর্মালম্বী) ঐ নারীর পা ভেঙ্গে রক্তাক্ত করে মাটিতে ফেলে দেয় সাবেক স্বামী খবির। এরপর মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দিয়ে চুল জ্বালিয়ে দেয় তারা। পরে সেই নারী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে তুলে নিয়ে যায় অজ্ঞাত স্থানে। এরপর থেকে নিখোঁজ হয় অজবালা। আর এ নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে রানীশংকৈল উপজেলার লেহেম্বা ইউনিয়নের বসতপুর গ্রামের প্রভাবশালী পরিবার কালু হাজীর ছেলে খবিরের বিরুদ্ধে। ওই পরিবারের ভয়ে এলাকার শতশত মানুষ শুধু দর্শকের ভুমিকা পালন করেছে। শুধু তাই নয় সংবাদকর্মীর সামনে মুখ খুলতেও ভয় পায় এলাকাবাসী।  

ঘটনার দুই দিন পর ১২ জুন থানায় অভিযোগ দেয় অজবালার মা অজবালা। কিন্তু প্রভাবশালী একটি পক্ষ ধামাচাপা দিতে উঠে পড়ে লাগে। অবশেষে গত ১৫ জুন খবিরসহ ৪ জনকে আসামি করে রানীশংকৈল থানায় নির্যাতন ও অপহরণ মামলা হয়। পর দিন খবিরের ভাই আমিনুলকে আটক করে পুলিশ। এরপর থেকে প্রভাবশালী খবিরের পরিবার নির্যাতিত ওই পরিবারকে মামলা তুলে নেওয়াসহ প্রাণনাশের হুমকীও দিচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে।  

অজবালার মেয়ে গীতা রানী ও জামাই ফুল কুমার অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার ১৬ দিনেও মা কে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। মামলা তুলে নেওয়ার জন্য খবিরের পরিবার হুমকী দিচ্ছে।  

এ ব্যাপারে রানীশংকৈল থানার ওসি রেজাউল করিম বলেন, মামলার তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত অজবালাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।  

এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ জানান, মামলা তার আইনের গতিতে চলবে। তবে খবিরের ভাই আমিনুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে ।

হিন্দু ধর্মালম্বী টুনকু রায়ের সাথে দুই বছর আগে বিয়ে বিচ্ছেদ হয় অজবালার। ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলমান হয়ে কালু হাজীর ছেলে খবিরের সাথে বিয়ে হয় অজবালার। খবির ৮ মাস ঘর সংসার করে অজবালাকে তালাক দেয়। পরে সে হিন্দুধর্ম গ্রহন করে আবার পরিবারে ফিরে যায়।


বিডি প্রতিদিন/২৬ জুন ২০১৬/হিমেল-১৭

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow