Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : ১ জুলাই, ২০১৬ ১৮:০০
আপডেট : ১ জুলাই, ২০১৬ ১৮:০৪
ঈদ উৎসবে অতিথি বরণে প্রস্তুত রাঙামাটি
ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি:
ঈদ উৎসবে অতিথি বরণে প্রস্তুত রাঙামাটি

ঈদ উৎসবকে ঘিরে পর্যটক বরণে প্রস্তুত পর্যটন নগরী রাঙামাটি। ইতিমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অতিথি বরণে চলছে নানা আয়োজন। আবাসিক হোটেল, মোটেল, সরকারি-বেসরকারি রেস্ট হাউসগুলো সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। এরই মধ্যে অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে অধিকাংশ হোটেল, মোটেল, রেস্ট হাউস।  

সরকারি পর্যটন মোটেলে ঈদের পরদিন থেকে অর্ধ মাসব্যাপী সবগুলো কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। শহরের পর্যটন মোটেল ঈদের আগের দিন থেকে সপ্তাহজুড়ে বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। পর্যটন সংস্থা ও আবাসিক হোটেল-মোটেল কর্তৃপক্ষ অতিথিদের স্বাগত জানাতে বর্ণিল সাজে সাজিয়েছে নিজেদের ভবন, অবকাঠামো ও স্থাপনাগুলো।  

জানা গেছে, দেশের অন্যসব অঞ্চল থেকে পার্বত্যাঞ্চলে ঈদ-উৎসব অনেকটা ব্যতিক্রমী। উৎসবে বাঙালি মুসলিম সম্প্রদায় ছাড়াও মেতে ওঠে ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠীসহ অন্যান্য ধর্ম, বর্ণ, জাতি ও সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ। এতে ঈদ আমেজ পরিণত হয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মিলনমেলায়। জাতিতে জাতিতে, সম্প্রদায়ে সম্প্রদায়ে ঘটে ভালোবাসার মেলবন্ধন। প্রতি বছর ঈদ উপলক্ষে পর্যটন স্পটগুলোতে অগণিত মানুষের ঢল নামে। উৎসব-আনন্দ উপভোগ করতে পর্যটক ছাড়াও স্থানীয়রাও স্পটগুলোতে ভিড় জমান।  

পর্যটকদের কেনা-কাটার সুবিধার্থে এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রস্তুত রয়েছে দেশি তাঁতের তৈরি উপজাতি বস্ত্রশিল্পের ফ্যাশন হাউসগুলো। অন্যদিকে রাঙামাটিতে আগত পর্যটকদের জন্য ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন।

এ ব্যাপারে রাঙামাটি পর্যটনের আয়তায় ট্যুরিজ পুলিশ ব্যবস্থাপক মো. ফরহাদ জানান, রাঙামাটিতে দূর-দূরান্ত থেকে আগত পর্যটকদের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে যথেষ্ট নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য অতিরিক্ত পুলিশের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঝুলন্ত ব্রীজে সব সময় পুলিশের টহল থাকবে। এছাড়া পর্যটকদের যেকোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নড়জদারী বাড়ানো হয়েছে।  

রাঙামাটি হোটেল মোটেল মালিক সমিতি যুগ্ম সম্পাদক মো. আবু নেছের আহম্মেদ বলেন, এবার পর্যটকদের জন্য রাঙামাটির আকর্ষণ হচ্ছে বৈচিত্র্যময়। এক দিকে বর্ষার আমেজ, অন্যদিকে ঈদ উৎসব। সব মিলে রাঙামাটিতে কমপক্ষে অর্ধলাখ পর্যটক আনন্দ-ভ্রমণে আসার সম্ভাবনা আছে। ঈদের পরদিন থেকে বাইরে থেকে রাঙামাটিতে আসা শুরু হবে প্রচুর পর্যটকের।  

রাঙামাটি শহরে সরকারি পর্যটন কমপ্লেক্সের মোটেল ছাড়াও রয়েছে অনেকগুলো ভালোমানের আবাসিক হোটেল। সেগুলোর মধ্যে হোটেল সুফিয়া, গ্রিন ক্যাসেল, আল মোবা, নীডস হিলভিউ হোটেল প্রিন্স অন্যতম ।  

অন্যদিকে রাঙামাটি জেলাজুড়ে রয়েছে অসংখ্য দর্শনীয় উপভোগ্য স্থানও। যেমন- রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের আকর্ষনীয় ঝুলন্ত ব্রীজ, সুখী নীলগঞ্জ মিনি চিড়িয়াখানা, ডিসি বাংলো, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের সংরক্ষিত যাদুঘর, কাপ্তাই হ্রদ ও সুভলং ঝর্ণা উল্লেখযোগ্য।

রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের বানিজ্যিক কর্মকর্তা মোঃ শাহাদাৎ হোসেন জানান, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঈদের পরদিন থেকে অর্ধ মাসব্যাপী আবাসিক মোটেলের প্রায় ৯০ ভাগ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। তাছাড়া ঈদ উপলক্ষ্যে পর্যটকদের জন্য ৩০ ভাগ ছাড় দিয়ে প্যাকেজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঝুলন্ত ব্রিজ দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় জমবে অগণিত মানুষের। কেবল রাঙামাটি সরকারি পর্যটন কমপ্লেক্সে টানা কয়েকদিন অবস্থান করবেন হাজার হাজার পর্যটক। এবারও ঈদকে সামনে রেখে পর্যটন খাতে বিপুল রাজস্ব আয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।


বিডি প্রতিদিন/০১ জুলাই ২০১৬/হিমেল-১৩

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow