Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ, ২০১৭

প্রকাশ : ২ জুলাই, ২০১৬ ১৩:৩৯
আপডেট :
৪ তোলা স্বর্ণ নিয়ে তান্ত্রিক সাপুড়ে উধাও!
বড়লেখা প্রতিনিধি:
৪ তোলা স্বর্ণ নিয়ে তান্ত্রিক সাপুড়ে উধাও!

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় গ্রামের সহজ-সরল এক নারীকে ধর্মের মা ডেকে অসুখ সারানোর নামে ৪ তোলা স্বর্ণ নিয়ে উধাও হয়ে গেছে মামুন নামের কথিত তান্ত্রিক সাপুড়ে। বুধবার (২৯ জুন) প্রতারণার শিকার সালিমা বেগম এলাকার লোকজনের কাছে প্রতারক সাপুড়ের ঘটনাটি বললে বিষয়টি বিভিন্ন মহলে জানাজানি হয়। গত ২৬ জুন উপজেলার তালিমপুর ইউনিয়নের তালিমপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের বাড়িতে এ ঘটনাটি ঘটে।
সূত্র জানায়, গত ২৫ জুন উপজেলার তালিমপুর গ্রামের গিয়াস উদ্দিনের বাড়ি থেকে সাপুড়ে মামুন কয়েকটি বিষাক্ত সাপ ধরে। পরদিন সে পুনরায় গিয়াস উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে গৃহকত্রী সালিমা বেগমকে ধর্মের মা ডেকে তার শরীরে বিভিন্ন কঠিন রোগ রয়েছে বলে জানায়। নিজেকে বড় তান্ত্রিক সাধক দাবি করে সাপুড়ে মামুন অসুখ সারানোর অনুমতি চায়। সরল বিশ্বাসে সালিমা বেগম ও তার স্বামী মামুনকে দিয়ে চিকিৎসা করাতে রাজি হন।
তখন সাপুড়ে মামুন জানায়, এ কঠিন রোগ সারাতে ৪ তোলা স্বর্ণ জোগাড় করতে হবে। কম কিংবা বেশি হলে হবে না। সাপুড়ের কথায় গৃহকর্তা ৪ তোলা স্বর্ণ যোগাড় করলে প্রতারক মামুন তাদের চোখ বন্ধ করতে বলে। এ সময় সে স্বর্ণগুলো একটি সাপের সাথে হাঁড়ির ভিতর বেঁধে রাখে। চোখ খোলার পর প্রতারক মামুন গৃহকর্তা ও গৃহকত্রীকে হাঁড়িটি ঘরের ভিতর রাখতে বলে। হাঁড়িটি ঘরে রাখার পর সাপুড়ে মামুন পরদিন হাড়ি থেকে সাপ বের করে দেবে ও স্বর্ণগুলো গৃহকর্তার হাতে তুলে দেওয়ার কথা বলে চলে যায়।
সোমবার (২৭ জুন) রাত পর্যন্ত সে ফিরে না আসায় সাপুড়ে মামুনকে ফোন দেয়া হলে সে তাদেরকে জানায়, সাপটি রাগ করেছে। সে আসলে তাকে মেরে ফেলবে। তাই তাড়াতাড়ি সাপ ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে। তার কথায় গিয়াস উদ্দিন ও তার স্ত্রী ঘর থেকে হাঁড়ি বের করে সাপটি ছেড়ে দেন। এরপর তারা স্বর্ণের সাথে বেঁধে রাখা পুঁটলি খোলে দেখেন তাতে স্বর্ণ নেই। স্বর্ণের বদলে রয়েছে পাথর। এরপর তারা নিশ্চিত হন প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
গৃহবধূ সালিমা বেগম জানান, আমাকে ধর্মের মা ডাকায় আমি সরল বিশ্বাসে স্বর্ণ দিয়ে দিই। আমরা যখন  চোখ বন্ধ রাখি তখন কৌশলে সে স্বর্ণগুলো সরিয়ে নেয়। তার দেওয়া মোবাইল ফোন নম্বরে ফোন করলে সে রিসিভ করে না।


বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow