Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২ জুলাই, ২০১৬ ১৬:৪০
আপডেট :
উন্নত চিকিৎসার জন্য
সাতক্ষীরার জখম পুরোহিতকে হেলিকপ্টারে ঢাকা আনা হয়েছে
মনিরুল ইসলাম মনি, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরার জখম পুরোহিতকে হেলিকপ্টারে ঢাকা আনা হয়েছে

ঝিনাইদহে মন্দিরের হিন্দু সেবায়েতকে হত্যার একদিন পরেই সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শ্রী শ্রী ব্রহ্মরাজপুর রাধা গোবিন্দ মন্দিরের পুরোহিত ভবসিন্ধু বরকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় মন্দিরের পাহারায় থাকা দুই গ্রাম পুলিশকে বেঁধে রাখে তারা। পুলিশ রক্তাক্ত জখম অবস্থায় পুরোহিতকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।  

পুরোহিতের ঘাড়ে, বুকে ও হাতে সহ শরীরের মোট চারটি স্থানে ধারালো অস্ত্রদিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালনো হয়েছে বলে জানান হাসপাতালের চিকিৎসকরা। তবে ৬ ঘণ্টা সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর আহত পুরোহিত ভবসিন্ধু বরের অবস্থার অবনতি হলে সকাল পৌনে ১১টায় তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হেলিকপ্টার যোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নেওয়া হয়।  

এসময় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন, পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীর পিপিএম বার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এএফএম এহতেশামুল হক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ আব্দুল সাদীসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আহত ভবসিন্ধু বরকে নিতে হেলিকপ্টারটি ঢাকা থেকে সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে পৌঁছায়।

আজ ভোর সাড়ে ৬ টার দিকে আহত পুরোহিত ভবসিন্ধু বরের খোজখবর নিতে খুলনা থেকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ছুটে আসেন পুলিশের খুলনা বিভাগের ডিআইজি এস এম মনিরুজ্জামান মনি। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া আহত পুরহিতের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাৎক্ষনিক উন্নত চিকিৎসাসেবার জন্য তিনি সরকারের উচচ পর্যায়ে কথা বলেন। দ্রুত চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য হেলিকপ্টারের ব্যাবস্থা করেন। সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমদাদ শেখ এ খবর নিশ্চিত করেছেন। তবে পুরোহিতের উপর হামলার ঘটনায় পুলিশ এখনো পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি।

আহত পুরোহিতের স্ত্রী সুমিত্রা বর এবং সাতক্ষীরা সদর থানার ওসি এমদাদ শেখ জানান, আজ শনিবার ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে  ৫/৬ জন দুর্বৃত্ত মন্দিরের পাহারায় নিয়োজিত দুই চৌকিদার বাবু ও ইউনুসের কাছ থেকে মোবাইল ও টর্চ লাইট কেড়ে নিয়ে মারধর করে তাদের রশি দিয়ে বেধে ফেলে। পরে তারা মন্দিরের একটি দরজা ভেঙ্গে ঘরে ঢুকে তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত্যু ভেবে ফেলে রেখে চলে যায়। এসময় পুরোহিত ভবসিন্ধু বরের স্ত্রী ও ছেলে জগনাথ বরের আত্মচিৎকারে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে এসে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ আহত অবস্থায় পুরোহিত ভবসিন্ধু বরকে (৫০) উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসে।  

 

বিডি-প্রতিদিন/ ০২ জুলাই, ২০১৬/ আফরোজ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow