Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ৪ জুলাই, ২০১৬ ১১:০৩
আপডেট :
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভিজিএফের চালে ভাগ বসিয়েছে চেয়ারম্যানরা
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভিজিএফের চালে ভাগ বসিয়েছে চেয়ারম্যানরা



চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেয়া দুঃস্থদের ভিজিএফের চালে ভাগ বসিয়েছে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানরা। ফলে চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু ওজনে কম দেয়ার মাধ্যমে ১৫ ইউনিয়নে প্রায় ১২৩.৬৭৫ মেট্রিক টন চাল আত্মসাৎ করা হয়েছে যার আনুমানিক মূল্য সাড়ে ২৯ লাখ টাকা।
জানা গেছে, উপজেলার ১৫ ইউনিয়নে ৪১ হাজার ২শ’ ৫৫ জন দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য ৮শ’২৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয় সরকার এবং মাথাপিছু ২০ কেজি করে চাল পাবার কথা। কিন্তু প্রতিটি ইউনিয়নেই দু:স্থদের মাঝে ২০ কেজির স্থলে নিম্নে ১৬ কেজি ও ঊর্ধ্বে ১৮ কেজি করে চাল বিতরণ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। চাল বিতরণে কোনো দাঁড়িপাল্লা বা ওজনের ডিজিটাল মেশিন ব্যবহার না করে এক ধরনের বালতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে বলা হচ্ছে বালতিতে ১০ কেজি করে চাল ওজন করা যায়। কিন্তু বাস্তবে ওই বালতি সম্পূর্ণ ভর্তি করলে ৮ থেকে ৯ কেজি চাল ধরবে। তবে বেশির ভাগই সম্পূর্ণ বালতি ভর্তি করা হচ্ছে না বলে দরিদ্ররা জানিয়েছেন।
মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর গ্রামের আফসার জানান, তিনি একটি কার্ডে ১৬ কেজি চাল পেয়েছেন। খড়িয়াল গ্রামের টিয়া আলী একটি কার্ডে ১৮ কেজি চাল পেয়েছেন বলে জানান। চককীর্তি ইউনিয়নের দুঃস্থরা জানান, তাদের ইউনিয়নে ১৭ কেজি করে চাল দেয়া হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে দুর্লভপুর, শ্যামপুর, বিনোদপুর, ছত্রাজিতপুর, উজিরপুর, পাঁকা, ধাইনগর, ঘোড়াপাখিয়া, দাইপুকুরিয়া, শাহাবাজপুর, মোবারকপুর, নয়ালাভাঙ্গা থেকেও। এ ছাড়া ভিজিএফ চাল বিতরণের জন্য কার্ড বিতরণেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী দুঃস্থদের নামের তালিকা করে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে কার্ড বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়া হয়। কিন্তু তা না করে চেয়ারম্যান, মেম্বারগণ তাদের পছন্দনীয় ব্যক্তিদের হাতে ৫ থেকে শুরু করে ১০, ২০, ৩০ এমনকি কাউকে কাউকে ৫০টি পর্যন্ত কার্ডও দেয়া হয়েছে। তারা এ সমস্ত কার্ডের চাল সম্পূর্ণ নিজেরাই আত্মসাৎ করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
চাল বিতরণের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে মনাকষা ইউপি চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন, দুর্লভপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু আহমেদ নজমুল কবির মুক্তা ও বিনোদপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোহবুল হক জানান, চাল আনতে গাড়ি ভাড়া ও গোডাউন থেকে চাল বের করার সময় কিছু চাল পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। তাই সামান্য কিছু কমিয়ে গড়ে ১৯ কেজি করে  চাল বিতরণ করা হয়েছে।

 


বিডি-প্রতিদিন/৪ জুলাই ২০১৬/শরীফ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow