Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ২৯ জুলাই, ২০১৭

ঢাকা, শনিবার, ২৯ জুলাই, ২০১৭
প্রকাশ : ৯ জুলাই, ২০১৬ ১৮:৪৭ অনলাইন ভার্সন
আপডেট :
বগুড়ায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে ইউপি চেয়ারম্যান নিহত
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া:
বগুড়ায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে ইউপি চেয়ারম্যান নিহত

দুর্বৃত্তদের গুলিতে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা তারাজুল ইসলাম নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর স্ত্রী শাপলা বেগমও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিনটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছেন।
শনিবার ভোর রাতে নিজ বাড়িতে শোবার ঘরে তিনি গুলিবিদ্ধ হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে তিনি মারা যান।
নিহত তারাজুল গাবতলী উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের আট বাড়িয়া গ্রামের জসমুতুল্লাহ মোল্লার ছেলে।
তারাজুল বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ছিলেন। বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের প্রস্তাবিত কমিটিতেও তার নাম রয়েছে বলে জানা গেছে। তিনি বগুড়া শহরের রহমান নগর এলাকায় বসবাস করেন। ঈদ উপলক্ষে তিনি গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন। খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, ইউপি চেয়ারম্যান তারাজুল ইসলাম গাবতলী উপজেলার আটবাড়িয়ায় তার গ্রামের বাড়িতে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত ৩টার দিকে অজ্ঞাত দুই ব্যক্তি চেয়ারম্যানের শয়নকক্ষের জানালায় আঘাত করতে থাকেন।
শব্দ পেয়ে চেয়ারম্যানের স্ত্রী শাপলা বেগম ঘুম থেকে জেগে জানালা খুলে দেন। এ সময় অজ্ঞাত ওই দুই ব্যক্তি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলতে চান। পরে চেয়ারম্যান তারাজুল ইসলাম বিছানা থেকে মাথা উঁচু করতেই দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে তিনি মাথায় গুলিবিদ্ধ হন।
দ্রুত তাকে প্রথমে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। এরপর সেখান থেকে হেলিকপটারে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসক অপারেশন করে তার মাথা থেকে গুলি বের করতে ব্যর্থ হন। এরপর লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় তারাজুল ইসলামকে। বিকেল তিনটার দিকে তিনি মারা যান।
 
গাবতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোমিনুল হক শিলু মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করেছেন।
তারাজুল ইসলাম ২৩ এপ্রিল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচনে আ'লীগ মনোনিত প্রার্থী হয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে চেয়ারম্যান নিবাচিত হন এবং শপথ নিয়েছেন। আগামী আগষ্টে তার সোনারায় ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল।
এ ব্যাপারে তারাজুলের বড় ভাই হাফিজার রহমান জানান, কারো সঙ্গে তাদের কোনো শক্রুতা নেই, কেন তার ভাই তারাজুলকে গুলি করা হলো তার কারণ তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না।
গাবতলী মডেল থানার ওসি শাহিদ মাহমুদ খান জানান, ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম রাঙ্গার সাথে তারাজুলের বিরোধ ছিল। এছাড়াও স্থানীয় পীরগাছা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে এবং গ্রামের একটি পুকুর লিজ নিয়েও চেয়ারম্যানের সাথে এলাকায় বিরোধ চলছিল। এ বিষয়গুলোকে সামনে রেখে তদন্ত চলছে।

বিডি-প্রতিদিন/ ০৯ জুলাই ১৬/ সালাহ উদ্দীন

 

আপনার মন্তব্য

up-arrow