Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১২ জুলাই, ২০১৬ ২২:০১
আপডেট :
সুন্দরবনের ৭ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ শুক্রবার
শেখ আহ্সানুর করিম, বাগেরহাট :
সুন্দরবনের ৭ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ শুক্রবার

সরকারের কাছে সাধারণ ক্ষমা চেয়ে বনদস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ বনদস্যু ইলিয়াছ ও মজনু বাহিনীর ৭ সদস্য। শুক্রবার সকালে মংলা বন্দরের বিএফডিসি জেটিতে বাহিনী প্রধান ইলিয়াছ ও মজনু তাদের সহযোগী ৭ দস্যুদের নিয়ে অস্ত্র-সস্ত্রসহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আত্মসমর্পন করবেন বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-০৮ এর অধিনায়ক লে: কর্ণেল ফরিদুল আলম।

এর আগে মংলায় গত ৩১ মে ৫২টি দেশী-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র ও ৫ হাজার রাউন্ড গুলি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন সুন্দরবনের বনদস্যু মাস্টার বাহিনীর প্রধান মাস্টারসহ ১০ বনদস্যু।

র‌্যাব-০৮ এর অধিনায়ক লে: কর্ণেল ফরিদুল আলম জানান, সুন্দরবনের বনদস্যু ইলিয়াছ ও মজনু বাহিনী বনদস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য ইতিমধ্যে তারা তাদের অস্ত্র-গোলাবারুদ র‌্যাবের কাছে জমা দিয়ে র‌্যাবের হেফাজতে রয়েছেন। বুধবার সকালে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের বিএফডিসি জেটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও র‌্যাবের মহা পরিচালকের উপস্থিতিতে এ দসুদের আত্মসর্মনের কথা থাকলেও তা পরিবর্তন করা হয়েছে।

শুক্রবার পূর্বঘোষিত স্থানেই ইলিয়াছ ও মজনু বাহিনীর ৭ সদস্য ১৭টি দেশী-বিদেশী আগ্নেয়াস্ত্র ও ২শ রাউন্ড গুলি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা। এর আগে গত ৩১ মে বনদস্যু মাস্টার বাহিনীর প্রধান মাস্টারসহ ১০ বনদস্যু প্রায় অর্ধশতাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ও  ৫ হাজার রাউন্ড গুলি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে তুলে দিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার ইলিয়াছ ও মজনু বাহিনীর ৭ সদস্যের আত্মসমর্পণের কথা থাকলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসূচী পিছিয়ে যাওয়ায় শুক্রবার এই আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান পূন:নির্ধারন  করা হয়েছে।

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় বর্তমানে সব থেকে বড় বনদস্যু দল হিসেবে দাঁপিযে বেড়ায় মজনু বাহিনী। এ বাহিনীর সদস্যরা প্রতিনিয়ত জেলে ও বনজীবীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছে। অন্যদিকে গোটা সুন্দরবনের দণ্ডমুণ্ডের কর্তা বনদস্যু রাজু বাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় টিকতে না পেরে বাহিনী প্রধান ভারতে আশ্রয় নিলে ওই বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড ইলিয়াজ নিজ নামে বাহিনী গোড়ে তোলে। ওই বাহিনীর সদস্যরা সুন্দরবন ও বঙ্গোপসাগর উপকূলে বনদস্যুতা চালিয়ে আসছিল। পরে ইলিয়াজও পালিয়ে গেলে তার বাহিনী অনেকটা দূর্বল হয়ে যায়।

এরপর বনদস্যু মজনু বাহিনী ও ইলিয়াজ বাহিনীর সদস্যরা র‌্যার সদস্যদের সাথে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পন করে প্রচলিত আইনে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানায়। এই অবস্থায় দুটি বনদস্যু সদস্যরা শুক্রবার সকালে বাগেরহাটের মংলার ফুয়েল জেটিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হাতে আগ্নেয়াস্ত্র-গোলাবারুদ জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করবে।

 

বিডি প্রতিদিন/ ১২ জুলাই ২০১৬/হিমেল-২২

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow