Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৩ মার্চ, ২০১৭

প্রকাশ : ১৪ জুলাই, ২০১৬ ১০:১৫
আপডেট :
শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া বাদ দিয়ে 'কামলা' দিতে বললেন স্যার!
সাখাওয়াত হোসেন সাখা, রৌমারী (কুড়িগ্রাম):
শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া বাদ দিয়ে 'কামলা' দিতে বললেন স্যার!
পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার পর বাইরে ঘোরাঘুরি করছে শিক্ষার্থীরা।

পরীক্ষার ফি, বেতন ও সেশন ফি না দেওয়ার অভিযোগে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা স্কুল এন্ড কলেজে মাধ্যমিক পর্যায়ের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় কেন্দ্র থেকে ৯ম ও ১০ম শ্রেণির সিংহভাগ শিক্ষার্থীকে বের করে দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। এতে পরীক্ষা দেওয়া হয়নি ওই শিক্ষার্থীদের। গতকাল বুধবার বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা শুরুর আগ মুহূর্তে এ ঘটনা ঘটে।

ওই প্রতিষ্ঠানের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আপেল মাহমুদ, লিমন মিয়া, নয়ন শিয়া, ১০ম শ্রেণির মিঠু মিয়া, শাকিল আহমেদ, ওমর ফারুক, এরশাদুল হক, রবিউল ইসলামসহ অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ভর্তির সময় আমাদের সেশন ফি নেওয়া হয়েছে অথচ আবারো সেশন ফি দাবি করছে স্যাররা। অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা ফি ৩০০ টাকা, সেশন ফি ৫০০ টাকাসহ সাতমাসের বেতন মোট ১৫০০ টাকার এক টাকাও কম নেয় না। বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা দেওয়ার জন্য কক্ষে বসেছি, এমন সময় স্যাররা আমাদের বের করে দেন। আমরা যারা সেশন ফি দেইনি তাদের পরীক্ষা নেওয়া হয়নি।

১০ম শ্রেণির ছাত্রী সুমনা পারভিনের বাবা আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ''আমার মেয়ের জন্য ৩০০ টাকা পরীক্ষার ফি দিয়েছি। তারপরও তাকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেয়নি। আমি স্কুলে গিয়ে স্যারদের বলেছি যে, সেশন ফি ও বেতনের টাকা পরে দিব। কিন্তু স্যাররা সেটা মানেননি। ''

১০ম শ্রেণির রিয়াজ মোর্শেদ অভিযোগ করে বলেন, ''৯ম ও ১০ম শ্রেণির ৩৫০জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩০০জনকেই কক্ষ থেকে বের করে দিয়েছেন শহীদুল ইসলাম স্যার। স্যার বলছে টাকা দিতে না পারলে লেখাপড়া বাদ দিয়ে কামলা দিবার যাও। ''

জানা গেছে, ৯ম ও ১০ম শ্রেণির প্রায় সাড়ে ৩শ' শিক্ষার্থী রয়েছে। এতে ৯ম ও ১০ম শ্রেণিতে পরীক্ষা ফি ধরা হয়েছে ৩০০ টাকা। আর ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণির জন্য ২৪০ টাকা হারে। সরকারি নিয়ম অনুসারে সর্বোচ্চ ৮০ টাকার বেশি পরীক্ষার ফি নেওয়া যাবে না। কিন্তু ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ নিয়ম বহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত ফি আদায় করছেন বলে অভিযোগ। এক শ্রেণিতে সেশন ফি তিনবার করে নেওয়া হয় বলে জানান শিক্ষার্থীরা। ভর্তির সময়, অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক পরীক্ষার সময় ওই ফি আদায় করা হয়।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সহকারি শিক্ষক শহীদুল ইসলাম বলেন, ''প্রধান শিক্ষক আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন যারা টাকা দিতে পারবে না, তাদের পরীক্ষা যেন না নেওয়া হয়। এ কারনে যাদের টাকা বাকি তাদেরকে কক্ষ থেকে বের করে দিয়েছি। ''

অধ্যক্ষ বদিউজ্জামান বলেন, ''সাড়ে ৩শ' শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৪২জন বেতন, সেশন ও পরীক্ষার ফি দিয়েছে। এ অবস্থায় আমরা পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তরপত্র কিনব কীভাবে। আমি কলেজে ছিলাম না। শুনেছি যে, যারা টাকা দেয়নি তাদেরকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এতে কোনো সমস্যা নেই, পরে তাদের পরীক্ষা নেওয়া হবে। ''

এক শ্রেণিতে তিনবার করে সেশন ফি নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ''একবারই আদায় করা যায় না। তিনবার করে আদায় করব কিভাবে?''

বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow