Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ১৪ জুলাই, ২০১৬ ১৫:১৯
আপডেট :
বড়পুকুরিয়া খনিতে কয়লা বিক্রি বন্ধ
রিয়াজুল ইসলাম, দিনাজপুর
বড়পুকুরিয়া খনিতে কয়লা বিক্রি বন্ধ

বড়পুকুরিয়া খনি ইয়ার্ডে মজুদ সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে আসায় ১৩ জুলাই হতে খনি কর্তৃপক্ষ কয়লা বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। কয়লার দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে এমন গুজবে গত সোমবার ও মঙ্গলবার দুদিনে প্রায় ৫২ হাজার টন কয়লা বিক্রি হয়ে যায়। এতে মোটা অংকের লাভের হিসাব গুনেছেন কতিপয় মৌসুমি ভূঁইফোঁড় কয়লা ব্যবসায়ী ও স্বল্পসংখ্যক ইট ভাটা মালিক।  

বর্তমানে খনি কোল ইয়ার্ডে পিডিবির কাছে বিক্রির জন্য মজুদ ৬২ হাজার মেট্রিক টন কয়লা ছাড়া বিক্রয়যোগ্য কয়লার মজুদ নেই।  

এদিকে, ফে’জ পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে কয়লা উৎপাদন বন্ধ থাকলেও আগামী ২৫ জুলাই পুনরায় কয়লা উত্তোলন শুরু সম্ভব বলে কয়লা খনির মহাব্যবস্থাপক আব্দুল মান্নান পাটোয়ারী জানান।

জানা গেছে, বড়পুকুরিয়ার কয়লা টন প্রতি ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হতো। গত বছর বেসরকারি পর্যায়ে ব্যবসায়ীরা বিপুল পরিমাণ কয়লা ভারত ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি করে তুলনামুলক কম দামে (৬-৮ হাজার টাকা প্রতিটন) দেশীয় বাজারে বাজারজাত করলে বড়পুকুরিয়ার কয়লা বিক্রি কমে যায়। এ অবস্থায় খনি কর্তৃপক্ষ দুই দফায় কমিয়ে প্রতিটন কয়লার মূল্য ৯ হাজার টাকা নির্ধারণ করে। কিন্তু আমদানি করা কয়লার চেয়ে দেশি কয়লার মান ভাল হওয়ায়ও দাম বেশির কারণে আশানুরুপ বিক্রি হচ্ছিল না।

এদিকে খনির কোল ইয়ার্ডে ধারণ ক্ষমতা আড়াই লাখ টনের বিপরীতে মজুদ দাঁড়ায় ৩ লাখ ৩২ হাজার টন কয়লা। এই মজুদ কয়লা নিয়ে খনি কর্তৃপক্ষ বিপাকে পড়ে। পরে গত ২২মে মূল্য আরেক দফা কমিয়ে ৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। এতে কয়লার বিক্রি কিছুটা বেড়ে যায়।

গত মে ও জুন মাসে ৯৮ হাজার টন কয়লা বিক্রি হয়। এ সময়ের মধ্যে পার্শ্ববর্তী ২৫০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহ করা হয় প্রায় ১ লাখ টন কয়লা। গত ১০ জুলাই পর্যন্ত মজুদ কমে দাঁড়ায় ১ লাখ ১৫ হাজার টন। এরমধ্যে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য ৬০-৬৫ হাজার টন মজুদ রেখে অবশিষ্ট কয়লা খোলা বাজারে বিক্রি করতে পারবে খনি কর্তৃপক্ষ।

কয়েকমাস পর ইট পোড়া মৌসুম শুরু হবে। সোমবার (১১ জুলাই) হঠাৎ গুজব ছড়িয়ে পড়ে খনি কর্তৃপক্ষ কয়লার দাম বৃদ্ধি করবে। এ গুজব ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইটভাটা মালিক ও কয়লা ব্যবসায়ীরা কয়লা কিনতে খনিতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। ফলে সোম ও মঙ্গলবার দু’দিনে প্রায় ৫২ হাজার টন কয়লা বিক্রি হয়। স্থানীয় ৭৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান কয়লাগুলো কিনে নেয়।

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার ইটভাটা মালিক মোস্তফা ফিরোজসহ এমবিএফ ব্রিকস, বিবিএম ব্রিকস, জেবিএম ব্রিকস, এসকে ব্রিকস, এমবিবি ব্রিকস মালিক পক্ষ সাংবাদিকদের জানায়, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টায় কয়লা কিনতে খনির গেটে গেলে তাদের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তাদের অভিযোগ স্থানীয় একটি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট খনি কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে দুদিনে মজুদ সব কয়লা কিনে নিয়েছে।
     
বড়পুকুরিয়ার কয়লা খনির মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) আব্দুল মান্নান পাটোয়ারী বলেন, ফে’জ পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে কয়লা উৎপাদন বন্ধ থাকলেও আগামী ২৫ জুলাই পুনরায় কয়লা উত্তোলন শুরু করা সম্ভব বলে তিনি আশা করেন।  

হঠাৎ কয়লা কেনার হিড়িক পড়ার কারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে কয়লার চাহিদা কম থাকায় কয়লা বিক্রি কমে যায়। এসময় সাধারন নিয়মে রিডাকশন মূল্যে কয়লা বিক্রি করা হয়ে থাকে।  

 

বিডি-প্রতিদিন/ ১৪ জুলাই, ২০১৬/ আফরোজ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow