Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : ১৫ জুলাই, ২০১৬ ১৫:৩৯
আপডেট :
যুবকদের নৈতিক অবক্ষয়
চৌদ্দগ্রামে নিয়ন্ত্রণহীন মাদক, রাঘব বোয়ালরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে
চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:
চৌদ্দগ্রামে নিয়ন্ত্রণহীন মাদক, রাঘব বোয়ালরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে

মাদক এক ভয়াবহ মরণ নেশা। সীমান্তবর্তী অধিকাংশ মানুষ কোন না কোনভাবে মাদকের সাথে জড়িত রয়েছে। মাদক ব্যবসা ও পাচার কাজে যুবক-যুবতী, নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব কোন ভেদাভেদ নাই। কিন্তু পাচার কাজে জড়িতরা আটক হলেও বরাবরই ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় রাঘব বোয়ালরা। ফলে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় কিছুতেই বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না মাদক ব্যবসা ও পাচার।

জানা গেছে, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৪৪ কিলোমিটার ভারতীয় সীমান্তের মধ্যে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভাসহ ৭টি ইউনিয়ন অবস্থিত। ইউনিয়নগুলো হলো-আলকরা, জগন্নাথদীঘি, চিওড়া, বাতিসা, ঘোলপাশা, কালিকাপুর ও উজিরপুর। এসব ইউনিয়নের এক তৃতীয়াংশ গ্রাম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পূর্ব পাশে তথা ভারতীয় সীমানার পশ্চিম পাশে রয়েছে। সীমান্তবর্তী এই গ্রামগুলোতে স্বাভাবিকভাবে মাদকদ্রব্য ব্যবসা ও পাচার সহজলভ্য হওয়ায় ওই এলাকার অধিকাংশ বেকার যুবক নৈতিক অবক্ষয় এবং সঙ্গত কারণে মাদকের সাথে জড়িয়ে পড়ে। কোন কোন ব্যবসায়ী আবার বেকারত্বের সুযোগে যুবকদের মাদক ব্যবসা ও নেশার সাথে জড়িত করে বলেও অনেকে অভিযোগ করেছেন।  

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে মাত্র ২’শ গজ থেকে ৩ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে ভারতীয় সীমানা। ফলে মাদক ব্যবসায়ীরা উন্নতমানের গাড়ি ব্যবহার করে সহজেই মাদক পাচার করে। মাদক পাচারের অন্যতম রুট হলো; দত্তসার, কাইচ্ছুটি, সোনাইছা, সাতঘড়িয়া, বেতিয়ারা, সোনাপুর, কেছকিমুড়া, ডিমাতলী, সুজাতপুর, দূর্গাপুর, কালিকাপুর, চন্ডিপুর, লক্ষীপুর, রামরায়গ্রাম, বীরচন্দ্রনগর, আমানগন্ডা, বাবুর্চি, শিবের বাজার, চকলক্ষীপুর, চান্দশ্রী রোড।  

আইনশৃংখলা বাহিনী খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই মাদক ব্যবসায়ীরা পালিয়ে যায়। সেজন্য চৌদ্দগ্রামের সর্বত্র মাদক নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে। গত এক বছরে চৌদ্দগ্রাম সীমান্ত দিয়ে প্রায় চল্লিশ কোটি টাকা মূল্যের ফেনসিডিল, গাঁজা ও হুইস্কিসহ বিভিন্ন প্রকার মাদক পাচার হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।  

অভিযোগ উঠেছে, বিএসএফ ও বিজিবির কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা নিয়মিত মাসোহারা নিয়ে চোরাকারবারিদের মাদক পাচার কাজে সহযোগিতা করে। বিজিবি নির্দিষ্ট ফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকায় মাদকের খবর পেলে মাদক ব্যবসায়ীকে অভিযানের পূর্বে আগাম জানিয়ে দিয়ে মাদক সরিয়ে রাখতে বলে। অবশ্য কোম্পানী সদর থেকে বিজিবি সদস্য গিয়ে মাদক উদ্ধারের ঘটনা এখন রীতিমত লক্ষ্য করা যায়। তবে বিজিবি মাদক ও পাচারকারী ছাড়া কোন ব্যবসায়ীকে আটক করতে পারেনি।
 
নাম প্রকাশ না করা শর্তে সীমান্তবর্তী বেশ কয়েকজন মানুুষ জানায়, থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও র‌্যাব মাঝে মাঝে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করলেও কয়েকদিন পর আদালত থেকে তারা জামিনে বেড়িয়ে এসে আবার মাদক ব্যবসা শুরু করে। ফলে সবসময় মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।

অভিজ্ঞ মহল জানান, মাদক ব্যবসায়ী ও পাচারকারীদের অভিভাবকরা সচেতন হলে এবং আদালত তাদের জামিনের ব্যাপারে আরও একটু কঠোর হলে মাদক ব্যবসা অনেকাংশে বন্ধ করা সম্ভব হবে।

এ ব্যাপারে শুক্রবার বিজিবির আটগ্রাম কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার আমিনুল ইসলাম বিজিবির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে বলেন, ‘মাদক সকলের জন্যই ক্ষতিকর। তাই মাদক ব্যবসায়ী ও পাচারকারীদের সাথে বিজিবির কোন আপোষ নেই। প্রতিদিনই কোন না কোন এলাকা থেকে মাদক আটক হচ্ছে। তবে মাদকের বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার হতে হবে। ' মাদক পাচারের তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সকলের নিকট আহবানও জানান।

 

বিডি প্রতিদিন/১৫ জুলাই ২০১৬/হিমেল-০৪

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow