Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : ১৫ জুলাই, ২০১৬ ১৭:৫০
আপডেট :
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩ ইউনিয়নে পদ্মার ভাঙন
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩ ইউনিয়নে পদ্মার ভাঙন

উজান থেকে ধেয়ে আসা ঢলে পদ্মার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩টি ইউনিয়নে শুরু হয়েছে তীব্র ভাঙন। এতে হুমকির মুখে পড়েছে ২১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পদ্মা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্প। চরবাগডাঙ্গা ইউপির চেয়ারম্যান মোঃ ওমর আলী জানান, গত এক সপ্তাহে নদী ভাঙনে প্রায় ৪০টি বসত বাড়িসহ প্রায় ১শ' বিঘা ফসলি জমি ও আম বাগান বিলীন হয়ে গেছে।  

এছাড়া ভাঙ্গন আতঙ্কে মানুষজন বাড়ি ঘর ভেঙ্গে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। ইতিমধ্যে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা। জানা গেছে, প্রায় দেড় দশক আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও শিবগঞ্জে পদ্মার ভাঙন শুরু হলে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ, ব্রিজ, কালভার্ট নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। বসতবাড়ি, আম বাগান ও ফসলি জমি হারিয়ে হাজার হাজার মানুষ নিঃস্ব হয় । এ সময় স্থানীয়ভাবে নদী ভাঙন প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে আন্দোলন শুরু হলে সরকার ২০০২ সালে প্রায় ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মা নদীতে স্পার নির্মাণ করে।  

কিন্তু অপরিকল্পিত ডিজাইন ও সঠিক সিদ্ধান্তের অভাবে কাজ চলাকালীন সময়েই স্পারগুলো ভেঙ্গে নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। পরবর্তীতে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট নকশা পরিবর্তন করে প্রায় ২১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পদ্মার বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের কাজ শুরু করে।  

এরই অংশ হিসেবে সদর উপজেলার সুন্দরপুর ও চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ৮, ৯ ও ১০ নং বাঁধ নির্মাণের পর নিম্নমানের কাজের কারণে গত বছর বাঁধের ২টি স্থানে ধ্বস ও ৬টি স্থানে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এমনকি ১০ নং বাঁধের শেষ মাথা হতে ভাটিতে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়। এতে পুরো বাঁধের ভবিষ্যত নিয়ে শঙ্কা দেখা দিলে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত ৬টি স্থানের মেরামতের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে কার্যাদেশও দেয়।  

এছাড়া এই প্রকল্পের আওতায় ১০ নং বাঁধের শেষ মাথা হতে আরও ২২শ' মিটার দীর্ঘ বাঁধ নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বর্ষা শুরু ও পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এ মেরামত কাজের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।  

অন্যদিকে, চলতি বছর পদ্মার পানি বাড়ার সাথে সাথে চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের বাখর আলী ও রোডপাড়া, সুন্দরপুরের চন্দ্রনারায়ণপুর ও নারায়ণপুরের আলিমনগর এলাকায় তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। হুমকির মুখে পড়েছে চরবাগডাঙ্গার মালবাগডাঙ্গা, গোয়ালডুবি, কাইরাপাড়া গ্রামসহ ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। চরবাগডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান ওমর আলী জানান, পদ্মায় পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে গত ১ সপ্তাহ ধরে নতুনভাবে ১.৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙন দেখা দেয়ায় এলাকার মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় ১শ' বিঘা আম বাগানসহ ধানি জমি বিলীন হয়ে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নিতে পারলে পদ্মার বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পই ভেস্তে যেতে পারে।  

এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম জানান, ইতোমধ্যে ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ভাঙনের তীব্রতা আরও বাড়লে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

বিডি প্রতিদিন/১৫ জুলাই ২০১৬/হিমেল-১২

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow