Bangladesh Pratidin

ঢাকা, বুধবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : ১৮ জুলাই, ২০১৬ ১৭:০৬
আপডেট : ১৮ জুলাই, ২০১৬ ১৮:০৭
টাঙ্গাইলের সেই শ্রমিক লীগ নেতা আব্বাস কারাগারে
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের সেই শ্রমিক লীগ নেতা আব্বাস কারাগারে

টাঙ্গাইলের মূর্তিমান আতংক হিসেবে পরিচিত সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলীর জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছেন আদালত। আজ সোমবার সকালে একটি মামলায় আব্বাস আলী আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে টাঙ্গাইল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতের বিচারক গোলাম কিবরিয়া তার জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপনের দায়েরকৃত জমি দখলের একটি মামলায় আব্বাস আলী গ্রেফতারের ভয়ে পলাতক ছিলেন।

রাতারাতি হোটেল বেয়ারা থেকে কোটিপতি বনে যাওয়া শ্রমিক নেতা আব্বাস আলী ও তার সহযোগিদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি ও জমি দখলে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠে টাঙ্গাইলের সাধারণ মানুষ। টাঙ্গাইলে আলোচিত খান পরিবারের ৪ ভাইয়ের সার্বিক সহযোগিতায় আব্বাস আলী শহরের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি, জমি দখলসহ বিভিন্ন অপকর্ম চালিয়ে যান। ৪ ভাইয়ের আশির্বাদ নিয়েই গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান পদে জয়ী হন আব্বাস আলী। ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন তিনি। শুধু অন্যের জমি দখল করেই ক্ষ্যান্ত ছিলেন না আব্বাস আলী। শহরের নিরালার মোড়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ নির্মানের জন্য নির্ধারিত পৌরসভার জমিও দখল করে শ্রমিক লীগের কার্যালয় বানান আব্বাস আলী। তার ছিল বিশাল ক্যাডার বাহিনী। বর্তমানে আব্বাস আলীর দখলে রয়েছে শতাধিক একর জমি। এর মধ্যে পৌর এলাকার ভাল্লুককান্দি এলাকায় ১২ শতাংশ জমির ওপর নির্মান করা হয়েছে বহুতল ভবন।

এদিকে খান পরিবারের ৪ ভাই মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় শহর ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর গত ২০১৪ সালের অক্টোবর মাসের এক রাতে শ্রমিক লীগের দপ্তর সম্পাদক আমিনুল ইসলাম স্বাধীন ও ইমরানকে ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে। তাদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক শ্রমিক লীগ কার্যালয়ের পাশ থেকে বিপুল পরিমান দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এর পর থেকেই শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলী গ্রেফতারের ভয়ে আত্মগোপনে চলে যান।
সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলীর বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল মডেল থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি ও জমি দখলসহ অন্তত ১০টি মামলা রয়েছে।


বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow