Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ২০ জানুয়ারি, ২০১৭

প্রকাশ : ১৮ জুলাই, ২০১৬ ১৮:০০
আপডেট :
দিনাজপুরে কলেজে ভর্তির দাবিতে ছাত্রীদের বিক্ষোভ, অধ্যক্ষ অবরুদ্ধ
দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরে কলেজে ভর্তির দাবিতে ছাত্রীদের বিক্ষোভ, অধ্যক্ষ অবরুদ্ধ

একাদশ শ্রেণী প্রথম বর্ষে ভর্তির দাবিতে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বিক্ষোভ করেছে ভর্তি ইচ্ছুক ছাত্রীরা। এ সময় তারা কলেজের অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখে। সোমবার দুপুর ১টার দিকে বীরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রী কলেজে এ ঘটনা ঘটে।

সংবাদ পেয়ে দুপুর ৩টায় ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে আন্দোলনরত ছাত্রীদের সমস্যা  সমাধানের আশ্বাস দিলে ছাত্রীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে। এদিকে ১৫০ জন ছাত্রীর শিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে অভিভাবকরাও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে বলে তারা জানিয়েছে।  

বীরগঞ্জ থানার এএসআই মোঃ মশিউর রহমান জানান, অপেক্ষমান তালিকায় থাকা ১৫০ জন ছাত্রী ভর্তির দাবিতে সোমবার দুপুরে বীরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রী কলেজে বিক্ষোভ করে এবং অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে ওসি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।  

ভর্তি ইচ্ছুক ছাত্রী মোছাঃ আসমা আক্তার জানান, বীরগঞ্জ উপজেলার ভোগনগর ইউনিয়নের কবিরাজহাট বালিকা বিদ্যালয় হতে ৩.৫০ পয়েন্ট পেয়ে এসএসসি পাশ করেন তিনি। সরকারী ঘোষণা অনুযায়ী ভর্তির আবেদন করেন। ভর্তি আবেদনের ফলাফলে বীরগঞ্জ মহিলা কলেজে অপেক্ষমান তালিকায় তার নাম আসে। সে তালিকা অনুযায়ী শেষ সময় ২৫ জুন ভর্তির জন্য যোগাযোগ করলে কলেজ কর্তৃপক্ষ ঈদের পর ভর্তি করা হবে বলে জানায়। ঈদের ছুটির পর কলেজে কার্যক্রম শুরু হলে ভর্তির জন্য যোগাযোগ করা হলে কর্তৃপক্ষ আসন খালি নেই বলে জানান এবং শিঘ্রই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে আশ্বাস দেন। কিন্তু তারা সোমবার পর্যন্ত ভর্তি হতে পারিনি। এদিকে সব কলেজে ক্লাস শুরু হলেও তাদের ভর্তি নিয়ে প্রতিদিন ঘুরানো হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে তারা আন্দোলনে নেমেছেন।

একই অভিযোগ করে সাথী আক্তার জানান, 'বীরগঞ্জ’র নিজপাড়া ইউনিয়নের কল্যাণী উচ্চ বিদ্যালয় হতে ৩.৬১ পয়েন্ট পেয়ে এসএসসি পাশ করেছি। অপেক্ষমান তালিকায় থাকার পরও অজ্ঞাত কারণে ভর্তি হতে পারছিনা। এখন আমাদের শিক্ষা জীবন অন্ধকার। এখন আমরা কি করবো। এই ১৫০ জন ছাত্রীর এখন কি হবে। '

ভর্তি ইচ্ছুক সুমি আক্তারের বাবা মোঃ শাহজাহান আলী জানান, মেয়েকে ভর্তি করা নিয়ে মহাবিপদে পড়েছেন তিনি। কলেজের কথায় কোন ভরসা পাচ্ছেন না। প্রতিদিন ঘোরানো হচ্ছে। ছেলে হলে এতটা টেনশন ছিল না কিন্তু মেয়ে নিয়ে এখন কি করবেন এমন প্রশ্ন ছুড়ে দেন সংবাদকর্মীদের কাছে।

বীরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, সরকারী নিয়ম অনুযায়ী এই কলেজে কলা, বানিজ্য ও বিজ্ঞান শাখায় ১৫০টি করে আসন বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী এ পর্যন্ত কলা বিভাগে ভর্তি হয়েছে ১৫০ জন শিক্ষার্থী, বানিজ্য বিভাগে ভর্তি হয়েছে ৬৮ জন শিক্ষার্থী এবং বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছে ২৬ জন। এ দিকে ভর্তি ফলাফল ঘোষনার সময় এই কলেজে কলা শাখা অপেক্ষমান তালিকায় ৫০৩টি আসন রাখা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে অপেক্ষমান তালিকায় কলা শাখায় আমাদের মাত্র ১০টি আসন বরাদ্ধ দেওয়া হয়। আমরা কলেজের পক্ষ হতে অন্যান্য শাখার শুন্য আসনগুলি কলা শাখায় স্থানান্তরের জন্য আবেদন করেছি। অনুমোদন পেলেই ভর্তি ইচ্ছুক ছাত্রীদের আর কোন অসুবিধা হবে না।

বীরগঞ্জ থানার ওসি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আমরা তাৎক্ষণিক ভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। বিষয়টি নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসন মিলে সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।  


বিডি প্রতিদিন/১৮ জুলাই ২০১৬/হিমেল-১৪

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow