Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২১ জুলাই, ২০১৬ ১৪:০৯
আপডেট :
নারী মুক্তিযোদ্ধা শিরিন বানু মিতিল আর নেই
পাবনা প্রতিনিধি
নারী মুক্তিযোদ্ধা শিরিন বানু মিতিল আর নেই

পাবনা জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি, বামপন্থী নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা শিরিন বানু মিতিল আর নেই। বুধবার দিবাগত রাতে তিনি জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে গুর’তর অসুস্থ অবস্থায় তাকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৬৫ বছর।

মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা মহীয়সী এই নারীর জন্ম ১৯৫১ সালের ২ সেপ্টেম্বর পাবনা জেলায়। বাবা খোন্দকার শাহজাহান মোহাম্মদ ও মা সেলিনা বানু। বাবা ছাত্রজীবনে ও ১৯৫২ সাল পর্যন্ত কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মা পাবনা জেলার ন্যাপ সভানেত্রী এবং ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারের এমপি ছিলেন। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম হওয়ার ফলে নিজেও ছিলেন রাজনীতি সচেতন। ছোটবেলা থেকেই ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পরেন তিনি।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি পাবনা এডওয়ার্ড কলেজের বাংলা (সম্মান) বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ছিলেন। এছাড়াও ১৯৭০-১৯৭৩ সাল পর্যন্ত পাবনা জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভানেত্রী এবং কিছু সময়ের জন্য পাবনা জেলা মহিলা পরিষদের যুগ্ম সম্পাদিকা ছিলেন।

তার মৃত্যুতে পাবনা জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল ইসলাম রবি আক্ষেপ করে বলেন, মিতিলের মত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা ও তালিকায় নাম স্থগিত করে রাখা তার অবদানকে অস্বীকার করার শামিল। এটা অন্যায় ও জাতির জন্য চরম লজ্জার। আর তথ্য বাতায়নের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংশোধনের জন্য বার বার তাগিদ দিয়েও কোনো লাভ হয়নি।

জেলা গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি ও সাবেক ছাত্র ইউনিয়ন নেতা সুলতান আহমেদ বুরো ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,  মুক্তিযুদ্ধের প্রচলিত ইতিহাস চর্চায় বামপন্থীদের অবদানকে সব সময়ই আড়াল করার চেষ্টা হয়েছে। শিরিন বানু মিতিলও তার বাইরে নন। শেষ বিদায়ে তাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেয়া না হলেও অবাক হওয়ার কিছুই নেই।

এদিকে, শিরিন বানু মিতিলের মৃত্যুতে জেলার মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

 

বিডি-প্রতিদিন/২১ জুলাই ২০১৬/শরীফ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow