Bangladesh Pratidin

প্রকাশ : ২২ জুলাই, ২০১৬ ১৭:৫৭
আপডেট : ২২ জুলাই, ২০১৬ ১৮:০৫
তিস্তা পাড়ের মানুষের দুর্বিষহ জীবন যাপন
নীলফামারী প্রতিনিধি:
তিস্তা পাড়ের মানুষের দুর্বিষহ জীবন যাপন

বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায়। গেল এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে তিস্তা অববাহিকায় সাতটি ইউনিয়নের অন্তত ২৫ হাজার মানুষ। চার দফায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানির তোরে ভেসে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম।  

ডিমলা উপজেলার ছয়টি এবং জলঢাকা উপজেলার একটি ইউনিয়ন মধ্যে সবচেয়ে বিপাকে রয়েছেন ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চারটি ওয়ার্ডের অন্তত পাঁচ হাজার পরিবার। বাংলাদেশ-ভাতর সীমান্ত রেখা সংলগ্ন টেপাখড়িবপাড়ি ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ি গ্রামে তিস্তা নদীর বাম তীর উজানের তোড়ে ভেঙ্গে নতুন চ্যানেল তৈরি হওয়ায় গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে তিস্তা নদীর।

তিস্তা গ্রাস করেছে ২ হাজার ২০০ একর আবাদি জমি, ৫শ' বসত বাড়ি, ৫টি বিদ্যালয়, ৫টি ছোট বড় সেতু আর দুটি কমিউনিটি ক্লিনিক। নিত্য নতুন এলাকায় পানি প্রবেশ করায় দিক-বিদিক ছোটাছুটি করছেন বন্যাকবলিত অসহায় মানুষরা।

টেপাখড়িবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়েল প্রধান শিক্ষক ফাতেমা বেগম জানান, বিদ্যালয়ের ৯শ' ফিট জায়গা নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাওযায় স্কুলটি রক্ষাই এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাক্তিগত উদ্যোগে রক্ষার চেষ্টা করা হলেও সেটি সম্ভব হচ্ছে না। পাঠদানের উপযোগী না হওয়ায় আপাতত তা বন্ধ রয়েছে।

ইউনিয়নের চারটি ওয়ার্ডেও সহশ্রাধিক পরিবার জীবন রক্ষার তাগিদে বাঁধ, গ্রোয়েন,স্পারসহ বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। নদী তৈরী হওয়ায় শেষ ঠিকানা হারিয়ে বসতঘর আর গরু ছাগল নৌকায় নিয়ে উচু স্থানে যাচ্ছেন বন্যা কবলিতরা।

টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের ঝিঞ্জিরপাড়া গ্রামের শিক্ষক ইউসুফ আলী জানান, বন্যা কবলিতরা ত্রাণ চান না। তাদের দাবি হাজার হাজার মানুষকে রক্ষায় এখন প্রয়োজন নতুন চ্যানেলের মুখে স্থায়ী বাঁধ। তা না হলে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে হাজার হাজার একর জমি। মানুষ হারাবেন তাদের শেষ ঠিকানাটি। পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রভাষক আব্দুল লতিফ খান বলেন, বন্যা দুর্গতদের জন্য সরকারীভাবে যে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। তা দিয়ে চাহিদা পূরন হচ্ছেনা। বন্যা দুর্গতদের জন্য আরও বেশি ত্রাণের প্রয়োজন।

টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন জানান, পানির কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে পুরো এলাকা। মানবেতর জীবন যাপন করছে কয়েক হাজার পরিবার। হুমকির মুখে পড়েছেন বন্যাকবলিত মানুষরা। অতিদ্রুত বাঁধ নির্মানের জন্য সরকারের কাছে কয়েক হাজার পরিবার আবেদন জানিয়েছেন। হুমকির মুখে পড়েছেন বন্যাকবলিত মানুষরা। অতিদ্রুত বাঁধ নির্মাণের জন্য সরকারের কাছে জোড় দাবি জানান তিনি।

ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, বাংলাদেশ-ভারত যৌথ সংলগ্ন এলাকায় ৩৬৫ মিটার বাঁধ নির্মাণে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন করে আরও ২৬৫ মিটার বাঁধ নির্মানের প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। পাস হয়ে আসলে বর্ষা মৌসুমের পর সেখানে কাজ শুরু করা হবে।

এদিকে ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার সাত ইউনিয়নে শুক্রবার পর্যন্ত ৬৮ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৩ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে বন্যা কবলিতদের মাঝে। এছাড়া নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকারের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে নগদ টাকা শাড়ি কাপড় বিতরণ করা হয়েছে দুর্গত মানুষদের মাঝে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ তাজুল ইসলাম জানান, ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি, খগাখড়িবাড়ি, খালিশা চাপানি গয়াবাড়ি পূর্ব ছাতনাই ঝুনাগাছ চাপনী এবং জলঢাকা উপজেলার শৌলমারী ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষ বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছেন।

 

বিডি প্রতিদিন/ ২২ জুলাই ২০১৬/হিমেল-১৬

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow