Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:৩৪
টাঙ্গাইলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে চলেছে সরকার দলীয় চেয়ারম্যান হযরত তালুকদার। তার ভয়ে কেউ কিছু বলতে সাহস পাচ্ছে না।

গত ৬ মাস পূর্বে স্থানীয় প্রশাসন ওই উপজেলার বঙ্গবন্ধু সেতু সংলগ্ন বেলটিয়া এলাকায় যমুনা নদী থেকে অবৈধ ভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করার সময় অভিযান চালিয়ে তা বন্ধ করে দেয়। সেই সাথে দুইটি ড্রেজার পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এ সময় হযরত তালুকদার ও তার সহযোগীরা খবর পেয়ে পালিয়ে যায়। এর পর থেকে ৫ মাস বালু উত্তোলন বন্ধ থাকার পর পুনরায় একমাস ধরে বালু উত্তোলন শুরু করেছে তারা। এ কারণে এবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো নতুন করে ভাঙ্গনের শিকার হয়ে নি:স্ব হতে চলেছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বেলটিয়া এলাকায় যমুনা নদীর পার ঘেষে অবৈধভাবে দুইটি ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। সেখানে কয়েকজন শ্রমিকের সাথে কথা হলে তারা জানান, বেশ কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর চেয়ারম্যানের নির্দেশে গত এক মাস যাবৎ বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আর সেখানে থেকে প্রতিদিন শতশত ট্রাক বালু যাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। ফলে নদী ভাঙ্গনের সাথে চরম হুমকির মুখে রয়েছে ট্রাক যাতায়াতকারী রাস্তার উপর দিয়ে যাওয়া গ্যাস পাইগুলো।

স্থানীয় এলাকার মজিবর রহমান ও আনসার আলী জানান, তাদের বাড়ি ছিল নদী থেকে এক থেকে আধা কিলোমিটার দূরে। এখন এভাবে বালু উত্তোলন করার কারণে নদী একেবারে বাড়ির কাছে এসে পড়েছে। একই সাথে যে রাস্তা দিয়ে বালু ট্রাক ভর্তি করে নেয়া হয় সেই রাস্তার উপর দিয়ে গ্যাস পাই বসিয়ে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়েছে। সেটিও এখন হুমকির মুখে। বার বার নিষেধ করেও কোন লাভ হয়নি। উল্টো হুমকির সম্মুখিন হতে হয়েছে তাদের।

এদিকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিষয়টি অস্বীকার করে হযরত তালুকদার বলেন, এই বালুর ঘাটটি সরকারিভাবে লিজ নেয়া হয়েছে। আর আমি বৈধভাবেই বালু উত্তোলন করছি।

এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু নাসার উদ্দিন জানান, কালিহাতীতে কোন সকরারি বালুর ঘাট বা মহাল নেই। ইতিপূর্বে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে হযরত তালুকদারের বালুর ঘাট বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। সেই সাথে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত দুইটি ড্রেজার আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। তবে এখন আবার তারা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে কি-না আমার জানা নেই। তবে যদি তারা বালু উত্তোলন করে থাকে তাহলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

বিডি প্রতিদিন/৪ সেপ্টেম্বর ২০১৬/এ মজুমদার

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow