Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২১:০০
ঠাকুরগাঁও কারাগারে বন্দীদের মানবেতর জীবন
আব্দুল লতিফ লিটু ঠাকুরগাঁও:
ঠাকুরগাঁও কারাগারে বন্দীদের মানবেতর জীবন

ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে ধারণ ক্ষমতার প্রায় ৪ গুণ বেশি বন্দী থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন কয়েদি ও হাজতিরা। খাবার জোগাড় হলেও থাকার জায়গা মিলছে না অনেকের। গাদাগাদি করে অবস্থান করায় অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তারা।  

সম্প্রতি পুলিশের বিশেষ অভিযানে অধিক সংখ্যক আসামি ও অপরাধী ধরা পড়ায় ও ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জেলা কারাগারের আবাসিক সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। অতিরিক্ত বন্দীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।  এ অবস্থায় জেলা কারাগারে বন্দীদের জন্য নতুন করে কারাগার নির্মাণের প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, ব্রিটিশরা ১৮৯২ সালে বর্তমান ঠাকুরগাঁওয়ে একটি উপ-কারাগার স্থাপন করে। পরে ১৯৮৪ সালে তৎকালীণ সরকার এটিকে জেলা কারাগারে রূপান্তর করে। শত বছর পূর্ণ হয়ে বর্তমানে বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে কারাগারটি।  যেকোনো সময় হুড়মুড় করে ধসে পড়তে পারে বলে কারাগারে আটক বন্দীরা আশঙ্কা করছেন। তারপরও জরাজীর্ণ এ ভবনে চলছে বন্দিদের বসবাসসহ সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম।   

জেলখানায় খাবারের মান খুবই নিম্নমানের বলে জানিয়েছেন একাধিক হাজতি। তবে কারা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, বন্দীদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।

ঠাকুরগাঁও জেলখানার জেলার নাজিম উদ্দিন জানান, বন্দীদের সকালে রুটি ও গুড়, দুপুরে সবজি-ডাল-ভাত এবং রাতে সবজি-ডাল-ভাত-মাছ বা মাংস খেতে দেয়া হয়। বন্দীরাও জেলারের কথা অস্বীকার করেননি। তবে তাদের অভিযোগ খাবারের মান নিয়ে। একাধিক বন্দী জানান, খাবারের তালিকায় মাছের যে সাইজ উল্লেখ থাকে তা দেয়া হয় না।  

সম্প্রতি, জেল থেকে মুক্তি পাওয়া বন্দী মিজানুর রহমান জানান, তিনি ৯ মাস জেল খেটেছেন। আবাসন সংকটের কারণে কোনোদিন সোজা হয়ে ঘুমাতে পারেননি।   

একইভাবে দু’বছরের অভিজ্ঞতার কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছু এক রাজনৈতিক নেতা জানান, একদিকে যেমন আবাসন সংকট, অন্যদিকে পানি ও স্যানিটেশনের সমস্যা রয়েছে কারাগারটিতে। একবার টয়লেটে যেতে হলে এক থেকে দেড়ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াতে হয়, যা খুবই অমানবিক।   

এদিকে, বন্দীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসে হয়রানির শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন আসামিদের স্বজনরা। তারা বলেন, আসামিদের ভালোভাবে কথা শোনা যায় না। কিন্তু কারারক্ষীদের সাহায্য চাইলে তারা আইনের বিভিন্ন অজুহাত তুলে ধরেন। কিন্তু প্রলোভন দেখালে তারা সব আইনের কথা ভুলে যান। পরে দ্বিতীয়বারও দেখা করার ব্যবস্থা করে দেন তারা।  যদিও কারারক্ষীরা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

প্রাচীন এই কারাগারটিতে ১৬৮ জন বন্দী থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। অথচ বুধবার পর্যন্ত ৩৩৩ জন এই কারাগারে অবস্থান করছেন। ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে ১৬৮ জন বন্দী থাকার জন্য বর্তমানে ৬টি ব্যারাক ও ১টি নারী ব্যারাক রয়েছে। এর বাইরে একটি হাসপাতালে ১০ জন বন্দীর থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। কারাগারে বর্তমানে কোন বিদেশি বন্দি নেই। কেউ যদি জামিন নিতে না পারে, তাদের জন্য একটি বেসকারী সংগঠন প্যারালিগাল এইড কাজ করে যাচ্ছে কারাগারের সামনে।

ঠাকুরগাঁও কারাগারের জেলার নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘কারাবিধি অনুযায়ী একজন বন্দীর জন্য ৩৬ বর্গফুট আয়তন, ফাঁসির আসামির জন্য ৫৪ বর্গফুটের সেল এবং বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ও হাজতির জন্য ২৪ বর্গফুট স্থান বরাদ্দ দেয়ার কথা। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় আবাসন সংকট এখানে চরম আকার ধারণ করেছে। ’

ঠাকুরগাঁও জেল সুপার বিতান কুমার মন্ডল জানান, ঠাকুরগাঁও শহরের জগন্নাথপুর এলাকায় ১৫ একক জমির উপর শিগগিরই নতুন কারাগারের নির্মাণকাজ শুরু হবে। ইতিমধ্যে কারাগারের জমির অধিকরণের কাজ চলছে। কারগারটি নির্মাণ হলে আবাসন সংকট আর দেখা দিবে না।

বিডি-প্রতিদিন/০৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬/মাহবুব

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow