Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২১:৫৫
এক মাসে ৫ কোটি টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ
চৌদ্দগ্রাম সীমান্তে বেপরোয়া চোরাচালানকারীরা
চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি


চৌদ্দগ্রাম সীমান্তে বেপরোয়া চোরাচালানকারীরা
প্রতীকী ছবি

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ৪৩ কিলোমিটার ভারতীয় সীমান্তে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চোরাচালানকারীরা। এ সীমান্তের অন্তত ৩০টি রুট দিয়ে প্রতিদিন মাদকসহ বিভিন্ন ভারতীয় পণ্য অবৈধ পথে বাংলাদেশে আসছে। মাঝে মধ্যে বিজিবিসহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে কিছু মালামাল আটক করলেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় মূলহোতারা। আটককৃত মালামাল পাচার হওয়া মালামালের ১০ শতাংশও নয় বলে সীমান্তবর্তী মানুষের ধারণা।

জানা গেছে, দেশের লাইফ লাইনখ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাড়কের অনেকস্থানে ১শ' ৫০ গজ থেকে দুই কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে ভারত সীমান্ত। ফলে চোরাকারবারীরা খুব সহজেই মোটর সাইকেল, নছিমন, মাইক্রোবাস, প্রাইভেট ও সিএনজি বেবি ট্যাক্সিসহ বিভিন্ন যানবাহনে ভারতীয় অবৈধ মালামাল বোঝাই করে পালিয়ে যেতে পারে। অনেক সময় বিজিবি বা পুলিশ মাদক পাচারের তথ্য জানলেও তারা যাওয়ার আগেই চোরাকারবারীরা সটকে পড়েন।

চৌদ্দগ্রাম সীমান্ত দিয়ে আসা ভারতীয় মালামালগুলো হলো; ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা, ব্যাকপাইবার হুইস্কি, রিকোডেস্ক, বিয়ার, শাড়ি, থ্রি-পিস, শার্ট ও প্যান্টের থান কাপড়, মোটর সাইকেল, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, গরু মোটাতাজাকরণের ষ্টেরয়েড ট্যাবলেট, হলুদ, জিরা, এলাচি, দারুচিনি, গোলমরিচসহ যাবতীয় মসলা, মুভ, ইসগার্ড, লিভ ৫০২, রিভাইটেল, স্যানিগ্রা, ভায়াগ্রা, এডিগ্রা, ডক্টরেট, পেয়ার এন্ড লাভলিসহ বিভিন্ন ওষুধ ও কসমেটিকস্।  

সীমান্তবর্তী মানুষ জানায়, ভারত সীমান্ত সংলগ্ন চৌদ্দগ্রাম পৌরসভাসহ উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন অবস্থিত। এর মধ্যে আলকরা ইউনিয়নের দত্তশার, দক্ষিণ কাইচ্ছুটি, সোনাইছা, গোলাইকরা, জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের সাতঘড়িয়া, দক্ষিণ বেতিয়ারা, সোনাপুর, উত্তর বেতিয়ারা, শাহাপুর, কেছকিমুড়া, চিওড়া ইউনিয়নের ডিমাতলী, সুজাতপুর, বাতিসা ইউনিয়নের দূর্গাপুর, নানকরা, কালিকাপুর, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার চন্ডিপুর, বৈদ্দেরখীল, রামরায়গ্রাম, গোমারবাড়ি, রামচন্দ্রপুর, ঘোলপাশা ইউনিয়নের বীরচন্দ্রনগর, মতিয়াতলী, আমানগন্ডা, বাবুর্চি বাজার, কালিকাপুর ইউনিয়নের ছুপুয়া, বিজয়পুর, উজিরপুর ইউনিয়নের চকলক্ষীপুর, শিবের বাজার, চাঁন্দশ্রী দিয়ে ভারতীয় মালামাল বেশি পাচার কর হয়।

এসব রুট দিয়ে মাদক পাচারের সময় বিজিবি বিজিবি কুমিল্লা ব্যাটলিয়ান ও স্থানীয় ফাঁড়ির সদস্যরা গত এক মাসে অন্তত পাঁচ কোটি টাকার মালামাল আটক করেছে। এর মধ্যে বিজিবি সদস্যরা গত ২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার পৌরসভার নোয়াপাড়া থেকে গরু মোটাতাজাকরণের অবৈধ ভারতীয় ২৩ হাজার ষ্টেরয়েড ট্যাবলেট, ১৩০টি ভারতীয় শাড়ি, ১৬৮০ প্যাকেট ঔষধ, ১শ' বৈদ্যুতিক সামগ্রী, দুইটি সিএনজি অটোরিকশা, ১১ বোতল হুইস্কি, ১ বোতল বিয়ার ও ১ বোতল ফেনসিডিল আটক করে।  

গত ১ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের সাতঘড়িয়া থেকে ৫শ' ৪৩ বোতল ফেনসিডিল, ১শ' ৪৭ বোতল হুইস্কি ও চার কেজি গাঁজা আটক করে বিজিবি। ৩০ আগস্ট মঙ্গলবার উপজেলার মিয়াবাজার ও হাড়িসর্দার বাজার সংলগ্ন জামাইপাড়া থেকে ১ লাখ ৬৮ হাজারটি ভারতীয় আতশবাজি, ৪ষ' ৪০টি হরলিক্স, ১শ' ৯২টি কসমেটিকস সামগ্রী, ১শ' বোতল ফেনসিডিল ও ৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

এর আগে,  ২৭ আগস্ট শিবের বাজার বিজিবি সদস্যরা মিলঘর নামক স্থান থেকে ২১ বোতল হুইস্কিসহ মাদক পাচারকারী সদর দক্ষিণ উপজেলার রাজেশপুর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার পুত্র শামীম হোসেনকে আটক করে। ২৬ আগস্ট শুক্রবার ২৯ বোতল ফেনসিডিলসহ আটককৃত দুই মাদক ব্যবসায়ীকে ছয়মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন; জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের সাতঘড়িয়া গ্রামের মৃত আবদুল মালেকের পুত্র আবদুল মমিন প্রকাশ ও হাফেজ আহমদের ছেলে জোবায়ের। একইদিন পৌরসভার নোয়াপাড়া থেকে দুইটি ট্রাক ভর্তি ভারতীয় ৬ হাজার ১শ' ২৮ কেজি বিট লবণ আটক করে বিজিবি। হাড়িসর্দার থেকে এক বোতল হুইস্কিসহ ঘোলপাশা ইউনিয়নের সাবেকপাড়া গ্রামের মৃত আলী আশরাফের ছেলে বাদশা মিয়াকে আটক করে। পৌর এলাকার নাটাপাড়া এলাকা থেকে ৩৬৪টি ডিসের যন্ত্রাংশ আটক করতে সক্ষম হয়।  

গত ২১ আগস্ট ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মিরশান্নী গরুর বাজার নামক স্থান থেকে পিকআপ ভর্তি ভারতীয় ৭ হাজার ৯৯ মিটার শার্টের থান কাপড় আটক করা হয়। ২০ আগস্ট শনিবার রাতে হাড়িসর্দার এলাকা থেকে ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী রাসেল মিয়াকে আটক করা হয়। ১৭ আগস্ট বুধবার রাতে সীমান্তবর্তী নানকরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪শ' বোতল ফেনসিডিল মালিকবিহীন অবস্থায় আটক করা হয়। এছাড়া আমানগন্ডা বিজিবি সদস্যরা ১১ বোতল হুইস্কি, ৪ হাজার ৭শ' ৫টি চকলেট আটক করা হয়। ওইদিন বিকেলে মাইক্রোবাসভর্তি ৬১ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় ৩শ' ৮২টি শাড়ি ও ১শ' ৩৮টি থ্রি-পিস আটক করে বিজিবি।  

গত ১৫ আগস্ট সোমবার চৌদ্দগ্রামের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভারতীয় ৩০ হাজার ৯শ' ৭০টি স্টেরয়েড ট্যাবলেট আটক করা হয়। ১০ আগস্ট বুধবার রাতে আমানগন্ডা ও সাতঘড়িয়া সীমান্তফাঁড়ির বিজিবি সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ৭ হাজার পিস ভারতীয় অবৈধ স্টেরয়েড ট্যাবলেট, ১শ' বোতল ফেনসিডিল ও ১০ কেজি গাঁজাসহ বিভিন্ন প্রকার ভারতীয় মালামাল আটক করে। এর আগে, গত ৭ আগস্ট পৌর এলাকার সেনেরখিল থেকে সাড়ে ৭শ' বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়।
 
এদিকে বিজিবি ১০ ব্যাটেলিয়ানের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের মেইলে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী হাসানের নির্দেশনায় প্রতিদিনই কোন না কোন সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভারতীয় মালামাল আটক করা হচ্ছে। চোরাকারবারীদের সাথে কোন আপোস নেই বলে দাবি করেছে বিজিবি। একই সঙ্গে অভিযান অব্যাহত থাকার কথা বলা হয়েছে।  


বিডি-প্রতিদিন/০৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬/মাহবুব

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow