Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৪:২৯
পুঁজি সংকটে সিরাজগঞ্জের চামড়া ব্যবসায়ীরা
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
পুঁজি সংকটে সিরাজগঞ্জের চামড়া ব্যবসায়ীরা
ছবি: সংগৃহীত

পুঁজি সংকট, লবণের দাম বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাজার মন্দা হওয়ায় এবারের ঈদে চামড়া কেনা নিয়ে নানা শঙ্কায় সিরাজগঞ্জের চামড়া ব্যবসায়ীরা। গত বছরের কুরবানীর ঈদের টাকা এখনও ট্যানারি মালিকের কাছে বকেয়া থাকায় ব্যবসায়ীদের হাত শুণ্য রয়েছে। এ কারণে পুঁজি সংকটে রয়েছে ব্যবসায়ীরা। পুঁজি সংগ্রহ করতে না পারলে এবার কুরবানীর ঈদে চামড়া বাজার ধ্স নামার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। আর এ সুযোগ চামড়া পাচার হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। আবার অনেকে পুঁজির অভাবে চামড়া ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন।  

চামড়া ব্যবসায়ী আনোয়ার রতন, হাজী জাহাঙ্গীর হোসেন ও জহুরুল ইসলাম দুলাল জানান, সিরাজগঞ্জের অন্যতম চামড়া বাজার শহরের ঢাকা রোডস্থ চামড়াপট্টি। প্রতি কুরবানীর ঈদে এখানে প্রায় ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকার চামড়া বেচাকেনা হয়। ২০১০ সালেও জেলায় একশ’র বেশি চামড়া ব্যবসায়ী ছিলেন। কিন্তু ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে সময়মত টাকা না পাওয়ায় ঋণ জর্জরিত হয়ে আবার অনেকে লস খেয়ে দেউলিয়া হয়ে অন্য ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন। বর্তমানে মাত্র ২৫-৩০ জন চামড়া ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। গত বছরের চামড়া দাম এখনও ট্যানারি মালিকরা পরিশোধ না করায় এবার ঈদে চামড়ার কেনার জন্য এখনও পর্যন্ত প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়নি।  

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে সিরাজগঞ্জের ব্যবসায়ীদের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। ঈদের আগে টাকা না পেলে চামড়া কেনা দুরূহ হয়ে পড়বে। এছাড়া লবণের দাম আগে যেখানে ৫শ' টাকা বস্তা ছিল এখন তা ১৫ থেকে ১৬শ' টাকা হয়ে পড়েছে। চামড়া দাম এখনও নির্ধারিত হয়নি। যদি লবণসহ আনুষাঙ্গিক খরচের সাথে সমন্বয় করে দাম নির্ধারণসহ ট্যানারি মালিকরা সময়মত টাকা পরিশোধ করে তবে ঈদে চামড়া কেনা সম্ভব।  

ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম শফি জানান, বড় বড় ট্যানারি মালিকদের ব্যাংক থেকে সাপোর্ট দেয়া হলেও জেলা শহরগুলোতে কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীদের সাপোর্ট দেয়া হয় না। এ জন্য ব্যবসায়ীরা এ মৌসুমে চরম পুঁজি সংকট পড়ে।  

এক সময়ের চামড়া ব্যবসায়ী সানোয়ার হোসেন জানান, ট্যানারি মালিকদের বকেয়া ও ব্যাংক ঋণ ও চামড়া কিনে লস হওয়ায় তিনি চামড়ার ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে ঠিকাদারী ব্যবসা শুরু করেছেন।  

সিরাজগঞ্জ চামড়া ব্যবসা সমিতি হাজী আরিফুল ইসলাম তালুকদার জানান, ট্যানারি মালিক ও ব্যাংক ঋণের কারণে অনেক ব্যবসায়ী বিলীন হয়ে গেছে। যে কয়জন ব্যবসায়ী রয়েছে তারা কোন রকম টিকিয়ে আছে। এবারও যদি ট্যানারি মালিকরা সঠিক সময় টাকা না দেয় এবং ব্যাংক অল্প সুদে ঋণ না দেয়  তবে চামড়া কেনা নিয়ে ব্যবসায়ীরা সংকটে পড়বে।  
  

বিডি-প্রতিদিন/ ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬/ আফরোজ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow