Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৪:৫৬
লক্ষ্মীপুরে কোরবানির হাটে পশুর দাম চড়া
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরে কোরবানির হাটে পশুর দাম চড়া

লক্ষ্মীপুরে কোরবানির হাটগুলোতে পশুর (গরু-ছাগলের) দাম হাকা হচ্ছে আকাশ চুম্বী। যার কারণে অধিকাংশ ক্রেতা পশু ক্রয় করতে পারেনি এখনো। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার বিদেশী গরু না আসায় বেশী দামে দেশী গরু কিনতে হয়েছে তাদের, এতে করে বেচা বিক্রি অনেকটাই কম। ক্রেতারা বলছেন গরুর দাম গতবারের তুলনায় অনেক বেশী হওয়ায় বাজার যাচাই বাছাই করছেন তারা। এদিকে ঈদ উপলক্ষে জেলাব্যাপী পুলিশের ৪৪টি টিম গঠন ও হাটগুলোতে জাল টাকা সনাক্তের মেশিন বসানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।  

পুলিশ সুপার কার্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘনিয়ে আসছে ঈদুল আজহা তথা কোরবানির ঈদ। আর ঈদকে ঘিরে লক্ষ্মীপুরের ৫টি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় পশুর হাট বসেছে ৭৬টি। এখন ক্রেতা বিক্রেতাদের ভিড়ে সব কয়টি হাট হয়ে উঠেছে জমজমাট। এর মধ্যে জেলার সবচাইতে বড় হাট মিলেছে লক্ষ্মীপুর পৌর কোরবানির পশুর হাটে। এখানের গরু ব্যবসায়ী  মনির, কাশেম ও বাবুলের সাথে আলাপকালে তারা বলেন, ৪০ হাজার থেকে শুরু করে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দামের গরু উঠিয়েছেন তারা। পাশাপাশি ৮ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা দামের ছাগল উঠানো হয়েছে এ হাটে। এবারে ভারত ও মায়ানমার থেকে গরু না আসায় ব্যপারীদের যশোর থেকে বেশী দামে গরু কিনতে হয়েছে। এখন কেনা অনুযায়ী বিক্রি করতে দাম হাকালে ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নেন।  

অধিকাংশ ব্যাপারীরা তাদের চাহিদার চেয়ে অনেক কম গরু বিক্রি করেছেন বলে জানান। একেকজন ব্যবসায়ী ১৫ থেকে ৩০ টি গরু কিনে  গত এক সপ্তাহে কেউ কেউ ২/১টি গরু আবার কেউ ৪/৫টি গরু বিক্রি করলেও বাকি গরুগুলো বিক্রি করতে পারছেননা বলে জানান ব্যবসায়ীরা।  

ক্রেতারা বলছেন, গতবারের তুলনায় এবার গরুর দাম আকাশ চুম্বী, বাজেট অনুযায়ী চয়েজকৃত গরুর দাম অনেক বেশী, গরু প্রতি ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা বেশী দাম চাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মধ্যবিত্ত ক্রেতারা।  

একই কথা বলছেন ছাগলের হাটের ক্রেতারাও ছাগল প্রতি গতবারের তুলনায় ১০০০ থেকে ২০০০ টাকা বেশী নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। বিক্রেতারা বলছেন, বেশী দাম নেওয়া হয়না, ৮ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাগল রয়েছে।

এদিকে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার কামার সম্প্রদায়। পশু জবাই থেকে শুরু করে মাংস কাটা পর্যন্ত প্রচুর দা, বটি, চাপাতি ও ছুরির প্রয়োজন হয় সবার। আর এসবের যোগান আসে মূলত কামারদের কাছ থেকে। কোরবানির ঈদে নতুন ছুরি তৈরি ও ধার দেয়ার কাজও বেড়ে যায় কয়েকগুণ। তাই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলার চন্দ্রগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর ও দালাল বাজারসহ বিভিন্ন স্থানের কামাররা।  

তবে তারাও বলছেন এবার বেচা বিক্রি অনেকটাই কম। বৈরী আবহাওয়ার কারণ ও চাকুরীজীবীদের এখনো বাড়ি না ফেরায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তারা। গতবার ঈদের আগ মুহুর্তে তারা বিক্রি করতেন ৮-১০ হাজার টাকা। কিন্তু এখন বিক্রি হচ্ছে ৩-৪ হাজার টাকা।

লক্ষ্মীপুরের সহকারি পুলিশ সুপার মো. জুনায়েদ কাউছার জানান, ঈদকে ঘিরে মানুষের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশের ৪৪টি টিম গঠন করা হয়েছে, জেলার ৭৬টি গরুর হাটে বিশেষ টহলে আছে পুলিশ। এছাড়া জাল নোট সনাক্ত করণ মেশিন বসানো হয়েছে এসব হাটগুলোতে।


বিডি প্রতিদিন/৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬/হিমেল-০৩

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow