Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২০:০২
বগুড়ায় কোরবানির চামড়ার বাজার নিয়ে চিন্তিত ব্যবসায়ীরা
আব্দুর রহমান টুলু, বগুড়া:
বগুড়ায় কোরবানির চামড়ার বাজার নিয়ে চিন্তিত ব্যবসায়ীরা
ফাইল ছবি

বগুড়ায় কোরবানির চামড়ার বাজার নিয়ে চিন্তিত চামড়া ব্যবসায়ীরা। গত কয়েক মাস ধরে অব্যাহত চামড়ার দরপরতন, প্রক্রিয়াজাত করার প্রধান কাঁচামাল লবনের দ্বিগুণ মূল্য বৃদ্ধি, শ্রমিকের বাড়তি মজুরির চাপ এবং গত বছরের বকেয়া টাকা পরিশোধ না করার কারণে এই ধস দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।

তারপরও বগুড়ার চামড়া ব্যবসায়ীরা কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে তাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে গরুর প্রতি বর্গফুট ভালো মানের চামড়া ৯০ থেকে ১০০ টাকা ও কিছুটা নিম্নমানের চামড়া ৫০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ মাস দুই আগে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা দরে বেচাকেনা হয়েছে। কিন্তু গত কোরবানির চামড়া সরবরাহের পর থেকে খাসি, ছাগল ভেড়ার চামড়ার চাহিদা হঠাৎ করেই কমে যায়। গত বছর এই সময়ে খাসির চামড়া ৭০ থেকে ৭৫ টাকা প্রতি বর্গফুট বেচা-কেনা হয়েছে। আর বর্তমানে প্রতি বর্গফুট খাসির চামড়া ২৫-২৬ টাকা এবং বকরীর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ১৩-১৫ টাকায়।  

ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, হঠাৎ করেই ঈদের আগে এবং পরে ট্যানারী মালিক ও আড়তদাররা কারসাজি করে চামড়ার দাম কমিয়ে দেন। সেই সাথে বাঁকীতে চামড়া নেবার পর টাকা পরিশোধে বিলম্ব করায় মফস্বলের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।  
বগুড়ার একাধিক ব্যবসায়ীর অভিযোগ, বগুড়ার বাজার থেকে প্রায় শত কোটি টাকার ওপরে চামড়া কেনাবেচা হয়। কিন্তু চামড়ার রপ্তানি কমে যাওয়ার অজুহাত তুলে বকেয়া টাকা দিতে বিলম্ব করা হচ্ছে। কোরবানির ঠিক আগ মূহুর্তে কিছু টাকা দিলেও ঈদে চামড়া না দিলে বাকি টাকা পরিশোধ করা হবে না, এমন শর্ত জুড়ে দেন ঢাকার বেশকিছু ট্যানারী মালিক ও আড়তদাররা। এভাবেই বগুড়ার ব্যবসায়ীদের বছরের পর বছর জিম্মি করে তাদের সঙ্গে লেনদেন করতে বাধ্য করে আসছে।  

বর্তমানে ঢাকার বেশ কয়েকটি ট্যানারি মালিক ও আড়তদারদের কাছে বগুড়ার ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকা আটকে আছে। ফলে নতুন কোথাও চামড়া সরবরাহ করারও সাহস পান না তারা। তাই বকেয়া টাকা ও মূলধনের অভাবে ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। আর এ অঞ্চলে কোনো ট্যানারি শিল্প গড়ে না ওঠায় এক ধরনের জিম্মি হয়েই ঢাকায় ট্যানারী মালিক ও আড়তদারদের কাছে চামড়া বেচতে বাধ্য হয় এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা।  

বগুড়া জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শোকরানা জানান, ঢাকার ট্যানারী মালিকদের কাছ থেকে ঈদের আগে পাওনা টাকার পুরোটা পাওয়া না গেলে অনেকেই চামড়া কিনতে পারবেন না। কারণ পাওনা টাকার অধের্কের বেশি পরিশোধ করতে হবে ব্যাপারিদের। ব্যাপারিদের পরিশোধ করার পর বাকি টাকা দিয়ে চামড়া কিনতে হবে। কিন্তু এখনো তো টাকা পাওয়া যায় নি। গত বছরের পাওনা টাকা ট্যানারি মালিকদের কাছে পাওনা রয়েছে। এবারও যদি গত বছরের মতই হয় তাহলে তো বগুড়ার চামড়া ব্যবসায়িরা শঙ্কিত থাকবে। যদিও কোরবানির চামড়া কিনতে সমিতির সদস্যরা প্রস্তুতি নিয়েছে।  

 

বিডি প্রতিদিন/৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬/হিমেল-১৯

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow