Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২০:১৯
কোরবানীর চামড়া সংগ্রহের প্রস্তুতি নেই নওগাঁয়
নিজস্ব প্রতিবেদক
কোরবানীর চামড়া সংগ্রহের প্রস্তুতি নেই নওগাঁয়

ট্যানারী মালিকদের কাছ থেকে গত মওসুমের পাওনা হিসেবে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা পান নওগাঁর চামড়া ব্যবসায়ীরা। পাওনা টাকা এখনও পরিশোধ না করায় স্থানীয় আড়তদাররা এবার অনেকটা হাত গুটিয়ে বসে আছেন।

কোন প্রস্তুতি নেই কোরবানীর চামড়া সংগ্রহের।  

অন্যদিকে বছরের ব্যবধানে লবনের দাম তিনগুন বেড়ে যাওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছেন তারা। আড়তদাররা বলছেন, ঈদে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা চামড়া সংগ্রহ করতে না পারলে চোরাই পথে ভারতে পাচার হওয়ার আশংকা রয়েছে।  

জানা গেছে, নওগাঁয় গবাদিপশুর চামড়া সংগ্রহের জন্য আরতের সংখ্যা অর্ধশত। এছাড়া আড়তদারদের সাথে সম্পৃক্ত আরো অন্তত দুইশ’ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। সারাবছর ব্যবসা করলেও তাদের প্রধান মওসুম কোরবানীর ঈদ। কোরবানী মওসুমে জেলা থেকে প্রায় ৫০ হাজার গরু-মহিষ এবং ছাগল ও ভেড়া মিলে ৬০ থেকে ৬৫ হাজার চামড়া সংগ্রহ করা হয়। কাঁচা চামড়ায় লবন দিয়ে গুদামজাত করার পর পাঠানো হয় ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন বড়-বড় ট্যানারী মালিক ও কটেজ ব্যবসায়ীদের কাছে। তাই ঈদের আগে সরব হয়ে উঠে আরতগুলো।  

লবনের বস্তা কিনে ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা মিলে প্রস্তুতি নেন চামড়া সংগ্রহের।  কিন্তু এবার সেই আড়তগুলোর চিত্র ভিন্ন। দু’একটিতে লবন সংগ্রহ করতে দেখা গেলেও অধিকাংশ আড়ত ফাঁকা পড়ে আছে। লোকজনও নেই।  

মিলন নামে স্থানীয় এক আড়তদার বলেন, 'গত বছরের বাকি টাকার মাত্র ২০ থেকে ২৫ ভাগ পরিশোধ করেছে ট্যানারী মালিকরা। বেশীর ভাগ টাকা অনাদায়ী থাকায় তারা এবার এখনও কোন প্রস্তুতি নিতে পারেননি'। তিনি আরো বলেন, 'মওসুমি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্বের কাছে প্রতি বছরই প্রকৃত ব্যবসায়ীরা দর নিয়ে ঝামেলায় পড়েন'।  

সরকারী ভাবে বেঁধে দেওয়া দরের চেয়েও বেশী দরে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করতে হয়। প্রকৃত ব্যবসায়ীরা এবার হাতগুটিয়ে বসে থাকায় মওসুমী ব্যবসায়ীদের দৌড়াত্ব আরো বাড়বে। একই সাথে চামড়া ভারতে পাচার হওয়ার আশংকা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে নওগাঁ জেলা চামড়া ব্যবসায়ী গ্রুপের সভাপতি মমতাজ হোসেন জানান, 'এখনও পাওনা টাকা পরিশোধ করেননি ট্যানারী ও কটেজ মালিকরা। জেলার আড়তদাররা মহাজনদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা পাওনা রয়েছেন।  ফলে চরম হতাশায় রয়েছেন তারা'।  

চামড়া সংগ্রহে জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হাতে টাকা তুলে দেওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া মাত্র এক বছরের ব্যবধানে ৫০ কেজির প্রতি বস্তা লবনে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় আড়তদাররা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।  

তিনি অভিযোগ করে বলেন, 'মওসুমী ব্যবসায়ীরা সরকারী দর মেনে না চলায় দারুন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় প্রকৃত ব্যবসায়ীদের। কিন্তু এসব বন্ধে প্রশাসন কোন উদ্যোগ গ্রহন করে না। ফলে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা ক্রমেই হেরে যাচ্ছেন'।  

ভারতে চামড়া পাচার প্রসঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৪৩ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লে. কর্নেল জাহিদ হাসান জানান, 'পাশের দেশ ভারতে চামড়ার দর তুলনামূলক ভাবে বেশী থাকায় পাচারের আশংকা থাকে। তবে যে কোন ধরনের চোরাচালান বন্ধে সব সময় বিজিবির অবস্থান জিরো টলারেন্স'।  

এবারও যাতে চামড়া পাচার না হয় সে জন্য মাসব্যাপী নানা পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, 'সীমান্তের জিরো লাইন খেকে দেশের অভ্যন্তরে অন্তত ৮ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত বিভিন্ন রুট চিহ্নিত করে  অস্থায়ী চেকপোষ্ট বসিয়ে সর্বদা তল্লাশী অভিযান পরিচালনা করা হবে'।  

এছাড়া সীমান্ত এলাকায় কেউ যাতে চামড়া মজুদ করতে না পারে সে বিষয়টি নজরদারীতে রাখা হচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচারসহ কোনরকম চোরাচালান করতে দেওয়া হবেনা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।  


বিডি-প্রতিদিন/তাফসীর

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow