Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৮:৩৯
দিনাজপুরে গরুর হাটে দালালদের কাছে জিম্মি ক্রেতা-বিক্রেতারা
রিয়াজুল ইসলাম, দিনাজপুর
দিনাজপুরে গরুর হাটে দালালদের কাছে জিম্মি ক্রেতা-বিক্রেতারা
ফাইল ছবি

দিনাজপুরে গরুর হাটে দালালদের (মধ্যস্থতাকারী) কাছে এক রকম জিম্মি হয়ে পড়েছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। একটি গরু বেচাকেনার সময় ক্রেতার সামনে গরুর মালিক বা বিক্রেতাকে সামনে আসতেই দেয় না তারা। আর গরু বিক্রির সাথে কমপক্ষে ২ জন দালাল থাকে।  

তারা গরুটি প্রকৃতপক্ষে কত টাকায় বিক্রি হলো তা বিক্রেতাকে জানতেই দেয় না। তবে তাদেরকে একটি বিক্রয় দাম আগেই বলে থাকে।  

ক্রেতা-বিক্রেতাকে বুঝতে না দেয়ার জন্য দালালদের মধ্যে একটি ভাষা প্রচলিত আছে যেটা তারাই তৈরি করেছে। তবে কে কখন থেকে এই ভাষার প্রচলন করেছেন তা কেউ বলতে পারেননি। মানুষকে বোকা বানানোর জন্য সৃষ্টি দালালদের নিজস্ব এ ভাষা। এটি গরুর দালালি ভাষা বলে পরিচিত।  

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চিরিরবন্দরসহ দিনাজপুরের প্রতিটি হাটে দালালি ভাষায় পরাস্ত হয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন গরুর ক্রেতা-বিক্রেতারা। দালালদের নিকট অনেকটা জিম্মি হাটের ইজারাদাররাও।  

রাণীরবন্দরহাট, কারেন্টহাট, চিরিরবন্দরহাট, বিন্যাকুড়িহাট, যশাইহাট, আমবাড়িহাটে গিয়ে দেখা গেছে, গরু বিক্রেতারা হাটে গরু নিয়ে আসার সাথে সাথে দালাল চক্রের হাতে পড়তে হচ্ছে। প্রতিটি হাটে সংঘবদ্ধ দালালরা কৌশলে গরু বিক্রির জন্য বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। দালালদের ভাষায়- গরু বিক্রেতাদের গিরিহাটি এবং ক্রেতাদের মাছি বলা হয়।  

এরপর দালাল চক্র ক্রেতা-বিক্রেতাদের ঠকাতে টাকার পরিমাণকে সংক্ষেপে তাদের ভাষায় বলেন, পোয়া (গরু ভেদে ৫শ’ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত), ঘাই টাকা (১০ টাকা), ভিড়া টাকা (২০ টাকা), আদি (৫০ টাকা), শ্যাড় (১শ’), ডোংগা শো (২শ’), শিংগি শো (৩শ’), টিপি শো (৬শ’), ডোংগা হাজার (২ হাজার), বছর শো (১২শ’), বছর হাজার (১২ হাজার), শিংগি হাজার (৩ হাজার), দিক শো (১ হাজার), দিক হাজার (১০ হাজার), বর্ণি শো (৫শ’), বর্ণি হাজার (৫ হাজার), চামটি শো (৪শ’), চামটি হাজার (৪ হাজার), মিথি শো (১৩ শ’), মিথি হাজার (১৩ হাজার), ঝালি শো (৭শ’), ঝালি হাজার (৭ হাজার), কাটা শো (৮শ’), কাটা হাজার (৮ হাজার), খুটাল শো (৯শ’), খুটাল হাজার (৯ হাজার), কালাই শো (১১ শ’), কালাই হাজার (১১ হাজার), দিকবর্ণি শো (১৫শ’), দিকবর্ণি হাজার (১৫ হাজার), দিকঝালি (১০ হাজার ৭শ’), শুতলী হাজার (১৭ হাজার), ভিড়া হাজার (২০ হাজার), দিক চামটি হাজার (১৪ হাজার), বান্ডিল টাকা (১০ হাজার) টাকা ব্যবহার করে থাকে।  

এ দালালি ভাষা নিয়ে চিরিরবন্দরের নান্দেড়াই’র জওকৈর গ্রামের গরুর দালাল মনজের আলীসহ কয়েকজন জানান, এটা আমাদের নিজস্ব তৈরি করা ভাষা। এ ভাষা দিয়েই আমরা বিভিন্ন হাটে গরু কেনাবেচা করে থাকি। এতে আমাদের লাভ ভালো হয়। ক্রেতা-বিক্রেতারা অনেকেই এ ভাষা বুঝতে পারেন না।  

গরুর দালালরা সংঘবদ্ধ জানিয়ে কয়েকজন হাট ইজারাদার বলেন, 'তাদের (দালাল) নিকট আমরাও জিম্মি।  

বিডি প্রতিদিন/ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৬/ এনায়েত করিম

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow