Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:০৯
শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত সকাল ৯টায়
অনলাইন ডেস্ক
শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত সকাল ৯টায়
ফাইল ছবি

শোলাকিয়ায় এবার ঈদুল আজহার ১৮৯তম জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৯টায় শুরু অনুষ্ঠিতব্য এ জামাতে ইমামতি করবেন মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসউদ।

ঈদের এ জামাতকে ঘিরে শোলাকিয়ার ঈদগাহ এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত। গত ঈদুল ফিতরের দিনে জঙ্গি হামলার কারণে এবারের ঈদ জামাতে নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

দেশের সবচেয়ে বড় এ ঈদ জামাতে প্রথমবারের মতো বিজিবি মোতায়েনের মাধ্যমে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঈদ জামাত ও মুসল্লিদের নিরাপদ-নির্বিঘ্ন রাখতে বিজিবি’র পাশাপাশি র‌্যাব-পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীও ঈদগাহ’র চার পাশে মোতায়েন থাকবে।

শোলাকিয়া ঈদগাহর সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. আজিমুদ্দিন বিশ্বাস ও পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন খান সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, এবার মাঠে কাউকে কোনো ধরণের ব্যাগ বা পোটলা-পাটলি নিয়ে ঢুকতে দেয়া হবে না।

প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, শোলাকিয়ায় মূলত ঈদুল ফিতরের জামাতে তিন থেকে চার লাখ মুসল্লির সমাগম হয়। কিন্তু ঈদুল আজহার জামাতে এর অনেক কম মুসল্লি মাঠে নামাজ আদায় করতে আসেন। ফলে এবার নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে না বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মনে করে।

পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন খান জানান, পুলিশ বাহিনীর লোকজন ইতোমধ্যে মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে।
গত ঈদের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে এবার শোলাকিয়ায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বিজিবি, র‌্যাব-পুলিশ, এপিবিএন ও আনসার সদস্য থাকবে। তাছাড়া সাদা পোশাকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা মাঠের ভেতর ও বাইরে কাজ করবে। ঈদের দিন মাঠের তিন দিকের সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে। মাঠের সামনের দুটি গেট দিয়ে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে দেহ তল্লাশির পর মুসল্লিদের মাঠে ঢুকতে দেওয়া হবে। মাঠ ঘিরে থাকবে সিসি ক্যামেরার নজরদারি।

পুলিশ সুপার আরো জানান, পুলিশ তার সাধ্যের মধ্যে সর্বোচ্চটাই করবে। এখানে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

জেলা প্রশাসক বলেন, গত ঈদে অপ্রত্যাশিত জঙ্গি হামলার বিষয়টি মাথায় রেখেই এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে। ঈদকে ঘিরে সব প্রস্তুতি শেষের দিকে রয়েছে। তিনি এ সময় নিরাপত্তার প্রশ্নে গৃহীত পদক্ষেপগুলোর বিষয়ে জনসাধারণকে সহযোগিতার আহ্বান জানান।

গত ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের দিন সকালে শোলাকিয়ার ঈদগাহের পাশে আজিমুদ্দিন স্কুলের সামনে জঙ্গিরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। জঙ্গিদের গ্রেনেড হামলা ও চাপাতির কোপে নিহত হন পুলিশের দুই সদস্য জহিরুল ইসলাম ও আনসারুল হক। পরে পুলিশের সঙ্গে জঙ্গিদের প্রচণ্ড গোলাগুলি হয়। এতে নিজের ঘরে থাকা ঝর্ণা রাণী সূত্রধর নামে এক গৃহবধূ নিহত হন। পুলিশের গুলিতে নিহত হয় আবির রহমান নামে এক জঙ্গি। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ধরা পড়ে শফিউল ইসলাম নামে অপর এক জঙ্গি। কিছুদিন পর ময়মনসিংহের নান্দাইলে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় শফিউল।

বিডি প্রতিদিন/ ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৬/ এনায়েত করিম

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow