Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৮:৫৫
পর্যটকের পদচারণায় মুখর কুয়াকাটা
সঞ্জয় কুমার দাস, পটুয়াখালী:
পর্যটকের পদচারণায় মুখর কুয়াকাটা

ঈদুল আজহা পরবর্তী ছুটিতে নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের বেলাভূমি কুয়াকাটা পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার ভ্রমন পিপাসু দর্শনার্থী পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটে এসেছেন সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায়।

হোটেল-মোটেল ও ডাকবাংলোগুলো পর্যটকদের আগমনে পরিপূর্ণ। তরুণ-তরুণীসহ নানা বয়সের পর্যটকের পদচারণায় উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের লীলাভূমি সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটায়।

তবে বৃহস্পতিবার পর্যটকদের আরও ভিড় হবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তাই পর্যটকনির্ভর ব্যবসায়ীদের মাঝে প্রাণ-চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

ভ্রমনপিপাসু পর্যটকদের পদভারে মুখরিত সৈকতের জিরো পয়েন্ট, কুয়াকাটা জাতীয় উদ্যান (ইকোপার্ক), লেম্বুর চর, শুটকি পল্লী, মিস্ত্রীপাড়া রাখাইন মন্দির, রাখাইন মহিলা মার্কেটসহ আকর্ষণীয় সব দর্শনীয় স্থান।
 
ঈদুল আজহার দিন পর্যটকদের আনাগোনা কম দেখা গেলেও পর দিন থেকেই পর্যটকরা কুয়াকাটায় আসতে শুরু করে। তাই বুধবার কুয়াকাটাগামী দর্শনার্থীদের সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। বেলা বাড়ার সাথে সাথে কুয়াকাটায় সমুদ্রে গোসল করতে দেখা গেছে হাজারো পর্যটককে। আর দুপুর থেকে সৈকতে পর্যটকদের বিচরণে মুখরিত হয় সমুদ্রের দীর্ঘ ১৭ কিলোমিটারের এ বেলাভূমি। ভ্রমন পিপাসুদের সবচেয়ে বেশি মন কেড়ে নেয় একই স্থানে দাঁড়িয়ে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত সাথে সাগরের বিশাল বিশাল ঢেউ।

খুলনা থেকে ঘুরতে আসা নবদম্পতি ফয়েজুর রহমান ও তার স্ত্রী সাফিয়া জামান তনু জানান, বিয়ের পর তারা হানিমুন আর ঈদের ছুটি একত্রে কাটাতে কুয়াকাটায় এসেছেন। তনু বলেন, কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে এই প্রথম বেড়াতে আসা। এখানকার প্রকৃতির সৌন্দর্য্য নয়নাভিরাম।

স্বপরিবারে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা ঢাকার পারভীন শিলা বলেন, কুয়াকাটা আমার একটি প্রিয় স্থান, তাই ছুটি পেলেই চলে আসি। এর আগেও পরিবারের সদস্যদের সাথে ছুটি কাটাতে কুয়াকাটায় একবার বেড়াতে এসেছিলাম। আগের চেয়ে যোগাযোগ ব্যাবস্থা অনেক ভাল হয়েছে। কিন্তু রাতের বেলায় সৈকতে বেড়ানোর জন্য আলোর তেমন কোন ব্যবস্থা না থাকায় পর্যটকদের মধ্যে এক ধরনের ভয় থাকে।

কুয়াকাটা পর্যটন হলিডে হোমস ম্যানেজার মোতাহারুল ইসলাম জানান, ঈদের দিন অল্প সংখ্যক পর্যটক ছিল। বুধবার থেকে পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন। বৃহস্পতিবার আমাদের শতভাগ রুম বুকিং রয়েছে। পরের তিন-চার দিনের জন্য কুয়াকাটার হোটেলগুলোর অধিকাংশ রুম আগাম বুকিং হয়ে গেছে। তবে ঈদের পর তিন দিন পর্যটকদের বেশি ভিড় হবে কুয়াকাটায়।

কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আব্দুল বারেক মোল্লা বলেন, পটুয়াখালী থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়ক উন্নত এবং তিনটি ব্রিজ হওয়ায় পর্যটকদের আগমনে এখন কোন ভোগান্তি নেই। তাই পর্যটকরা আসতে শুরু করেছে। এখানের শতাধিক হোটেল-মোটেলে অধিকাংশ রুম বুকিং করেছে পর্যটকরা। পর্যটকদের নিরাপত্তাসহ সকল বিষয়ের কথা মাথায় রেখে সংশিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদুল আজহা পরবর্তী সময় লক্ষাধিক পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত থাকবে বিশ্বখ্যাত কুয়াকাটা।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর ফসিউর রহমান জানান, ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পর্যটন এলাকা জুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যাবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পুলিশের টহলরত একটি ভ্রাম্যমান দল সার্বক্ষনিক পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত রয়েছে। সাথে গোয়েন্দা সদস্যদের একটি দল মাঠে কাজ করছে। পর্যটকদের সতর্কভাবে সাগরে গোসল করার জন্য জিরো পয়েন্টে মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়া সাগরে যেকোন পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্পিড বোট ও ওয়াটার বাস রাখা হয়েছে।

বিডি-প্রতিদিন/এস আহমেদ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow