Bangladesh Pratidin

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৯:৩৬
টাম্পাকো ট্র্যাজেডি, ধ্বংসস্তূপ ভবনে উদ্ধার কাজ চলছে
মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন
আফজাল হোসেন, টঙ্গী
টাম্পাকো ট্র্যাজেডি, ধ্বংসস্তূপ ভবনে উদ্ধার কাজ চলছে

গাজীপুরের টঙ্গী বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় টাম্পাকো ফয়েলস প্যাকেজিং কারখানায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নি দুর্ঘটনায় ধ্বংসস্তূপ ভবনে উদ্ধার কাজ চলছে। ঘটনার পর থেকে সেনাবাহিনীর সদস্য ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ৩৪ জনের লাশ উদ্ধার করেন।

এর মধ্যে ৩০ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে তিনজনের মৃতদেহ ঘটনাস্থল থেকেই তার স্বজনরা নিয়ে যান। বাকি ১জনের লাশ সনাক্ত না হওয়ায়  ঢামেক হাসপাতাল মর্গে পড়ে আছে।  নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই সিলেটবাসী। আজ শনিবার পর্যন্ত আর কোন লাশ উদ্ধার করতে পারেনি উদ্ধার কর্মীরা।  

এদিকে, সেনাসদস্য ও পুলিশ কারখানার চারপাশ ঘিরে রেখেছে। কারখানার পূর্ব পশ্চিমে শাখা সড়কে জনসাধারণের চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। প্রতিদিন স্থানীয় এমপি জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর সিটি মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ ঘটনাস্থলে গিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেন। এ ঘটনায় আহত শ্রমিকরা বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে জেলা প্রশাসন কর্তৃক দেয়া কন্ট্রোলরুমে এসে নাম নিবন্ধন করান। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহত ১৫ জনকে ১০ হাজার টাকা এবং নিহত দুইজনকে ২০ হাজার টাকা অর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে।  

অপরদিকে, নিখোঁজ শ্রমিকের স্বজনরা সূর্য ওঠার পূর্বেই কারখানার পাশে এসে হাজির হন। কখন তার স্বজনকে ফিরে পাবেন সেই অপেক্ষায় দিন কাটান।  

এছাড়া টঙ্গীতে টাম্পাকো কারখানায় অগ্নি দুর্ঘটনার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেন কারখানার অন্য শ্রমিকরা। কারখানা মালিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শনিবার সকালে টঙ্গী-ঘোড়াশাল সড়কের আহসান উল্লাহ মাস্টার উড়াল সেতুর নিচে রেলগেইট এলাকায় এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালক করেন কারখানার শ্রমিক-কর্মচারীরা। এসময় শত শত শ্রমিকরা কালো ব্যাজ ধারণ করে বিভিন্ন ফেস্টুন, ব্যানার হাতে নিয়ে 'মালিক বাঁচলে আমরা বাঁচবো', 'টাম্পাকোর পরিবার বাঁচাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সাহায্য চাই' এমন স্লোগান দেন। এসময় শ্রমিকরা টাম্পাকো কারখানাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানান।  
 
মানববন্ধনে অংশ নেয়া শ্রমিক সামিউল হোসাইন, মিজান, আক্তারুজ্জামান, সিপনসহ বেশ কয়েকজন শ্রমিক জানান, আমাদের মালিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আমরা মানববন্ধন করেছি। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে। গ্যাস রাইজার বিস্ফোরণ হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। বয়লার বিস্ফোরণ হয় নাই। আমাদের এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বিকম মতি সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছেন।  

তিতাস গ্যাস টঙ্গী জোন ম্যানেজার অজিত চন্দ্র দেব বলেন, গ্যাস রাইজার বিস্ফোরণ হওয়ার কোন সুযোগ নেই। এটি মিথ্যা।  

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(আইসিটি ও শিক্ষা) মো.ইফতেখার উদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিসিক কার্যালয়ের পাশে একটি কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়েছে। সকাল  ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এখানে হতাহতদের নামের নিবন্ধন এবং বিভিন্ন তথ্যাদি নিহতের স্বজন ও আহতদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ বিভাগের সহ-পরিচালক মো. নূর-ইসলাম বলেন, ধ্বংসস্তূপ ভবনে উদ্ধার কাজ চলছে। শনিবার পর্যন্ত উদ্ধার কর্মীরা প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন (ডিজাব) বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। তবে কবে নাগাদ এ উদ্ধার কাজ শেষ হবে তা বলা যাচ্ছে না।

গাজীপুর সিটি মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ বলেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এর পক্ষ থেকে একটি তথ্য সেবা কেন্দ্র চালু রয়েছে। সেখানে হতাহতের নামের তালিকা প্রস্তত হচ্ছে।  

স্থানীয় এমপি জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, আমি একটু সময় পেলেই ছুটে আসি ঘটনাস্থলে। এসে উদ্ধারকর্মীদের এবং সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ খবর নেই। আমি মনে করি গাজীপুরে এত বড় দুর্ঘটনা আর কখনো ঘটেনি। এ ঘটনার খবরে শুধু টঙ্গী, গাজীপুর নয়, সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে আসে।  

 

বিডি-প্রতিদিন/ ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬/ আফরোজ

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow