Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:০১
শেষ হল কলাপাড়া ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ধাপের কাজ
কলাপাড়া, পটুয়াখালী প্রতিনিধি
শেষ হল কলাপাড়া ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ধাপের কাজ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। প্রকল্প এলাকায় বেড়িবাঁধ ও বালুভরাটর, হেলিপ্যাড, ওয়াচ টাওয়ার ও ভিভিআইপি গেষ্টহাউস নির্মাণ সহ প্রথম ধাপের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপের কাজকে ঘিরে উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের প্রকল্প এলাকায় চলছে ব্যাপক কর্মযজ্ঞ।

বর্তমানে প্রায় দেড় শতাধিক চায়নার শ্রমিকরা টেষ্ট পাইলিং ও মাটি প্রটেকশনের কাজে ব্যস্ত রয়েছে। এদিকে চায়না শ্রমিক ও সার্বিক নিরাপত্তার জন্য বসানো হয়েছে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প। পায়রা সমুদ্র বন্দরসহ দেশের বিদ্যুতের চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে এ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
 
তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সূত্র হতে জানা গেছে, নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি,বাংলাদেশ এবং চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট এন্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন (সিএমসি) যৌথভাবে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু করে। প্রায় এক হাজার দুই একর ভূমি অধিগ্রহণ ও ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ “ল্যান্ড অ্যাকুইজেশন, ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড প্রটেকশন ফর পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট থার্মাল পাওয়ার প্লান্ট’ শীর্ষক এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৮২ কোটি ৬২ লাখ টাকা। ২০১৯ সালের মধ্যে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্প এলাকায় উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের মধুপাড়া ও নিশানবাড়িয়া মৌজার মরিচবুনিয়া, দাসের হাওলা, মাছুয়াখালি, গরাৎ খাঁ, চর নিশানবাড়িয়া ও মধ্য দাসের হাওলা গ্রামের ১৩৫ টি ঘর সরানো হয়েছে। এছাড়া ওইসব গ্রাম গুলোর অন্তত: ১২০০ পরিবারের প্রায় এক হাজার একর কৃষি জমি অধিগ্রহন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে যে, বালু ভরাট, চারপাশের বাধ প্রায় ৭০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বাউন্ডারি ওয়াল, মাটি প্রটেকশন, টেষ্ট পাইলিং, রাবনাবাধ নদী সংলগ্ন অস্থায়ী জেটী ও ক্ষতিগ্রস্তদের আবাসনের কাজ চলছে। এজন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে চায়না শ্রমিকরা বিরামহীন ভাবে কাজ করছেন।

তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের এন ই পি সি প্রকৌশলী মি. টম জানান, 'পরিকল্পনা অনুযায়ী শ্রমিক এখানে কাজ করছে। এখানের পরিবেশ খুবই ভাল, এলাকার লোকেরাও সহযোগিতা করছে। আমাদের কাজে কোন সমস্যা হচ্ছে না'।
 
প্রকল্পের উপ-প্রকৌশলী মো.নাজমুল হক জানান, 'দ্রুত গতিতে কাজ চলছে। প্রতিদিন চায়না প্রতিনিধিদের সাথে কাজের বিষয়ে আলোচনা হয়'।

বাংলাদেশ-চায়না পাওয়ার কোম্পানী প্রাইভেট লিমিটেড এর সহকারি প্রকৌশলী জর্জিস তালুদার বলেন, 'প্রকল্প এলাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের আবাসনের কাজ চলছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ১৩৫টি পরিবারকে পূর্ণবাসন করা হবে। আশা করি ২০১৯ সালের মধ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে জাতীয় গ্রীডে বিদ্যুৎ দেয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন'।

 

বিডি-প্রতিদিন/তাফসীর

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow