Bangladesh Pratidin

ঢাকা, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৮:২২
এবার এমপি রানার ফাঁসির দাবিতে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন
ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
এবার এমপি রানার ফাঁসির দাবিতে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন

টাঙ্গাইল-৩(ঘাটাইল) সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা ফাঁসির দাবিতে এবার মানববন্ধন করেছে ঘাটাইল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। এমপি রানা পলাতক থাকার ২ বছরের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলার আসামিদের ফাঁসির দাবি নিয়ে মাঠে নামলো ঘাটাইল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ।

গত রবিবার সকালে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে হাজির হয়ে জামিনের জন্য আবেদন করেন এমপি রান। পরে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া তার জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এরপর সোমবার মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় এমপি রানাসহ সব আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।

পরদিন আজ মঙ্গলবার ঘাটাইল উপজেলা পরিষদ গেটের সামনে টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ২ ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ মানববন্ধনে একত্বতা ঘোষণা করে যোগ দেন ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অংগসংগঠনের নেতারা। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে এমপি রানার ফাঁসির দাবিতে মানবপ্রাচীর তৈরি করা হয়।

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঘাটাইল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার তোফাজ্জল হোসেন, ডিপুটি কমান্ডার শাহনেওয়াজ, ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম লেবু, আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও পৌর সভার সাবেক মেয়র হাসান আলী, যুগ্ন-আহ্বায়ক ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম মিয়া, যুগ্ন-আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান আজাদ, ঘাটাইল পৌর মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ন-আহ্বাবায়ক শহিদুজ্জামান খান ভিপি শহীদ, আওয়ামী লীগ নেতা মজিবর রহমান, ঘাটাইল ইউপি চেয়ারম্যান হায়দার আলীসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতা কর্মী ও সর্বস্তরের জনগণ। বক্তারা এমপি রানাকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যার বিচারের দাবি জানান।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি টাঙ্গাইলের আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ কলেজ পাড়ায় তার নিজ বাসায় সামনে পাওয়া যায়। ৩ দিন পর ২১ জানুয়ারি তার স্ত্রী নাহার আহমেদ বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে থানা পুলিশ ও পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মামলা তদন্ত করেন।

২০১৪ সালে মামলার আসামি আনিছুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আলীকে গ্রেফতার করে পুশিল। আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তাদের জবানবন্দিতে রানা ও তার অপর ৩ ভাই জড়িত থাকার বিষয়টি ওঠে আসে। চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি সাংসদ আমনুর ও তার ৩ ভাইসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। ৬ এপ্রিল আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতক আমানুর রহমানসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর ১৭ মে ১০ জনের বিরুদ্ধে হুলিয়া ও মালামাল ক্রোকের নির্দেশ দেন আদালত। ২০ মে পুলিশ সাংসদের টাঙ্গাইল শহরে অভিযান চালিয়ে মালামাল জব্দ করে। সর্বশেষ আসামিরা হাজির না হওয়ায় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়ার নির্দেশ দেয় আদালত।

বিডি-প্রতিদিন/২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬/মাহবুব

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow