Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৯:১৩
পর্যটকদের নজর কেড়েছে রোজির তৈরি বাহারি খাবার
উত্তম কুমার হাওলাদার, কলাপাড়া
পর্যটকদের নজর কেড়েছে রোজির তৈরি বাহারি খাবার

সংসারের গণ্ডি পেরিয়ে নারী এখন অধিকার অর্জনে নিজের ওপর নির্ভরশীল হতে শিখেছে। পুরুষের সমান তারাও পারদর্শী- এটা অনেক নারীই প্রমাণ করেছেন। তাদেরই একজন লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জের বাসিন্দা রোক্সানা ইয়াছমিন রোজী।  

ভারত, নেপাল, চীন ও মালেশিয়া ভ্রমণ শেষে রোজী গড়ে তুলেছেন কুয়াকাটা সি বিচ ফুডস্ নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সৈকতে ওই সব দেশের বাহারি খাবার তৈরি ও বিক্রি করে সকলের নজর কেড়েছেন। স্নাতক পাস এ নারী এখন স্বশিক্ষিত, অল্প শিক্ষিত বা উচ্চ শিক্ষিত নারীদের স্বাবলম্বী হওয়ার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।  

স্থানীয় ও পর্যটকরা জানান, রকমারি খাবার স্বাদ নিতে প্রতিদিনই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ভিড় জমে দোকানে। রোজির তৈরি খাবারের তালিকায় রয়েছে শর্মা, মম, স্যান্ডউইচ, রাজকাচুরি, পাস্তা, সচেস, মিল্ক শেক, বার্গার, চিকেন ফ্রাই, শিক কাবাব, বারবিকিউ। এছাড়াও রয়েছে ফুসকা, নুডুলস, স্যুপ, হালিম, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিকেন পুলি, ফালুদা, চাট ও কফি। সব খাবারের দামই ১৫ টাকা থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।  

দোকানে বসে রোজীর সাথে কথা হয়। তিনি বলেন, চার ভাই বোনের মধ্যে সবার বড় তিনি। স্বামী মনোয়ার হোসেন বাপ্পি থাকেন বিদেশে। চাকুরির সুবাদে সে বেশ কয়েকটি দেশে ভ্রমণ করেছেন। যেখানেই গিয়েছেন সেখানকার রান্না সম্পর্কে জেনেছেন, শিখেছেন তা কীভাবে তৈরি করতে হয়। নির্ভরশীল হতে সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েছেন। প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয়ে সৈকতে গড়ে তুলেছেন কুয়াকাটা সি বিচ ফুডস্।  

জানালেন, ভালই চলছে ব্যবসা। সৈকতের আশপাশে ভাল জায়গা পেলে ব্যবসার পরিধি আরো বড় করারও ইচ্ছে আছে।  

রোজীর সি বিচ ফুডস্ বসে কথা হয় ঢাকা থেকে সপরিবারে আসা মোনালিসার সাথে। তিনি বলেন, খাবারগুলো ভালো। এখানে এধরনের খাবার পাওয়া যায় তা জানা ছিল না।  

পর্যটক বোরহান উদ্দিন বলেন, সৈকতে ছোট ছোট অনেক খাবারের দোকান রয়েছে। এ দোকানটি বেশ আলাদা। কারণ এখানে একাধিক দেশের খাবার গ্রহণের সুবিধা রয়েছে।  

কুয়াকাটা খানাবাদ ডিগ্রী কলেজের বাংলা বিষয়ের প্রভাষক মো.শাহ্বুদ্দিন হাওলাদার জানান, এভাবে শিক্ষিত নারীর সৈকতে মানসম্মত দেশি-বিদেশি খাবার তৈরি ও বিক্রির ঘটনা এই প্রথম। আশা করি এটি দেখে স্থানীয় নারীরাও ব্যবসায়ে উদ্যোগী হবেন।  

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা জোনের সহকারি পুলিশ সুপার মীর ফসিউর রহমান জানান, সৈকতে যে সকল নারীরা ব্যবসা করেন তাদের সার্বিক নিরাপত্তায় আমাদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হয়।  

 

বিডি প্রতিদিন/২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬/ফারজানা

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow