Bangladesh Pratidin

ঢাকা, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১২:৪২
রৌমারীতে দম্পতি খুন; এজহারে আসামির নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ
সাখাওয়াত হোসেন সাখা, রৌমারী (কুড়িগ্রাম)
রৌমারীতে দম্পতি খুন; এজহারে আসামির নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ

কুড়িগ্রামের রৌমারীতে দম্পতি খুনের ঘটনায় দায়ের করা এজাহার থেকে এক আসামির নাম বাদ দিতে পুলিশ বাদীকে বাধ্য করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।

গত রবিবার রাতে রৌমারীর বন্দবেড় ইউনিয়নের বাইটকামারী গ্রামে ঘরে ঢুকে শিশু সন্তানের সামনে কুপিয়ে গোলাম হোসেনকে এবং শ্বাসরোধে তার স্ত্রী শিল্পী খাতুনকে হত্যা করা হয়। পরদিন সোমবার সকালে তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিন রাতেই নিহত শিল্পীর বাবা আব্দুস সাত্তার বাদী হয়ে রৌমারী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত পরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

আসামিরা হলেন- একই গ্রামের শরীয়ত উল্যাহর ছেলে আব্দুল আউয়াল (২৮) ও শামছুল হক (২৭), কালু শেখের ছেলে সানা উল্লাহ (২৬) ও আবুল হোসেনের ছেলে মাজম আলী (২৬)। তবে এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

বাদী আব্দুস ছাত্তারের অভিযোগ করেন, আরেক আসামি কামরুল ইসলামের নাম এজাহারে দিতে চাইলেও পুলিশ সেটা বাদ দিতে বাধ্য করেছে। কামরুলের বাবা আব্দুল কাদের বন্দবেড় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার।

বাদী বলেন, কামরুলের নাম বাদ দেওয়ার পরই কেবল পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করে। তার অভিযোগ, আব্দুল কাদেরের প্রভাবের কারণে কামরুলের নাম বাদ দিতে পুলিশ তাকে বাধ্য করেছে।

তবে, গোলাম-শিল্পী দম্পতি হত্যাকাণ্ডে তার ছেলে জড়িত থাকতে পারে না বলে দাবি করেছেন আব্দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে থাকে রংপুরে। ঈদের পরের দিনই সে রংপুরে চলে গেছে। সে তো রৌমারীতে নেই। মিথ্যাভাবে তাকে কেন জড়ানো হবে। ’

গত ২২ জুন নিহত শিল্পী খাতুন রৌমারী থানায় পাঁচ বখাটের বিরুদ্ধে তাকে উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ করেন। এই পাঁচজনের মধ্যে কামরুলও ছিলেন। পুলিশ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে ২৮ জুন শিল্পী কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কামরুলের বাবা আব্দুল কাদের বলেন, ‘আগের অভিযোগে নাম থাকলে কী হবে। আমার ছেলে ভালো হয়ে গেছে। এলাকার কারো সঙ্গে তার যোগাযোগ নেই। ’

এ বিষয়ে রৌমারী খানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবি সাজেদুল ইসলাম বলেন, যে চারজনের নাম এজহারে উল্লেখ করা হয়েছে তাদের গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে। তদন্তে নতুন কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিডি-প্রতিদিন/২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬/মাহবুব

 

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow