Bangladesh Pratidin

ঢাকা, শুক্রবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০১৬

প্রকাশ : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২০:২০
রুট পারমিট ছিল না লঞ্চটির, তদন্ত কমিটি গঠন
রাহাত খান, দাসেরহাট (বানারীপাড়া) থেকে
রুট পারমিট ছিল না লঞ্চটির, তদন্ত কমিটি গঠন

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার দাসেরহাট বাজার সংলগ্ন সন্ধ্যা নদীতে ডুবে যাওয়া যাত্রীবাহী এমএল ঐশী-২ নামে লঞ্চটির রুট পারমিট ছিল না বলে জানা গেছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে দুর্ঘটনার কবলে পড়া ওই লঞ্চে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস এবং বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকর্মীরা।

এ লঞ্চডুবির ঘটনায় আরো ১৫ জন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ’র পরিদর্শক মো. রিয়াদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ডুবে যাওয়া লঞ্চ এমএল ঐশী-২’র কোনো রুট পারমিট ছিল না।

এদিকে সার্বিক দুর্ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেনকে প্রধান করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বানারীপাড়া পৌর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মো. ইউসুফ আলী হাওলাদারের মালিকানাধীন অননুমোদিত লঞ্চটি বুধবার সকাল ১১টার দিকে প্রায় ৩০ জন যাত্রী নিয়ে পাশ্ববর্তী উপজেলা উজিরপুরে হাবিবপুরের উদ্দেশে যাচ্ছিল। সকাল সাড়ে ১১টায় ছোট আকারের এ লঞ্চটি বানারীপাড়া উপজেলার দাসেরহাট বাজার সংলগ্ন রাজারখালের মোহনায় সন্ধ্যা নদী তীরে যাত্রা বিরতি দেয়। এসময় কিছু যাত্রী উঠানামা করেন। এরপর লঞ্চটি পেছনের দিকে চালিয়ে ঘোরানোর সময় নদীর পাড় ভেঙে একটি বিশাল মাটির চাপ (খণ্ড) লঞ্চটির সামনের অংশে পড়ে। এতে লঞ্চটি এক দিকে কাত হয়ে ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই ৪-৫ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন।

যাদের মধ্যে বানারীপাড়ার আলেয়া বেগম একজন। তিনি এবং তার স্বামী জয়নাল হাওলাদার দাসেরহাট ঘাট থেকে ওই লঞ্চে উঠেন। দুর্ঘটনার সময় আলেয়া সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও তার স্বামী নিখোঁজ হন। সন্ধ্যার আগ মুহুর্তে জয়নালের মরদেহ উদ্ধার করেন ডুবুরিরা। আলেয়া কিভাবে তীরে উঠেছেন তা তিনি বলতে পারছেন না। তবে তার মাথাসহ সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

জয়নালসহ মোট ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন শিশু, ৫ জন নারী এবং ৭ জন পুরুষ রয়েছেন। এদের মধ্যে ৮ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে।

তারা হলেন- হারতা বাজারের সুখদেব মন্ডল, মসজিদ বাড়ির রাবেয়া খাতুন ও মোজাম্মেল মোল্লা, জিরাকাঠীর রূপা বেগম, সাতবাড়িয়ার সাগর মীর ও ফিরোজা বেগম, মীরাবাড়ির রেহানা বেগম এবং সাতলার জয়নাল হক।

বানারীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল আহসান জানান, পুলিশের নিখোঁজ তালিকায় স্বজনরা ২৮ জনের নাম লিখিয়েছেন। এর মধ্যে ১৩ যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের স্বজনরা শনাক্ত করে মরদেহগুলো নিয়ে গেছেন।

বরিশালের জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চে ৫০ থেকে ৬০ জন যাত্রী ছিল। সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত করে বিনা ময়না তদন্তে নিয়ে গেছেন। মরদেহগুলো দাফনের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থ সাহায্য দেয়া হয়েছে।

এদিকে সার্বিক ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসেনকে প্রধান করে ৯ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. ফারুক হোসেন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাদের একটি দল দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। ডুবে যাওয়া লঞ্চের অবস্থান শনাক্ত করা হয় দুপুর ২টার দিকে। এরপর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে ১৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রাতে উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়।

বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর সন্ধ্যা নদীতে লঞ্চটির অবস্থান শনাক্ত করার পর জেলা সদরের কীর্তনখোলা নদীতে অবস্থানরত উদ্ধারকারী জাহাজ নির্ভীক দুর্ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ উদ্ধারকারী জাহাজ দুর্ঘটনাস্থানে এসে পৌঁছবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধারকারী জাহাজ উদ্ধার অভিযান শুরু করবে বলে নদী বন্দর কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

এদিকে দুর্ঘটনায় হতাহতদের স্বজনদের সমবেদনা জানাতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ এমপি ও সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় এমপি অ্যাডভোকেট তালুকদার মো. ইউনুস দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা নিখোঁজ এবং হতাহতদের স্বজনদের সমবেদনা জানিয়েছেন।

বিডি-প্রতিদিন/ ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬/ এনায়েত করিম

আপনার মন্তব্য

সর্বশেষ খবর
up-arrow